দশ বছরের কম সময়ে আগে সমুদ্রতলের মাত্র 6% ম্যাপ করা হয়েছিল। আজ তা ইতিমধ্যেই 26% হয়েছে। হ্যাঁ, এটা একটি বিশাল পদক্ষেপ: কারণ মহাসাগরের 1% প্রায় 4 মিলিয়ন km² এর সমান।
সী-বেড ২০৩০: মহাসাগর যা অবশেষে দৃশ্যমান হচ্ছে
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
২০২৬ সালের শুরুতে, 'সী-বেড ২০৩০' (Seabed 2030) প্রকল্পটি এক নতুন গতি লাভ করেছে। এই উদ্যোগের অগ্রগতিতে সহায়ক হিসেবে, ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে, তারা 'ইউনিভার্সিটি অফ প্লাইমাউথ'-এর সাথে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি 'নিপ্পন ফাউন্ডেশন' এবং 'জিইবিসিও' (GEBCO)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি 'জাতিসংঘ মহাসাগর দশক'-এর অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত।
এই মুহূর্তে এই উদ্যোগটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা জরুরি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থাৎ ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ, মাত্র ২৬.১ শতাংশ সামুদ্রিক তলদেশ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রাঙ্কন করা সম্ভব হয়েছে। এর অর্থ হলো, পৃথিবীর জলভাগের বিশাল অংশ—যা জলবায়ু প্রক্রিয়া, জীববৈচিত্র্য এবং ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির মূল ভিত্তি—তা কার্যত আমাদের দৃষ্টির আড়ালেই রয়ে গেছে, যেন এক অদৃশ্য জগৎ।
নতুন এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো এই বিশাল তথ্যগত ব্যবধান দ্রুত পূরণ করা। ইউনিভার্সিটি অফ প্লাইমাউথ, যা ইউরোপের অন্যতম প্রধান সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এই প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের অবদান বহুমুখী হবে এবং এর মাধ্যমে তথ্য ভান্ডারের সমৃদ্ধি ঘটবে।
ইউনিভার্সিটি অফ প্লাইমাউথের অবদান
এই অংশীদারিত্বের অধীনে, ইউনিভার্সিটি অফ প্লাইমাউথ নিম্নলিখিত কাজগুলি সম্পাদন করবে:
- উচ্চ নির্ভুলতার সাথে গভীরতা পরিমাপের তথ্য (Bathymetric Data) সরবরাহ করা হবে।
- স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং দূর সংবেদন (Remote Sensing) প্রযুক্তিকে ডেটা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় একীভূত করা হবে।
- 'সী-বেড ২০৩০'-এর মানচিত্র তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত 'জিইবিসিও'-এর বৈশ্বিক ডেটা নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করা হবে।
এই সহযোগিতা কেবল তথ্য আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমুদ্রবিদ্যা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং মহাসাগরীয় মডেলিংয়ের অগ্রগতিতে সরাসরি সহায়তা করবে, যা সমুদ্রের তলদেশের গতিশীলতা বোঝার জন্য অপরিহার্য। এই পদক্ষেপগুলি সমুদ্রের অজানা রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হবে।
শিক্ষার মাধ্যমে মিশন প্রসার
এই অংশীদারিত্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো নতুন প্রজন্মের বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। ইউনিভার্সিটি অফ প্লাইমাউথ এই প্রকল্পের সুযোগ ব্যবহার করে বেশ কিছু শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে সমর্থন করছে:
- সমুদ্র গবেষণা সংক্রান্ত স্নাতক (Bachelor’s) প্রোগ্রামগুলিকে সহায়তা করা হচ্ছে।
- হাইড্রোগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর (Master’s) কোর্সগুলিকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।
- এছাড়াও, ২০২৫ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া 'গার্লস ইন ওশান সায়েন্স' উদ্যোগকে জোরদার করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের ব্যবহারিক সমুদ্র বিজ্ঞানে উৎসাহিত করা।
সী-বেড ২০৩০ প্রকল্পের পরিচালক, জেমি ম্যাকমাইল-ফিলিপস, এই প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই উদ্যোগ কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং সমুদ্র সম্পর্কে একটি গভীর সাংস্কৃতিক বোধ গড়ে তোলার বিষয়েও আলোকপাত করে। তিনি মনে করেন, সমুদ্রকে জানতে হলে তাকে আগে দেখতে হবে।
'জিইবিসিও' হলো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা যার অধীনে সমগ্র সমুদ্রের তলদেশ মানচিত্রাঙ্কনের ম্যান্ডেট রয়েছে। এই সংস্থাটি 'আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন' এবং 'ইউনেস্কো ইন্টারগভর্নমেন্টাল ওশেনোগ্রাফিক কমিশন'-এর যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে সমন্বিত হয়। গত এক বছরে, এই প্রকল্পটি ৪.৩৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার নতুন তথ্য যুক্ত করেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট আয়তনের প্রায় সমতুল্য—এটি এক বিশাল অগ্রগতি।
এই তথ্য সংগ্রহ পৃথিবীর গভীরতার বিষয়ে এক নতুন স্বচ্ছতা আনছে। মহাসাগর আর কেবল একটি বিমূর্ত শক্তি থাকবে না, বরং এটি একটি পাঠযোগ্য স্থান হয়ে উঠবে—নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং সচেতন সহাবস্থানের জন্য। গ্রহটিকে যত্ন করতে হলে, প্রথমে তাকে দেখতে হবে। আর 'সী-বেড ২০৩০' ঠিক সেই কাজটিই করছে, স্তর ধরে ধরে, মিটার ধরে ধরে অজানা দিগন্ত উন্মোচন করছে।
উৎসসমূহ
Ocean News & Technology
Marine Technology News
University of Plymouth
Mirage News
University of Plymouth Research Portal
University of Plymouth
