Kongsberg Discovery-র নতুন EM2042 DR600 এবং EM2042 BNS ইকোসাউন্ডার উন্মোচন

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

নেভি মানচিত্রগুলো ঠিক এবার Australia এবং South America এর মধ্যে কী রয়েছে তা প্রকাশ করেছে — এ কারণেই জাহাজগণ কখনও অতিক্রম করে না

নরওয়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কংগসবার্গ ডিসকভারি (Kongsberg Discovery) তাদের অত্যাধুনিক EM2042 মাল্টি-বিম ইকোসাউন্ডারের দুটি নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে। এই উদ্ভাবনগুলো মূলত গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামরিক বাহিনীর বিশেষ প্রয়োজনে অত্যন্ত নির্ভুল মানচিত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে ডিজাইন করা হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে মহাসাগরীয় গবেষণা এবং সমুদ্রতলের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য বিস্তারিত হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে মাথায় রেখেই নতুন প্রযুক্তিগুলো তৈরি করা হয়েছে।

EM2042 DR600 নামক সংস্করণটি বিশেষভাবে গভীর সমুদ্রের রোবোটিক সিস্টেমের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত স্বায়ত্তশাসিত আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV) এবং দূরনিয়ন্ত্রিত আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (ROV)-এর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

এই নতুন DR600 সংস্করণের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে এর ৬০০ মিটার পর্যন্ত গভীরতায় কাজ করার অসামান্য সক্ষমতা। এর টাইটানিয়াম বডি পানির নিচের চরম চাপ সহ্য করতে সক্ষম এবং এটি অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ডেটা সরবরাহ করে।

স্বায়ত্তশাসিত যন্ত্রের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। EM2042 DR600 অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচ করে, যা দীর্ঘমেয়াদী সমুদ্র অভিযানের জন্য একে আদর্শ করে তুলেছে।

কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজার হোসে কর্ডেরো (Jose Cordero) এই প্রযুক্তি সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। তার মতে, এই সিস্টেমটি ব্যবহার করে অপারেটররা গভীর সমুদ্রের দুর্গম অঞ্চলেও বিশ্বমানের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।

এই উন্নত সিস্টেমগুলো বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালনা
  • সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন
  • মহাসাগরের মানচিত্রহীন অঞ্চলগুলোর বিস্তারিত ম্যাপিং
  • পানির নিচের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন

দ্বিতীয় নতুন সংস্করণটি হলো EM2042 BNS, যা মূলত অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যেখানে তথ্যের স্থায়িত্ব এবং দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে এই সিস্টেমটি অতুলনীয়।

মহাসাগরীয় পর্যবেক্ষণ এবং নেভিগেশনাল স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে BNS সংস্করণটি কেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, তার কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো:

এটি উচ্চ-নির্ভুল বাথিমেট্রি এবং কো-রেজিস্টার্ড ব্যাকস্ক্যাটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে সমুদ্রতলের গঠন এবং সেখানে ঘটে যাওয়া যেকোনো সূক্ষ্ম পরিবর্তন, যেমন মাটির স্থানান্তর বা নতুন বস্তুর উপস্থিতি সহজেই ধরা পড়ে।

এই সিস্টেমটি পানির কলামের (water column) তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে পানির স্তরের ভেতরে থাকা যেকোনো অস্বাভাবিকতা বা লক্ষ্যবস্তু এবং সামগ্রিক পরিবেশের পরিবর্তনগুলো রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

EM2042 BNS-এ ১৫০ থেকে ৭০০ কিলোহার্টজ (kHz) পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হয়েছে। এর সাথে যুক্ত উন্নত মোশন স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি দ্রুতগামী জাহাজেও তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

এর একক তারের বা সিঙ্গেল-কেবল আর্কিটেকচার ইনস্টলেশন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে। এটি বিশেষ করে ছোট আকারের ইন্টিগ্রেশন এবং পানির নিচের বাহকগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান।

উভয় নতুন মডেলই মূলত স্ট্যান্ডার্ড EM2042 আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম এবং জাহাজের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।

এই প্রযুক্তিগুলোতে ৪ডি মোশন কমপেনসেশন (4D Motion Compensation) ব্যবস্থা রয়েছে। এটি সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যেও সেন্সরের অবস্থান নিখুঁত রেখে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।

এছাড়াও, সিস্টেমগুলো কোয়াডসোয়াথ (QuadSwath) প্রযুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তথ্য সংগ্রহের পরিধি অনেক বেড়ে যায়, যা বড় আকারের ম্যাপিং প্রজেক্টগুলোকে দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

এই উন্নত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের ফলে তথ্য সংগ্রহের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি বিভিন্ন মহাসাগরীয় পরিবেশে মানচিত্র তৈরির নির্ভুলতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে বিশ্বের মহাসাগরগুলোর একটি বিশাল অংশ মানুষের কাছে অজানা। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রতলের মাত্র এক-চতুর্থাংশেরও কম অংশ এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে ম্যাপ করা সম্ভব হয়েছে।

এই বিশাল শূন্যতা পূরণে নতুন এই সিস্টেমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে।

নতুন এই সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষা এবং সমুদ্রগর্ভস্থ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। এটি স্বায়ত্তশাসিত আন্ডারওয়াটার ভেহিকলগুলোর সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

কংগসবার্গ ডিসকভারি তাদের এই নতুন উদ্ভাবনগুলো লন্ডনে আয়োজিত ওশেনোলজি ইন্টারন্যাশনাল (Oceanology International) প্রদর্শনীতে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে।

সমুদ্রের রহস্য উন্মোচনে এই প্রযুক্তিগুলো মানবসভ্যতার জন্য এক নতুন আশীর্বাদ। এক সময় যা ছিল অন্ধকার এবং অজানা, এখন তা ধীরে ধীরে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মানুষ এখন কেবল সমুদ্রের উপরিভাগ নয়, বরং এর গভীরতম প্রদেশের রূপ এবং প্রকৃতি বুঝতে শিখছে। প্রতিটি সোনার পালস যেন সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে আসা এক একটি নতুন উত্তর।

প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা আমাদের মহাসাগরগুলোকে আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Ocean News & Technology

  • Engineer Live

  • Kongsberg Discovery

  • Marine Technology News

  • Cyprus Shipping News

  • Offshore Engineer Magazine

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।