সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ (SGI): ১০ বিলিয়ন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মরুভূমিকে সবুজে ঘেরার এক উচ্চাভিলাষী মহাপরিকল্পনা

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

সৌদি আরব তার 'ভিশন ২০৩০' (Vision 2030) এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে 'সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ' (SGI) নামক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পরিবেশগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো দেশটির বিশাল শুষ্ক ও মরু অঞ্চলে ১০ বিলিয়ন গাছ রোপণ করা। এই দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল মরুভূমি বিস্তার রোধ করতেই চায় না, বরং শহরের তাপমাত্রা ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে এনে 'আরবান হিট আইল্যান্ড' প্রভাব প্রশমিত করতে এবং অবক্ষয়িত ভূমি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, SGI-এর আওতায় ইতোমধ্যে ১৫১ মিলিয়নেরও বেশি গাছ লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন গাছ লাগানোর অন্তর্বর্তীকালীন লক্ষ্যমাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা শেষ পর্যন্ত ১০ বিলিয়ন গাছের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পানির তীব্র সংকট। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম পানি-স্বল্পতার দেশ হিসেবে সৌদি আরবের জন্য এত বিশাল বনাঞ্চলে সেচ প্রদান করা একটি কঠিন কাজ, যা বিদ্যমান প্রাকৃতিক পানির উৎসের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্রক্রিয়ার ওপর দেশটির ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ এই প্রযুক্তি অত্যন্ত শক্তি-নিবিড়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০ বিলিয়ন গাছ পালনের জন্য যে পরিমাণ পরিশোধিত পানির প্রয়োজন হবে, তা ২০২২ সালে সৌদি আরবের দৈনিক উৎপাদিত লবণমুক্ত পানির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান। ২০২৩ সালে দেশটির মোট পানি সরবরাহের ৫০ শতাংশই ছিল লবণমুক্ত পানি, যা ২০২২ সালের ৪৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব তার মোট পানির চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পূরণ করে আসছে।

পানির এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় এবং খরা-সহনশীল প্রজাতির গাছ নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য গাছগুলো হলো:

  • তামারিস্ক (Tamarix aphylla)
  • বাবলা (Acacia)
  • জুনিপার
  • সিদর এবং গাফ গাছ

বিশেষ করে সাকসাউল বা 'আল-গাধা' গাছ দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে এবং মরুভূমির চরম উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকতে সক্ষম। এছাড়া SGI-এর কৌশল হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য নতুন নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ করা যায়। পাশাপাশি রিয়াদ, জেদ্দা এবং মদিনার মতো বড় শহরগুলোতে বনায়ন কর্মসূচির জন্য পরিশোধিত বর্জ্য পানি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এর একটি অনন্য উদাহরণ হলো ভবিষ্যৎমুখী শহর 'নিওম' (NEOM), যেখানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে পানি লবণমুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫টি বিভিন্ন সংস্থা এই প্রকল্পের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ৭৫টি বেসরকারি অংশীদার এবং ২০টি অলাভজনক সংস্থা রয়েছে। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৪০ মিলিয়ন হেক্টর অবক্ষয়িত ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা 'ভিশন ২০৩০' এর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সৌদি আরবের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন ঘটায়।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • CPG Click Petróleo e Gás

  • Al Jazeera

  • The Times of India

  • Alisson Ficher (Source on Google Search)

  • Farmonaut

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।