নাসার দীর্ঘস্থায়ী বৈজ্ঞানিক বেলুন উৎক্ষেপণ কর্মসূচি আবার অ্যান্টার্কটিকার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই অভিযানটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ম্যাক-মার্ডো স্টেশনের নিকটবর্তী একটি স্থান থেকে, যা রস আইস শেল্ফের ওপর অবস্থিত। এই বিশেষ অভিযানটি জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা এবং বিশ্বতত্ত্বের মৌলিক প্রশ্নগুলির সমাধান করার লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সহায়ক হবে: ‘আল্ট্রা হাই এনার্জি অবজারভেশন ডিটেক্টর’ (PUEO) এবং ‘গামা অ্যান্টিপার্টিকেল স্পেকট্রোমিটার’ (GAPS)।
'Tis the season! 🎈 Our scientific balloon teams are in Antarctica preparing for two missions supporting astrophysics science. Follow along: nasa.gov/blogs/wallops/
PUEO মিশনটি নাসার ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্স পাইওনিয়ার্স’ কর্মসূচির অধীনে প্রথম প্রকল্প। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সুদূর মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা অতি উচ্চ শক্তির নিউট্রিনোগুলির সংকেত শনাক্ত করা। এই যন্ত্রটি বিশাল অ্যান্টার্কটিক বরফের চাদরকে একটি দৈত্যাকার ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করবে। এটি নিউট্রিনোগুলি যখন ঘন বরফের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, তখন উৎপন্ন রেডিও সংকেতগুলির সন্ধান করবে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক অ্যাবিগেল ভিরেগ এই PUEO প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মিশনের লক্ষ্য হলো নিউট্রিনো শনাক্তকরণে বিশ্বসেরা সংবেদনশীলতা অর্জন করা, যা পূর্ববর্তী ANITA কর্মসূচির তুলনায় ১০ ইইভি (EeV) পরিসরে পরিধির দিক থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, GAPS পরীক্ষাটি মহাবিশ্বের মোট পদার্থের ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশ গঠনকারী অদৃশ্য পদার্থ—ডার্ক ম্যাটার বা কৃষ্ণবস্তুর উৎস নির্ধারণের দিকে মনোনিবেশ করেছে। এই যন্ত্রটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে নিম্ন-শক্তির মহাজাগতিক অ্যান্টি-নিউক্লিয়ন, বিশেষত অ্যান্টি-ডিউট্রনগুলির প্রবাহ নির্ভুলভাবে পরিমাপ করার জন্য, যা ডার্ক ম্যাটারের ক্ষয়ের সম্ভাব্য নির্দেশক হতে পারে। এই শক্তিস্তরে একটিও অ্যান্টি-ডিউট্রন শনাক্ত করা গেলে তা নতুন পদার্থবিদ্যার এক যুগান্তকারী প্রমাণ হতে পারে, কারণ এই নিম্ন শক্তিতে তাদের জন্য প্রত্যাশিত জ্যোতির্পদার্থবিদ্যার পটভূমি সংকেত ডার্ক ম্যাটার থেকে আসা সম্ভাব্য সংকেতের তুলনায় অনেক কম।
উভয় মিশনকেই দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকার জন্য বিশেষ ধরনের বেলুন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ‘আনস্ট্রেসড এয়ার বেলুন’ নামে পরিচিত। এই বেলুনগুলি বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস নির্গত করে। এই নকশা, মেরু অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন বিন্যাস এবং অ্যান্টার্কটিক গ্রীষ্মকালে অবিরাম সূর্যালোকের সুবিধা নিয়ে এই প্ল্যাটফর্মগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য করে তোলে। নাসার বৈজ্ঞানিক বেলুন কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা করছে ওয়ালপস ফ্লাইট সেন্টার, আর মিশন পরিকল্পনা ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছে পেরাটন সংস্থা। এই বিশেষ মিশনের জন্য বেলুনগুলি তৈরি করেছে অ্যারোস্টার কোম্পানি।
GAPS পরীক্ষাটি পূর্বেও পরীক্ষিত হয়েছে; এটি ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে KEK অ্যাক্সিলারেটরে স্থলভিত্তিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল এবং ২০১২ সালের জুনে একটি প্রোটোটাইপ (pGAPS) উড্ডয়ন পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন করে। বর্তমান সফল অভিযানের জন্য NSF, নিউজিল্যান্ড সরকার এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা অপরিহার্য। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ‘সালটার টেস্ট ফ্লাইট ইউনিভার্সাল’-এর মতো প্রযুক্তি যাচাইয়ের জন্যও কিছু উৎক্ষেপণ নির্ধারিত রয়েছে। এই সমস্ত মিশনগুলি মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
