দক্ষিণ মহাসাগরে 'বায়ো-ডাক' শব্দের বিশ্লেষণ: সমন্বিত জলজ যোগাযোগের প্রমাণ
সম্পাদনা করেছেন: undefined undefined
২০২৪ সালের শেষভাগে সম্পন্ন হওয়া একটি আর্কাইভ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে, ষাটের দশক থেকে অ্যান্টার্কটিক জলরাশিতে রেকর্ড করা হওয়া এক রহস্যময় শব্দ, যা 'বায়ো-ডাক' নামে পরিচিত, তা আসলে একটি সুসংগঠিত, পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস প্রদর্শন করে, যা কথোপকথনের অনুরূপ। এই পুনরাবৃত্তিমূলক সংকেতটি প্রায় ছয় দশক আগে প্রথম জলতলের পর্যবেক্ষকদের দ্বারা নথিভুক্ত হয়েছিল এবং দীর্ঘকাল ধরে এটি দক্ষিণ মহাসাগরের এক অমীমাংসিত ধ্বনিগত ধাঁধা হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে এই শব্দের উৎস মানবসৃষ্ট, যেমন ডুবোজাহাজ থেকে আসা শব্দ, কিন্তু এর জটিলতা এবং নির্দিষ্ট পুনরাবৃত্তির কারণে বিজ্ঞানীরা একটি জৈবিক উৎসের সন্ধান শুরু করেন।
শব্দ তরঙ্গ শনাক্তকারী অ্যান্টেনা অ্যারেগুলি বহু দূরত্বের মধ্যে একাধিক উৎসের উপস্থিতি নথিভুক্ত করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি উৎস যখন সংকেত নির্গত করে, তখন অন্য উৎসগুলি তার সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকে, যা স্পষ্টভাবে একটি সমন্বিত যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রস চ্যাপম্যান, যিনি ১৯৮৬ সাল থেকে এই ডেটা নিয়ে কাজ করছেন, তিনি মন্তব্য করেন যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল যে 'যখন একজন কথা বলত, তখন অন্যেরা চুপ থাকত, যেন তারা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল'। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমেরিকান অ্যাকোস্টিকাল সোসাইটির (ASA) ১৮৭তম সভায় এই পর্যবেক্ষণটি উপস্থাপন করা হয় এবং এটিই প্রথম প্রমাণ দেয় যে এই শব্দগুলি বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেকার আলাপচারিতা হতে পারে। গবেষকরা সমুদ্রের বিভিন্ন বিন্দুতে এই শব্দটি উৎপাদনকারী কমপক্ষে চারটি স্বতন্ত্র 'বক্তা' শনাক্ত করেছেন।
যদিও অ্যান্টার্কটিক মিনকে তিমি (Balaenoptera bonaerensis) এই শব্দের প্রধান সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচিত, কারণ ২০১৪ সালে NOAA-এর ডেনিস রিশ সহ বিজ্ঞানীরা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিমিদের সাথে সংযুক্ত অ্যাকোস্টিক রেকর্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করেছিলেন, তবুও এই জটিল ধ্বনিগত আচরণ ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে গভীর সমুদ্রের জীববিজ্ঞানে এক নতুন রহস্যের স্তর যোগ করেছে। এই তিমিদের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তাদের ঋতুভিত্তিক উপস্থিতি, পরিযান পথ এবং মোট সংখ্যা সঠিকভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়। দৃশ্যমান পর্যবেক্ষণের চেয়ে ধ্বনিগত গবেষণা অনেক বেশি সাশ্রয়ী হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।
'বায়ো-ডাক' শব্দটির কম্পাঙ্ক পরিসীমা ৬০ হার্জ থেকে ১০০ হার্জের মধ্যে, যার হারমোনিক্স ১ কিলোহার্জ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং স্বতন্ত্র শব্দগুলির মধ্যেকার ব্যবধান ১.৬ থেকে ৩.১ সেকেন্ডের মধ্যে থাকে। পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল যে এই শব্দগুলি ঘন বরফের এলাকায় তিমিদের চলাচলে সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে, নামিবিয়ার উপকূল এবং পার্থ ক্যানিয়নের মতো বরফবিহীন নিম্ন অক্ষাংশে এই শব্দের উপস্থিতি সেই তত্ত্বকে বাতিল করে দেয়।
পরবর্তী গবেষণা, যার মধ্যে ২০২০ সালের অনুসন্ধানও অন্তর্ভুক্ত, এই শব্দগুলিকে শ্রেণীবদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যায় এবং C ও D প্রকারভেদ চিহ্নিত করে। জার্নাল 'বায়োলজি লেটার্স'-এ প্রকাশিত এই আবিষ্কার অ্যান্টার্কটিক মিনকে তিমির স্বর উৎপাদন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে যে এই তিমিরা কেবল পরিচিত 'বুয়িং' শব্দই নয়, বরং এই ছন্দোবদ্ধ স্পন্দনও তৈরি করে। যদিও শব্দের উৎস এখন প্রতিষ্ঠিত, এর সঠিক কার্যকারিতা নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চলছে। বিশেষত, নিম্ন অক্ষাংশে তাদের প্রজনন ঋতুর সঙ্গে এই ধ্বনিগত কার্যকলাপের শীর্ষবিন্দু মিলে যাওয়ায়, এটিকে প্রজনন সংক্রান্ত যোগাযোগের একটি অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Pravda
techno.nv.ua
Yahoo
PetaPixel
Futura
EurekAlert!
Science Alert
ResearchGate
ResearchGate
Rutgers University
Rutgers University
SSBCrack News
BG
Popular Science
A-Z Animals
PetaPixel
The Daily Beast
IFLScience
Popular Science
PetaPixel
The Daily Beast
Gazeta Express
A-Z Animals
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
Die noch namenlose Insel in der Antarktis wurde zunächst für einen "dreckigen Eisberg" gehalten. Sie ist 130 Meter lang und 50 Meter breit. kurier.at/chronik/welt/a…
China's 42nd Antarctic expedition team has successfully completed the country's first hot-water drilling test in the Antarctic ice sheet, achieving a depth of 3,413 meters, the Ministry of Natural Resources said on Tuesday. This marks a breakthrough beyond the previous
🇷🇺🧑🔬Russian scientists make WILD geographic discovery in Antarctica An area at Cape Berks previously classified as an isolated mountain peak has now been identified as an oasis after further research by Russian researchers from the St. Petersburg Academy of Sciences and the
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
