বিড়ালের গুঞ্জন: স্বয়ংক্রিয় ধ্বনি প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক উন্মোচন
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
বিড়ালের পরিচিত গুঞ্জন ধ্বনি, যা সাধারণত স্নেহ প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত, তা একটি বিস্ময়করভাবে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয় বলে সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা, যাদের মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান টি. হার্বস্ট অন্যতম, তারা বিড়ালের স্বরযন্ত্রে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক কাঠামো আবিষ্কার করেছেন, যা ভোকাল ফোল্ডের মধ্যে 'পার্পিং প্যাড' (purring pads) নামে পরিচিত। এই গবেষণাপত্রটি 'কারেন্ট বায়োলজি' (Current Biology) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এই 'পার্পিং প্যাড'গুলি কোলাজেন এবং ইলাস্টিন তন্তু দ্বারা গঠিত, যা ভোকাল ফোল্ডের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। এই কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যটি ন্যূনতম ক্রমাগত পেশী শক্তি প্রয়োগে ২৫ থেকে ৩০ হার্টজ (Hz) এর মতো নিম্ন কম্পাঙ্কে দীর্ঘস্থায়ী কম্পন বজায় রাখতে সক্ষম করে। এই প্রক্রিয়াটিকে মাইওইলাস্টিক-অ্যারোডাইনামিক (MEAD) নীতির উপর ভিত্তি করে একটি নিষ্ক্রিয় বায়ুগতিবিদ্যাগত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্ব-অটুট দোলন সৃষ্টি করে। পূর্বেকার তত্ত্বগুলি যেখানে ক্রমাগত স্নায়ু উদ্দীপনার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করত, এই নতুন তথ্য তা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, কারণ মস্তিষ্ক কেবল প্রাথমিক সংকেত দিলেও স্বরযন্ত্রের গঠনই যান্ত্রিকভাবে ছন্দ বজায় রাখে।
ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আটটি গৃহপালিত বিড়ালের বিচ্ছিন্ন স্বরযন্ত্রের উপর পরীক্ষা চালান, যেখানে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস প্রবাহিত করে দেখা যায় যে পেশী সংকোচন ছাড়াই গুঞ্জন ধ্বনি উৎপন্ন হচ্ছে। এই দোলনগুলি ২৫ থেকে ৩০ হার্টজ সীমার মধ্যে স্ব-অটুটভাবে বজায় ছিল, যা প্রমাণ করে যে গুঞ্জন মূলত একটি নিষ্ক্রিয় ধ্বনি, যার জন্য পেশীর সক্রিয় প্রচেষ্টার প্রয়োজন নেই। এই আবিষ্কারটি বিড়ালের শব্দ উৎপাদনের প্রচলিত ধারণাকে পরিবর্তন করেছে, যা আগে সক্রিয় পেশী সংকোচন (Active Muscle Contraction - AMC) প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল বলে মনে করা হতো।
অতিরিক্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের মিথস্ক্রিয়ার দ্বারা প্রভাবিত ডাক বা 'মিও' (meow) ধ্বনির বিপরীতে, বিড়ালের গুঞ্জন প্রতিটি বিড়ালের জন্য একটি স্বতন্ত্র 'সোনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট' বা ধ্বনিগত স্বাক্ষর হিসেবে কাজ করে। বার্লিনের মিউজিয়াম ফর নেচারকুন্ডে এবং নেপলস ফেডেরিকো দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা স্বয়ংক্রিয় স্পিচ রিকগনিশন কৌশল ব্যবহার করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যেখানে গুঞ্জন ধ্বনির ভিত্তিতে ৮৪% নির্ভুলতার সাথে স্বতন্ত্র বিড়ালকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যেখানে 'মিও' ধ্বনির ক্ষেত্রে এই নির্ভুলতা ছিল মাত্র ৬৩%। এই স্থিরতা নির্দেশ করে যে গুঞ্জন হলো পরিচয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূচক, যা বিড়ালটি তার শৈশবকাল থেকে একই রকম রাখে।
বিড়ালের গুঞ্জনের এই নিম্ন কম্পাঙ্ক, যা সাধারণত ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজ পর্যন্ত বিস্তৃত, তা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এর নিরাময় ক্ষমতাও রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ হার্টজ কম্পনের সংস্পর্শে আসার পর বয়স্ক ভেড়ার হাড়ে মেরামতের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল বলে ডঃ ক্লিনটন রুবিন এবং তাঁর দলের একটি গবেষণায় উঠে আসে। মানুষের ক্ষেত্রেও, ২০ থেকে ৫০ হার্টজ কম্পনের কম্পন থেরাপি হাড়ের মেরামত এবং টেন্ডন শক্তিশালী করতে সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণে, বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে গুঞ্জন বিড়ালের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ নিরাময় প্রক্রিয়া হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে, যা আঘাত বা মানসিক চাপের সময় স্ব-শান্তিদানে সহায়তা করে।
এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বিড়াল-মানব সম্পর্কের গভীরতা বুঝতেও সাহায্য করে, যেখানে গুঞ্জন কেবল আনন্দের প্রকাশ নয়, বরং এটি একটি স্থিতিশীল ব্যক্তিগত পরিচয় বহন করে। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আরেকটি সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয় যে বিড়ালরা সামাজিক অংশীদার হিসাবে মানুষের সাথে, বিশেষত মহিলাদের সাথে, দৃঢ় বন্ধন তৈরি করে, যা কেবল খাদ্যের প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ নয়। এই নতুন জ্ঞান ফিসফিস করে বলা এই ধ্বনিটির জৈব-আকৃতিবিদ্যা এবং যোগাযোগের কৌশল সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Pravda
Olhar Digital - O futuro passa primeiro aqui
Правда.Ру
Правда.Ру
Правда.Ру
Правда.Ру
Правда.Ру
Scientific Reports
Current Biology
Smithsonian Magazine
Canaltech
PLOS ONE
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



