
স্পার্ম হোয়েলের লেজ
শেয়ার করুন
লেখক: Svetlana Velhush

স্পার্ম হোয়েলের লেজ
আন্তর্জাতিক প্রকল্প CETI (Cetacean Translation Initiative), যা অনেক সময় জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনায় "পৃথিবীর ভাষা" বা "আর্থ ল্যাঙ্গুয়েজ" হিসেবে অভিহিত করা হয়, স্পার্ম হোয়েল বা কাসালোটদের মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অত্যাধুনিক মডেল, যেমন WhaleLM এবং WhAM ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এখন তিমিদের ব্যবহৃত জটিল "কোডা" (codas) বা ক্লিকিং শব্দসমষ্টির প্যাটার্নগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। এই গবেষণার মাধ্যমে আন্তঃপ্রজাতি যোগাযোগের এক নতুন এবং রোমাঞ্চকর দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

স্পার্ম হোয়েল
গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্পার্ম হোয়েলদের একটি নিজস্ব "ফোনেটিক অ্যালফাবেট" বা ধ্বনিগত বর্ণমালা রয়েছে। এই বর্ণমালার উপাদানগুলো অনেকটা মানুষের ভাষায় ব্যবহৃত স্বরবর্ণের মতো কাজ করে, যা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। এর আগে সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যে এমন সুশৃঙ্খল এবং জটিল ভাষাগত কাঠামোর অস্তিত্ব সম্পর্কে খুব কমই ধারণা ছিল। এই আবিষ্কার তিমিদের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে।
এই তিমিদের গানের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো, ছন্দ, গতি এবং বাক্যতত্ত্ব বা সিনট্যাক্স লক্ষ্য করা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের ভাষার কাঠামোর সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। তাদের এই যোগাযোগ ব্যবস্থা কেবল এলোমেলো শব্দ নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ভাব বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে যা তাদের সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
বর্তমানে ব্যবহৃত WhAM নামক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলটি সাধারণ শব্দকে "তিমিদের ভাষায়" রূপান্তর করতে এবং তিমিদের শব্দকে মানুষের বোধগম্য আকারে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। এই প্রযুক্তিটি কেবল অনুবাদই করে না, বরং তিমিরা পরবর্তী "বাক্যাংশ" হিসেবে কী বলতে পারে তা-ও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারে। এছাড়া, নির্দিষ্ট শব্দের সাথে তিমিদের আচরণের কী সম্পর্ক, তাও এই মডেলটি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চিহ্নিত করতে পারছে।
বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগর থেকে সংগৃহীত হাজার হাজার ঘণ্টার রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, তিমিদের মধ্যে "সাংস্কৃতিক উপভাষা" (cultural dialects) বিদ্যমান। এই উপভাষাগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হস্তান্তরিত হয় এবং এক অঞ্চলের তিমির ডাক অন্য অঞ্চলের তিমির চেয়ে আলাদা হয়। তাদের ভাষার এই প্রাসঙ্গিক জটিলতা মানুষের ভাষার সাথে তুলনীয়, যা নির্দেশ করে যে তাদের সমাজ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং ঐতিহ্যবাহী।
এটি প্রকৃত আন্তঃপ্রজাতি অনুবাদের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পে MIT, UC Berkeley এবং Harvard-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের জীববিজ্ঞানী, ভাষাবিদ, ক্রিপ্টোগ্রাফার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞরা একত্রে কাজ করছেন। গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যে তিমিদের সাথে রিয়েল-টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এই আবিষ্কার কেবল প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমাদের ধারণাই বদলে দিচ্ছে না, বরং সমুদ্র সংরক্ষণের বিষয়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে। জাহাজ থেকে উৎপন্ন তীব্র শব্দ দূষণ তিমিদের যোগাযোগ ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যা তাদের কার্যত "বধির" করে দিচ্ছে। এর ফলে তাদের সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে পড়ছে, যা এই প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও এই প্রযুক্তিটি এখনো তিমিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ "গুগল ট্রান্সলেট" হিসেবে গড়ে ওঠেনি, তবে এটি এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সত্যিই স্পার্ম হোয়েলদের ভাষায় "কথা বলতে" শুরু করেছে এবং তাদের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করছে। এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ককে এক নতুন এবং গভীরতর উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
World Governments Summit (Dubai 2026) — Официальный отчет сессии «Будущее межвидового понимания».
Earth Species Project — Техническая документация модели NatureLM-audio.
Nature Astronomy/Bioacoustics — Исследование о «гласных» и «фонетическом алфавите» кашалотов.