শারীরিক পরিবর্তনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা: শ্যারন স্টোনের বার্ধক্য দর্শন

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন বার্ধক্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মেনে নেওয়া এবং কেবল তারুণ্যের অলীক আদর্শের পিছনে ছোটার বিরোধিতা করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন যে সৌন্দর্য বা আকর্ষণ কেবল তারুণ্যের উপর নির্ভরশীল। স্টোন জোর দেন যে প্রতিটি বয়সেই নিজের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত, যা ব্যক্তিগত উৎকর্ষ এবং আত্ম-মূল্যবোধকে চিরন্তন যৌবনের অনুসন্ধানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে অর্থপূর্ণ বিকাশের উপর আলোকপাত করে, যা সমাজের চাপানো সৌন্দর্যের মানদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ জানায়।

‘বেসিক ইনস্টিনক্ট’ এবং ‘ক্যাসিনো’র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর শক্তিশালী ভূমিকার জন্য পরিচিত স্টোন, বার্ধক্যের সাথে আসা শারীরিক পরিবর্তনগুলি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি রসিকতা করে বলেছেন যে তাঁর বগলের চামড়ায় এখন ভাঁজ পড়েছে, কিন্তু তিনি সেটিকে ‘শক্তিশালী এবং ডানা মেলার মতো’ বলে অভিহিত করেন, যা তাঁর বর্তমান অবস্থাকেই মহিমান্বিত করে। এমি এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে সম্মানিত এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যারা বার্ধক্যের ভয় পান, তাদের ‘বোকা এবং অকৃতজ্ঞ’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। স্টোন উল্লেখ করেন যে তিনি বেঁচে থাকা এবং সুস্থ থাকাকে উদযাপন করেন, কারণ তিনি অনেক মানুষকে হারিয়ে যেতে দেখেছেন, যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান করে তোলে।

স্টোনের এই দর্শন হলিউডের বয়সহীন সৌন্দর্যের ধারণার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ‘বয়সহীন সৌন্দর্য’ হতে চান না; বরং তিনি তাঁর বর্তমান বয়সে যা হতে পারেন, তার সেরা রূপটি হতে চান। এই মনোভাব কেবল বাহ্যিক রূপের উপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধ এবং আত্ম-স্বীকৃতির উপর জোর দেয়। পূর্বে, তিনি কসমেটিক চিকিৎসার বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে কেউ চাইলে তা করতে পারে, তবে না চাইলে জোর করার কিছু নেই, যদিও তিনি নিজে বোটক্স ব্যবহার বন্ধ করেছেন।

স্টোনের কর্মজীবনের প্রেক্ষাপটও এই দর্শনকে সমর্থন করে; তিনি ১৯৯৮ সালে চল্লিশ বছর পূর্ণ করার সময় হলিউডের কিছু নির্বাহী তাঁকে ‘খুব বেশি বয়স্ক’ বলে বাতিল করে দিয়েছিলেন। এই প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও, তিনি তাঁর সৃজনশীলতা এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে চল্লিশ বছর বয়সে একজন মানুষ ‘যা চায় তা জানার জন্য যথেষ্ট বয়স্ক এবং তা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট তরুণ’, এবং সেই বয়সেও তিনি নিজেকে ‘অসাধারণ’ দেখতেন বলে মনে করেন। এই অভিজ্ঞতাগুলি তাঁকে শিখিয়েছে যে হলিউডের মানদণ্ড বা স্টুডিও নির্বাহীদের মতামত তাঁর সৃজনশীল যাত্রার গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে না।

অভিনেত্রী হিসাবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে যখন তিনি আঠারো বছর বয়সে মিস পেনসিলভানিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, যা তাঁকে নিউ ইয়র্কে মডেলিংয়ের দিকে চালিত করে। নব্বইয়ের দশকে তিনি একজন জনপ্রিয় সেক্স সিম্বল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তিনি এই লেবেল থেকে বেরিয়ে এসে নিজের সত্যকে ধারণ করেছেন। তাঁর এই অবস্থান নারীদের অনুপ্রাণিত করে যে প্রতিভা এবং সৌন্দর্য বয়সের সাথে ম্লান হয় না, বরং বিকশিত হয়। তিনি তাঁর আত্মজীবনী, ‘দ্য বিউটি অফ লিভিং টোয়াইস’-এ তাঁর স্ট্রোক পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, যা তাঁর স্থিতিস্থাপকতার সাক্ষ্য দেয়।

স্টোন তাঁর দৈনন্দিন যত্নে সরলতা বজায় রাখার পক্ষে মত দেন, যেমন সকালে মুখ ধোয়ার জন্য কেবল গরম জল এবং একটি ভালো স্ক্রাব ব্যবহার করা। তাঁর কাছে ফিটনেস মানে কেবল জিম নয়, বরং তিনি নাচ এবং সার্কিট ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পান, যা তাঁর অভ্যন্তরীণ শান্তির উৎস। তিনি সৃজনশীলতাকে তাঁর উদ্বেগের বিরুদ্ধে এক গোপন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা তাঁর জীবনদর্শনকে আরও গভীরতা দেয়। এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে আত্ম-যত্ন এবং ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই হলো সত্যিকারের সৌন্দর্যের ভিত্তি, যা সময়ের বাঁধাধরা নিয়মের ঊর্ধ্বে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Economic Times

  • Alamy

  • HELLO! Magazine

  • Wikipedia

  • The Economic Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।