দৈনন্দিন ক্ষুদ্র অভ্যাস দীর্ঘায়ু বৃদ্ধিতে সহায়ক: গবেষণা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলি নিশ্চিত করেছে যে ধারাবাহিক, ছোট জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলি মানুষের দীর্ঘায়ু এবং স্বাস্থ্যকালের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধারণাটি প্রচলিত ধারণার বিপরীতে যায় যে দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য কঠোর বা আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বরং, এটি প্রমাণ করে যে ছোট ছোট ইতিবাচক সিদ্ধান্তগুলির সম্মিলিত শক্তিই দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি।
ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি-এর গবেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ২০২৬ সালের গবেষণায় এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে ইউকে বায়োব্যাঙ্ক থেকে প্রাপ্ত ৫৯,০০০-এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এই গবেষণায় মূলত ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ এবং খাদ্যের গুণমানের উপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের জীবনধারাকে নিম্ন, মাঝারি এবং উচ্চ পরিসরে ভাগ করে ২৭টি ভিন্ন সমন্বয় পরীক্ষা করেছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে জীবনযাত্রার এই তিনটি প্রধান স্তম্ভের সামান্য উন্নতিও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, শুধুমাত্র ঘুমের সময় বৃদ্ধি করে এক বছর আয়ু বাড়ানো সম্ভব, যার জন্য প্রায় ২৫ মিনিট অতিরিক্ত ঘুমের প্রয়োজন। তবে, এই গবেষণাটি দেখায় যে শারীরিক কার্যকলাপ এবং খাদ্যাভ্যাসের সামান্য উন্নতি যোগ করা হলে, একই পরিমাণ আয়ু বৃদ্ধির জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত ঘুমই যথেষ্ট। এই সিনারজিস্টিক প্রভাবটি নির্দেশ করে যে এই আচরণগুলি জৈবিকভাবে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত, যেখানে একটির উন্নতি অন্যটির সুবিধা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
শারীরিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে। যাদের ঘুমের অভ্যাস, ব্যায়াম এবং খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে খারাপ ছিল, তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক মাত্র ১.৯ মিনিট অতিরিক্ত মাঝারি ধরনের চলাফেরা যুক্ত করার ফলে জীবন প্রত্যাশা প্রায় এক বছর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদি তা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সাথে মিলিত হয়। এই গবেষণাটি এই ধারণাকে সমর্থন করে যে, শারীরিক কার্যকলাপের তীব্রতার চেয়ে ধারাবাহিকতা এবং সমন্বয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। খাদ্যের গুণমানের উন্নতিও দীর্ঘায়ুতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, দৈনিক খাদ্যে মাত্র অর্ধেক পরিবেশন অতিরিক্ত সবজি যোগ করা হলে তা জীবনকালের পূর্বাভাসের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষণার সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণটি হলো এই তিনটি উপাদানের সম্মিলিত প্রভাব। যারা ঘুম, ব্যায়াম এবং খাদ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম উন্নতি সাধন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রায় চার বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত সুস্থ বছর লাভ করার সম্ভাবনা দেখা গেছে, যা গুরুতর রোগমুক্ত জীবনকে নির্দেশ করে। এই ফলাফলগুলি দেখায় যে, চরম জীবনযাত্রার পরিবর্তন না করেও, দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবন লাভ করা সম্ভব। এই গবেষণাটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বাস্তবসম্মত বার্তা বহন করে: স্থায়িত্বশীল, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার সমন্বয়ই আমূল পরিবর্তনের চেয়ে বেশি কার্যকর ও অর্জনযোগ্য।
5 দৃশ্য
উৎসসমূহ
ТСН.ua
eClinicalMedicine
Live Science
Life & Style En.tempo.co
The Sen Times
Drugs.com
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।