মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে তৃতীয়-পুরুষে আত্ম-কথন: ইলেইজম কৌশলের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মানসিক চাপের সময় 'আমি' (I) এর পরিবর্তে নিজের নাম ব্যবহার করে নিজের সাথে কথা বললে আবেগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। এই পদ্ধতিটি ইলেইজম (Ileism) নামে পরিচিত, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে তৃতীয় পুরুষে উল্লেখ করে, যা তীব্র আবেগের সঙ্গে একটি উপকারী মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাষার পরিবর্তন মনকে সমস্যার মধ্যে নিমজ্জিত অবস্থা থেকে সরিয়ে এনে বাহ্যিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে, যার ফলে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার মুহূর্তে স্পষ্টতা আসে।

ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের ইথান ক্রস এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জেসন মোজারের যৌথ গবেষণায় এই বিষয়টি পরীক্ষিত হয়েছে। তাঁরা দেখেছেন যে তৃতীয়-পুরুষে আত্ম-কথন আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি তুলনামূলকভাবে অনায়াস রূপ হতে পারে, যা অতিরিক্ত জ্ঞানীয় নিয়ন্ত্রণের (cognitive control) প্রয়োজন ছাড়াই কাজ করে। ইলেইজম সামাজিক চাপ মোকাবিলা এবং চাপের মুখে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা অভ্যন্তরীণ কথোপকথন সংক্রান্ত গবেষণায় প্রমাণিত। এই সাধারণ ভাষাগত পরিবর্তন মানসিক তীব্রতা হ্রাস করে, অথচ এর জন্য অতিরিক্ত মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয় না। উদাহরণস্বরূপ, 'আমি আটকে গেছি' এই ধরনের আত্ম-সমালোচনামূলক চিন্তাকে নিজের নাম ব্যবহার করে 'অমুক (নিজের নাম) আটকে গেছে' বা 'সে আটকে গেছে' এই ধরনের নির্দেশমূলক বাক্যে রূপান্তর করা যেতে পারে। এই কৌশলটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয় ধারাকে ব্যাহত করে এবং চিন্তাভাবনার বিন্যাসকে কার্যকরভাবে সংগঠিত করতে সহায়তা করে।

তৃতীয়-পুরুষে কথা বললে ব্যক্তি তার তাৎক্ষণিক 'স্ব' থেকে দূরে সরে যায় এবং বিশদ বিবরণের পরিবর্তে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি বিচার করতে পারে। এই দূরত্ব ব্যক্তিকে আবেগের দ্বারা কম প্রভাবিত হয়ে নিজেদের বিষয়গুলি পর্যালোচনা করার সুযোগ দেয়, ঠিক যেমন তারা অন্য কারও সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে তৃতীয়-পুরুষে আত্ম-কথন উদ্বেগ কমাতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে, এমনকি যাদের স্বভাবগতভাবে সামাজিক উদ্বেগ বেশি, তাদের ক্ষেত্রেও এই কৌশল কার্যকর। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের ইথান ক্রস এবং সহকর্মীদের গবেষণা, যা ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত হয়, দেখায় যে তৃতীয়-পুরুষে কথা বললে মস্তিষ্কের স্ব-উল্লেখ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (medial prefrontal cortex) কার্যকলাপ হ্রাস পায়, যা নেতিবাচক স্মৃতি প্রতিফলনের সাথে যুক্ত। এই কৌশলটি মানসিক সুস্থতা এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির একটি বাস্তব পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা উদ্বেগ হ্রাস এবং মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে।

এই কৌশলটি নতুন নয়; প্রাচীনকালে সম্রাট জুলিয়াস সিজার তাঁর 'গ্যালিক ওয়ার'-এ 'আমি' এর পরিবর্তে 'সিজার' শব্দটি ব্যবহার করে একটি বস্তুনিষ্ঠতার আবহ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। আধুনিক সময়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড় লেব্রন জেমস এবং নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিরাও এই কৌশল ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। মনোবিজ্ঞানী জেসন মোজার ব্যক্তিগতভাবে উড়োজাহাজে ভয় পেলে নিজেকে 'জেসন' বলে সম্বোধন করে শান্ত থাকার চেষ্টা করেন, যেখানে তিনি বলেন, 'জেসন জানে যে বিমান ভ্রমণ খুব নিরাপদ।' গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, নেতিবাচক ছবি দেখার সময় তৃতীয়-পুরুষে কথা বললে আবেগিক প্রতিক্রিয়ার একটি চিহ্নিতকারী (late positive potential) প্রথম এক সেকেন্ডের মধ্যেই হ্রাস পায়, যা জ্ঞানীয় নিয়ন্ত্রণের কোনো বর্ধিত চিহ্ন ছাড়াই ঘটে। এই বিষয়টি প্রমাণ করে যে এই কৌশলটি তুলনামূলকভাবে কম প্রচেষ্টায় স্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • 20 minutos

  • 20Minutos

  • Código San Luis

  • ResearchGate

  • Leon Hunter

  • Sonya Looney Show

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।