মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (ISF) সামরিক বাহিনী প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘ-অনুমোদিত এই বাহিনীতে সুনির্দিষ্টভাবে সৈন্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রথম দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঘোষণা করেন যে, প্রায় ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ সামরিক কর্মীর একটি দল মোতায়েনের জন্য প্রস্তুতি চলছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও সমন্বয় এবং আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার উপর নির্ভরশীল। এই সম্ভাব্য মোতায়েনটি ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার 'ফেজ II'-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যার মূল লক্ষ্য হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি, গাজার সামরিকীকরণ প্রত্যাহার এবং বৃহৎ আকারের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা। এই সামরিক কন্টিনজেন্টটি মূলত প্রকৌশল, চিকিৎসা ইউনিট এবং বিশেষ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হবে, যা মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনমূলক কাজে মনোনিবেশ করবে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নেতৃত্বে জাকার্তা আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা ও সংঘাত-পরবর্তী স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টায় বৃহত্তর ভূমিকা পালনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো গাজা বা অন্য কোনো স্থানে শান্তি রক্ষায় '২০,০০০ বা তারও বেশি' সৈন্য মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে, বর্তমান প্রস্তাবিত মোতায়েনের সংখ্যা পূর্বের প্রতিশ্রুতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং এটি কেবল নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিসে (Board of Peace - BoP) যোগদান করেছে, যা গাজার স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এই বোর্ডে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটি ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র নীতিতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও দেশটির অভ্যন্তরে এর শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৈন্য সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, যার প্রমাণ পাওয়া যায় সৌদি আরব এবং জর্ডানের মতো দেশগুলোর সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকৃতিতে। এই পরিস্থিতিতে, মরক্কোকে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সৈন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (ISF) মূল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করা, মিশর ও ইসরায়েলের সাথে সমন্বয় করে মানবিক করিডোর সুরক্ষিত করা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজোলিউশন ২৮০৩ অনুযায়ী গাজার সামরিকীকরণ প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করা। এই সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (IDF) ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করার শর্তের সাথে যুক্ত, যা নির্ভর করবে গাজার সামরিকীকরণ সংক্রান্ত মানদণ্ড, মাইলফলক এবং সময়সীমার ওপর, যা IDF, ISF এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হবে। তবে, ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ শর্তসাপেক্ষ, এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুগিওনো স্পষ্ট করেছেন যে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা অর্জিত না হলে তারা বোর্ড অফ পিস থেকে সরে আসতে প্রস্তুত। এই প্রস্তুতিগুলো চলমান থাকলেও, সৈন্য মোতায়েনের সঠিক সময়সীমা এবং চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও সামরিক কমান্ড চেইনের মাধ্যমে সমন্বয় সাপেক্ষ।