ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত ঐতিহাসিক ব্যাপক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ষোড়শ ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে উভয় পক্ষ একটি ঐতিহাসিক এবং ব্যাপক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই চুক্তিটিকে "সব চুক্তির জননী" হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এবং ২০২২ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়া প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘটল।
এই চুক্তির ফলে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য একটি বিশাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হবে। এটি বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, যারা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বাজার প্রবেশাধিকার সহজ করা। এর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতীয় পণ্যের ৯৯.৫ শতাংশ রপ্তানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত ইইউ থেকে আসা পণ্যের ৯৭.৫ শতাংশ বাণিজ্যিক মূল্যের ওপর শুল্ক ছাড় প্রদান করবে।
এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় রপ্তানিকারকরা প্রতি বছর শুল্ক বাবদ প্রায় ৪,০০০ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউ-এর রপ্তানি ১০৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে অটোমোবাইল বা গাড়ির ওপর শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হবে। ওয়াইন বা মদের ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশে আনা হবে।
মেশিনারি বা যন্ত্রপাতি (৪৪% পর্যন্ত), রাসায়নিক (২২% পর্যন্ত) এবং ওষুধ বা ফার্মাসিউটিক্যালস (১১% পর্যন্ত) আমদানির ক্ষেত্রেও ভারত শুল্ক হ্রাস বা বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক এবং সামুদ্রিক পরিবহনের মতো পরিষেবা খাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ভারতীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পাবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সংবেদনশীল কৃষি পণ্য যেমন গরুর মাংস, চিনি এবং চালের ওপর বিদ্যমান শুল্ক বহাল রাখবে।
বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি এই সম্মেলনে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে প্রথম কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা হয়েছে, যা এই চুক্তির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী বিশ্বশক্তির সাথে সম্পর্ক জোরদার করা এবং ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য পথ বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মেধাস্বত্ব রক্ষা এবং শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাদারদের যাতায়াত সহজ করতে একটি বৈশ্বিক গতিশীলতা সহযোগিতা স্মারকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ১৮০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নয়াদিল্লির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে একটি "অংশীদারিত্বের আদর্শ উদাহরণ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইনি পর্যালোচনা শেষ হতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে এবং আশা করা হচ্ছে যে ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরের মধ্যেই এই চুক্তিটি কার্যকর হবে।
11 দৃশ্য
উৎসসমূহ
STARTUPPER
LA TERCERA
European Commission
THE TIMES OF INDIA
The Hindu
The Guardian
European Automobile Manufacturers' Association (ACEA)
The Hindu
The Times of India
European Commission
Mint
Press Information Bureau
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
