মার-এ-লাগোতে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের বৈঠক: ২০-দফা শান্তি চুক্তির চূড়ান্তকরণ

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পাম বিচ-এ অবস্থিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনাটি হয়েছিল ২০২২ সালে রাশিয়ার শুরু করা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে। বৈঠকটি হয়েছিল ২০২২ সালের ২৮শে ডিসেম্বর, রবিবার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠকে মিলিত হন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করা, যা নিয়ে আলোচনা ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের আলোচনা দলগুলি এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিল।

ফ্লোরিডার এই বৈঠকে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলির পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান। শোনা যাচ্ছে, এই নিশ্চয়তা ন্যাটোর মতো সুরক্ষা ব্যবস্থার আদলে হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি একটি ‘শক্তিশালী নিরাপত্তা চুক্তি’ করতে বদ্ধপরিকর। তবে, ডনবাস অঞ্চলের সীমানা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য বিদ্যমান ছিল এবং তা আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নেতৃত্বে ইউক্রেন পক্ষ একটি পাল্টা প্রস্তাব পেশ করে। তারা প্রস্তাব দেয় যে রাশিয়া যদি ৬০ থেকে ৯০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে, তবে বিতর্কিত অঞ্চলগুলিতে একটি নিরস্ত্র অঞ্চল (ডিমিলিটারাইজড জোন) প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করেন। বিশেষত, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি ২০২২ সালের ২৭শে ডিসেম্বর হ্যালিফ্যাক্সে ঘোষণা করেন যে কানাডা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত ২.৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের আর্থিক সহায়তা দেবে, যা প্রায় ১.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। এই অর্থ ইউক্রেনকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) থেকে কিস্তি পেতে এবং সামষ্টিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ টেলিফোন আলাপের কথাও জানান। সেই আলাপে তিনি পুতিনকে চুক্তি সম্পাদনের জন্য চাপ দেন, কারণ ট্রাম্প মনে করেন যে এতে বহু মানুষের জীবনহানি ঘটছে। আলোচনার গুরুত্ব বোঝাতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম উপ-মন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎসা। মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ হুইটকোফ এবং জ্যারেড কুশনার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে দেন যে আলোচনার ফলাফল হবে দ্বিমুখী: হয় দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে, নয়তো হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলতে থাকবে। তিনি উভয় পক্ষের শান্তির প্রতি আগ্রহের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং আঞ্চলিক বিষয় ছাড়াও ইউক্রেনের পারমাণবিক-মুক্ত মর্যাদা, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল তৈরির মতো বিষয়গুলি আলোচিত হয়। এই ২০২২ সালের ২৮শে ডিসেম্বরের আলোচনার সাফল্য বা ব্যর্থতা সরাসরি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bild

  • The Guardian

  • CBS News

  • OPB

  • Anadolu Ajansı

  • The White House

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।