COP30-এর ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক এশিয়ার এক বৈপরীত্য বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে: বিশ্বের মোট জিডিপি এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের একটি বড় অংশের জন্য দায়ী এই অঞ্চলটি এখন আসিয়ান (ASEAN) এবং জি-২০-এর মাধ্যমে আগ্রাসী বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে উচ্চাভিলাষী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রার মেলবন্ধন ঘটানোর এক কঠিন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় এমন উদ্যোগের উদাহরণ বিরল, কারণ সেখানে সাধারণত অর্থনীতি এবং পরিবেশ রক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চালিত হতে দেখা গেছে।
বর্তমান প্রবণতাগুলো বুঝতে হলে আমাদের এই যাত্রার মূলে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আসিয়ান শুরুতে মূলত এর পাঁচটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। ১৯৯২ সালের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল চালু করা হয় এবং ২০০৭ সালে আসিয়ান সনদ গ্রহণ করা হয়, যেখানে টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। ১৯৯৯ সালে গঠিত জি-২০ এশীয় পরাশক্তিগুলোসহ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং বিশেষ করে ২০২০ সালের মহামারীর পরে যখন বিশ্ব অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়ে, তখন এই অঞ্চলের দেশগুলো পরিবেশবান্ধব বা 'গ্রিন' পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগগুলোর অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত মূলত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট কর্তৃক বিশ্লেষিত COP30-এর ফলাফল এক মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে: যেখানে অভিযোজন অর্থায়নের বিষয়ে কিছু সমঝোতা হয়েছে, সেখানে জাতীয় জলবায়ু অবদান (NDC) হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি খুবই সীমিত দেখা গেছে। এশিয়ার জন্য এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়, কারণ প্রাথমিক তথ্যগুলো জ্বালানি ও শিল্প খাতে নির্গমন অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, কিছু দেশ বাণিজ্য আলোচনায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে জলবায়ু ইস্যুকে ব্যবহার করছে বলে মনে হয়, যদিও নিম্ন-কার্বন প্রযুক্তিতে প্রকৃত বিনিয়োগ এখনও তাদের ঘোষণার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত অংশীজনদের মানচিত্র বেশ জটিল এবং নেপথ্য স্বার্থে পরিপূর্ণ। চীন এই একীভূতকরণকে বাণিজ্যের মাধ্যমে তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। আসিয়ানের দেশগুলো তাদের ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত কর্পোরেশনগুলো মাঝে মাঝে কার্বন নিঃসরণের হিসাবে নিজেদের অনুকূলে রদবদল করছে বলে প্রতীয়মান হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, স্বতন্ত্র অডিটগুলো প্রায়ই এই হিসাবের পদ্ধতিতে গরমিল খুঁজে পায়, যার ফলে প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পরিস্থিতির ক্রমবিকাশ কয়েকটি বাস্তবসম্মত পরিস্থিতির দিকে মোড় নিতে পারে। প্রথমটি হলো গভীর একীভূতকরণের পথ, যেখানে বহিরাগত অংশীদারদের সাথে আসিয়ানের বাণিজ্য চুক্তিতে বাধ্যতামূলক জলবায়ু মানদণ্ড এবং কার্বন হিসাবের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের গ্রিন টেকনোলজি রপ্তানিকারকরা লাভবান হবেন এবং বাইরের বাজারের চাপ এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। এর বিপরীতে কাজ করবে অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ প্রচলিত জ্বালানি খাতের শক্তিশালী লবিস্টরা। দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো স্থবিরতার পথ, যেখানে জি-২০ সম্মেলনে বড় বড় ঘোষণা সত্ত্বেও কোনো প্রকৃত সংস্কার হবে না এবং এর ফলে কার্বন-নিবিড় শিল্পগুলোর স্বল্পমেয়াদী স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।
তৃতীয় পথটি হলো খণ্ডবিখণ্ড অবস্থা, যেখানে এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হওয়ার ফলে বাণিজ্য নীতি জলবায়ু লক্ষ্যগুলোকে পুরোপুরি আড়ালে ঠেলে দেবে। এমন পরিস্থিতিতে সস্তা ও গতানুগতিক জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে। চতুর্থ বা উদ্ভাবনী সম্ভাবনাটি হলো ডিজিটাল মনিটরিং এবং বাণিজ্য প্রবাহে কার্বন নিঃসরণ ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগ, যা অঞ্চলের প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অর্থনীতিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেবে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণের সারকথা হলো, এশিয়ার প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে যখন জলবায়ুর শর্তগুলোকে বাণিজ্য চুক্তির সমান্তরালে না রেখে বরং সেগুলোকে চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বুনে দেওয়া হবে।
এই সাফল্যের চাবিকাঠি হবে বাণিজ্য চুক্তিতে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ আঞ্চলিক ব্যবস্থা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা।



