জাপানের অত্যাধুনিক HTV-X কার্গো মহাকাশযানটি সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পৌঁছেছে এবং ডক করা হয়েছে, যা মহাকাশ লজিস্টিকসের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালের ২৮শে অক্টোবর, যা মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে জাপানের দৃঢ় অঙ্গীকারকে আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল। এর পূর্বে, মহাকাশযানটি ২৫শে অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে H3 রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এই সফল অভিযানটি মহাকাশযানের কার্যকারিতা এবং উন্নত সক্ষমতার এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
Tweet not found
The embedded tweet could not be found…
এই নতুন প্রজন্মের যানটি জাপানের মহাকাশ সংস্থা JAXA এবং मित्सুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ (MHI) দ্বারা নির্মিত, যা পূর্বসূরি H-II ট্রান্সফার ভেহিকল (HTV), যা 'কুনোতোরি' নামে পরিচিত ছিল, তার স্থান নিচ্ছে। কুনোতোরি ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নয়টি সফল মিশন সম্পন্ন করেছিল। HTV-X এর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি পূর্বসূরির তুলনায় আরও বেশি কার্যকর হয়, যা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথকে প্রশস্ত করে। এই মিশনে HTV-X প্রায় ৪,০৮০ কিলোগ্রাম (৯,০০০ পাউন্ড) রসদ বহন করেছে, যার মধ্যে ছিল খাদ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম।
তবে, এই নতুন যানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বর্ধিত পেলোড ক্ষমতা। HTV-X সম্পূর্ণ ক্ষমতায় প্রায় ৬,০০০ কিলোগ্রাম (১৩,২০০ পাউন্ড) পর্যন্ত কার্গো বহন করতে সক্ষম, যা পূর্ববর্তী HTV মডেলের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি। এর চাপযুক্ত পেলোড ক্ষমতা ৪,০৭০ কিলোগ্রাম এবং অপ্রশস্ত পেলোড ক্ষমতা ১,৭৫০ কিলোগ্রাম। মহাকাশযানটির ডকিং প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং সমন্বিত। পৃথিবীতে বসে নাসার নভোচারী জেনা কার্ডম্যান এবং JAXA নভোচারী কিমিয়া ইউই, যারা ISS-এ কর্মরত ছিলেন, তারা রোবোটিক আর্ম 'ক্যানাডার্ম২' ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে সফলভাবে ধারণ করেন। এই ক্যাপচার প্রক্রিয়াটি আনুমানিক সকাল ১১:৫০ মিনিটে EDT (১৫৫০ GMT) সময়ে সম্পন্ন হয়।
HTV-X এর নকশায় একটি কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা এটিকে কেবল একটি সরবরাহকারী যান না রেখে ভবিষ্যতের জন্য একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। এই যানটি ISS থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও কক্ষপথে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, যা এটিকে প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য একটি অনন্য সুযোগ দেয়। উপরন্তু, HTV-X এমন কিছু সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম যা পরিবহনের সময় বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, যেমন রেফ্রিজারেটর বা নিম্ন তাপমাত্রায় রাখার মতো পরীক্ষামূলক নমুনা, যা কুনোতোরি করতে পারত না। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


