নতুন মিউজিক্যাল IMITATION OF LIFE, সঙ্গীত এবং গানসহ
«ইমিটেশন অফ লাইফ»: জন লিজেন্ড এবং লিন নটেজের হাত ধরে নতুন এক মিউজিক্যাল যাত্রা
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
২০২৬ সালের শরতের এক মনোরম সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। অফ-ব্রডওয়ের স্বনামধন্য মঞ্চ 'দ্য শেড' (The Shed)-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফ্যানি হার্স্টের কালজয়ী উপন্যাস 'ইমিটেশন অফ লাইফ'-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার। এই মিউজিক্যাল অ্যাডাপ্টেশন বা সংগীতধর্মী রূপান্তরটি কেবল একটি সাধারণ নাটক নয়, বরং এটি বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের এক অনন্য মিলনমেলা। এই প্রকল্পের লিব্রেটো বা নাট্যরূপ তৈরি করছেন দুইবার পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত নাট্যকার লিন নটেজ। অন্যদিকে, সুরের মূর্ছনা এবং গানের কথা সাজানোর দায়িত্বে রয়েছেন ইজিওটি (EGOT) বিজয়ী কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ড। টনি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত লিজল টমির নির্দেশনায় এবং ন্যাশনাল ব্ল্যাক থিয়েটারের সহ-প্রযোজনায় এই আয়োজনটি একটি মহাকাব্যিক রূপ পেতে যাচ্ছে।
দ্য শেড-এর অন্তর্গত গ্রিফিন থিয়েটারে (Griffin Theater) এই প্রদর্শনীটি মাত্র চার সপ্তাহের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এই 'লিমিটেড এনগেজমেন্ট' বা সীমিত সময়ের প্রদর্শনীটি নির্দেশ করে যে, এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং একটি বিশেষ মুহূর্তকে ধারণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই স্বল্প সময়ের ব্যাপ্তি দর্শকদের মাঝে এক ধরণের গভীর আগ্রহ এবং গুরুত্ব তৈরি করবে, যা ব্রডওয়ে বা অফ-ব্রডওয়ের সাধারণ শোগুলোর চেয়ে আলাদা। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের দাবি মেটাতে এবং দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলতে বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি শৈল্পিক উদ্যোগ।
১৯৩৩ সালে প্রকাশিত মূল উপন্যাস এবং পরবর্তীতে ১৯৩৪ ও ১৯৫৯ সালের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রগুলোর অনুপ্রেরণায় এই মিউজিক্যালের কাহিনী বিন্যস্ত হয়েছে। এর প্রেক্ষাপট ১৯২০-এর দশকের আটলান্টিক সিটির জৌলুস থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর দশকের নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত। গল্পের মূল উপজীব্য হলো দুইজন একক মায়ের জীবনযুদ্ধ—যাদের একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যজন শ্বেতাঙ্গ। তাদের সাথে রয়েছে তাদের কন্যারা, যারা এমন এক প্রতিকূল সমাজে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে যেখানে ভালোবাসা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিনিয়ত বর্ণবাদ ও শ্রেণী বৈষম্যের শিকার হয়। এই পারিবারিক এবং সামাজিক দ্বন্দ্বগুলোই নাটকের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
নাটকের নির্মাতারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, যদিও এই কাহিনীটি গত শতাব্দীর প্রথম দিকের, তবুও এর অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো বর্তমান আধুনিক সমাজেও সমানভাবে বিদ্যমান। বর্ণ, শ্রেণী এবং লিঙ্গ বৈষম্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো আজও আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। এই কারণেই এই গল্পটিকে মিউজিক্যাল থিয়েটারের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সংগীতের মাধ্যমে মানুষের আবেগ, দীর্ঘশ্বাস এবং অব্যক্ত কথাগুলো যেভাবে প্রকাশ করা সম্ভব, তা কেবল গদ্য বা সাধারণ সংলাপে সম্ভব নয়। সুরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক কাহিনীকে এক নতুন প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যা বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
দ্য শেড (The Shed) প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই নতুন এবং সাহসী শিল্পকর্মকে উৎসাহিত করার জন্য পরিচিত। এই প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এই ভেন্যুটি কেবল একটি স্থান হিসেবে নয়, বরং গল্পের মূল দর্শনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। এখানে ধ্রুপদী সাহিত্যকে কোনো রকম কৃত্রিমতা বা ঐতিহাসিক দূরত্ব ছাড়াই বর্তমানের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হবে। এটি এমন একটি সৃজনশীল ক্ষেত্র যেখানে অতীতের ভুল এবং বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা সম্ভব। দর্শকদের জন্য এটি হবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যেখানে তারা ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের বর্তমানকে দেখতে পাবেন এবং কোনো রকম আপোষ ছাড়াই সামাজিক সত্যের মুখোমুখি হবেন।
পরিশেষে বলা যায়, 'ইমিটেশন অফ লাইফ' বিশ্ব সংগীত এবং নাট্যমঞ্চে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা যা সংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যাবে। যে বিভেদগুলো একসময় সমাজকে খণ্ডবিখণ্ড করেছিল, সেই একই কাহিনী আজ সংগীতের সুরে মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। এই মিউজিক্যালটি আমাদের শেখাবে কীভাবে গভীর সহমর্মিতার সাথে অন্যের কথা শুনতে হয় এবং বৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে হয়। এটি এমন এক সুরের সৃষ্টি করবে যা আমাদের অভ্যস্ত শোনার সীমানাকে আরও প্রসারিত করবে।
উৎসসমূহ
TheaterMania
New York City. February 12, 2026.
Playbill
Broadway World
