কৃত্রিম চন্দ্র মাটিতে ছোলা গাছের জীবনচক্র সম্পন্নকরণ: মহাকাশ খাদ্যের নতুন সম্ভাবনা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
টেক্সাস এ এন্ড এম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাফল্য অর্জন করেছেন, যেখানে তাঁরা এমন একটি কৃত্রিম মাধ্যমে ছোলা (Chickpea) গাছকে অঙ্কুরোদ্গম থেকে বীজ উৎপাদন পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনচক্র অতিক্রম করাতে সক্ষম হয়েছেন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের মাটির (Lunar Regolith) অনুকরণে তৈরি। এই গবেষণাটি ভবিষ্যতের মহাকাশ উপনিবেশগুলির জন্য স্বনির্ভর খাদ্য উৎসের পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষক জেসিকা অ্যাটকিন এবং তাঁর সহকর্মীরা এই পরীক্ষায় চাঁদের মাটির বিষাক্ত এবং জীবাণুমুক্ত অনুকরণকে কার্যকর করার জন্য ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচোর সার এবং আর্ভাসকুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাক ব্যবহার করেন। এই উপকারী অণুজীব এবং জৈব উপাদানগুলি ধূলিকণার বিষাক্ত দূষকগুলিকে আবদ্ধ করতে, মাটির গঠন উন্নত করতে এবং উদ্ভিদকে চাপ ও বিষাক্ততার বিরুদ্ধে সহনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। এই গবেষণার একটি প্রধান অর্জন হলো, ছোলা গাছগুলি এমন মিশ্রণেও সফলভাবে বেড়ে উঠেছে যেখানে কৃত্রিম চন্দ্র মাটির পরিমাণ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, যা চন্দ্র উপাদানযুক্ত পরিবেশে একটি শস্যের সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন হওয়ার প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।
তবে, গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে এই পরিবেশে ছোলা গাছে পৃথিবীর স্বাভাবিক ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২০ দিন সময় লেগেছে এবং সমস্ত গাছেই কিছু মাত্রার চাপের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। চাঁদের মাটিতে খাদ্য উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ বহুবিধ, কারণ চন্দ্র রেগোলিথে পৃথিবীর মাটির বিপরীতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এবং উপকারী অণুজীবের অভাব রয়েছে, এছাড়াও সেখানে কম মহাকর্ষ বল, তেজস্ক্রিয়তা এবং বিষাক্ত উপাদান বিদ্যমান। এই বাধাগুলি অতিক্রম করার জন্য, অ্যাটকিন চাঁদের ধূলিকণার গঠন ও পুষ্টি উপাদান উন্নত করার জন্য একটি মাটি সংশোধনকারী উপাদান তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
এই গবেষণায় ব্যবহৃত ছোলা ছিল 'মাইলস' (Miles) নামক একটি দেশি জাত, যা মহাকাশের সীমিত স্থানের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছিল। অ্যাটকিন ছোলা নির্বাচনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে এটি একটি শিম্ব গোত্রীয় ফসল যা ছত্রাকের সাথে উপকারী সম্পর্ক স্থাপন করে এবং অন্যান্য খাদ্য ফসলের তুলনায় কম জল ও নাইট্রোজেন ব্যবহার করে। ছত্রাক, বিশেষত আর্ভাসকুলার মাইকোরাইজা, উদ্ভিদের মূলতন্ত্রকে বিস্তৃত করতে এবং মাটি থেকে ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান গ্রহণে সহায়তা করে, যা চন্দ্র মাটিতে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চন্দ্র ঘাঁটিতে বদ্ধ বাস্তুতন্ত্র (Closed Ecosystems) তৈরির পথ খুলে দেবে, যেখানে পৃথিবী থেকে আনা প্রতিটি গ্রাম পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নভোচারীদের খাদ্যতালিকায় তাজা প্রোটিনের সংযোজন সম্ভব হবে এবং বিচ্ছিন্ন মডিউলের মধ্যে সবুজ গাছপালার উপস্থিতি মানসিক স্বস্তিও দেবে। তবে, এই সাফল্যের পরেও উৎপাদিত বীজের নিরাপত্তা এবং পুষ্টিগুণ যাচাই করার জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকরা বর্তমানে মিশ্রণের উপাদানগুলিকে আরও অপ্টিমাইজ করার দিকে নজর দিচ্ছেন যাতে পার্থিব উপাদানের অনুপাত ন্যূনতম রাখা যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যখন ১০০ শতাংশ চন্দ্র অনুকরণে কোনো পুষ্টি সংযোজন ছাড়াই বীজ রোপণ করা হয়েছিল, তখন গাছগুলি ফুল ফোটার আগেই মারা গিয়েছিল, যা সংশোধিত মাটির অপরিহার্যতা প্রমাণ করে। এই ধরনের কৃষি প্রযুক্তি মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা মহাকাশচারীদের দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। এই গবেষণার সহ-গবেষক, সারা অলিভেইরা সান্তোস, যিনি টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের একজন ফেলো, তিনি এই চ্যালেঞ্জিং উপাদানে উদ্ভিদ জন্মানোর ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলি ভবিষ্যতের চন্দ্র পৃষ্ঠে মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী বসতি স্থাপনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মজবুত করছে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
avalanchenoticias.com.br
Click Petróleo e Gás
AgriLife Today
Ukrainian National News (UNN)
Folha de S.Paulo
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



