৭৫তম বার্লিনালে ‘লিভিং অন আর্থ’ ছবির জন্য সেরা পরিচালকের সিলভার বিয়ার জিতলেন হুও মেং; ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলে মুক্তি
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
৭৫তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চীনা সিনেমা ‘লিভিং অন আর্থ’ (Sheng Xi Zhi Di) এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বখ্যাত আসরে ছবিটির পরিচালক হুও মেং সেরা পরিচালনার জন্য সম্মানজনক ‘সিলভার বিয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত হন। গ্রামীণ চীনের দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং প্রজন্মের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই পুরস্কার প্রাপ্তি সমকালীন বিশ্ব চলচ্চিত্রে চীনা নির্মাতাদের শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।
২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭৫তম বার্লিনালের মূল প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার বা বিশ্ব প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালের পটভূমিতে নির্মিত এই কাহিনীতে যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক অগ্রগতির সাথে সনাতন কৃষি ঐতিহ্যের যে সংঘাত, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছে দশ বছর বয়সী শিশু সিউ চুয়ান, যাকে তার প্রপিতামহীর কাছে রেখে তার বাবা-মা উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় শেনঝেনে পাড়ি জমান। সাংহাই ফিল্ম গ্রুপের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা ইয়াও চেন, যার উপস্থিতি ছবিটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
ছবিটির অসাধারণ দৃশ্যশৈলী এবং বিলীয়মান ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার নিখুঁত চিত্রায়ন আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর জর্ডান মিন্টজার তার পর্যালোচনায় মন্তব্য করেছেন যে, হুও মেং একজন দক্ষ শিল্পীর মতো অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও সৌন্দর্যের সাথে দর্শকদের একটি প্রত্যন্ত চীনা কৃষি সমাজের গভীরে নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সমালোচক শি ওয়েনশুয়ে উল্লেখ করেন যে, বার্লিনালের সামাজিক বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণেই এই ছবিটি জুরিদের মন জয় করেছে, যা মূলত নগরায়নের প্রবল চাপে বংশীয় কাঠামোর অবক্ষয়কে সাহসের সাথে তুলে ধরে।
চীনা কৃষকদের চারটি প্রজন্মের জীবনগাথা ও সংগ্রামের কথা বলা এই চলচ্চিত্রটি ইতিপূর্বেও ২০২২ সালে ৩৫তম ‘গোল্ডেন রুস্টার’ ফিল্ম প্রজেক্ট মার্কেটে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছিল। ১৩২ মিনিটের এই দীর্ঘ ছবিটিতে হেনান প্রদেশের স্থানীয় উপভাষার ব্যবহার এবং ডকুমেন্টারি ধাঁচের সিনেমাটোগ্রাফি ১৯৯০-এর দশকের উত্তর চীনের গ্রামীণ আবহকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছে। বার্লিনালের সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৭০তম ভ্যালাডোলিড আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং ভারতের ৫৬তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও (IFFI) প্রদর্শিত হয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
হুও মেং-এর এই আন্তর্জাতিক অর্জন বিশ্বমঞ্চে চীনের অভ্যন্তরীণ সামাজিক রূপান্তর ও গ্রামীণ জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতাকে পুনরায় প্রমাণ করে। উল্লেখ্য যে, একই উৎসবে ড্যাগ জোহান হগারুড পরিচালিত নরওয়েজীয় চলচ্চিত্র ‘ড্রিমস’ সেরা ছবির জন্য ‘গোল্ডেন বিয়ার’ জয় করে এবং গ্যাব্রিয়েল মাসকারোর ব্রাজিলীয় ডিস্টোপিয়ান ছবি ‘ব্লু রোড’ জুরি গ্র্যান্ড প্রাইজ লাভ করে। ‘লিভিং অন আর্থ’-এর এই বিশ্বব্যাপী সাফল্য কৃষিপ্রধান অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের বাস্তবসম্মত ও শৈল্পিক চিত্রায়নের গুরুত্বকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
1 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Correio Braziliense
Portal Splish Splash
Blog - O Regional
IONCINEMA.com
m-appeal
China News Service
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।