পল ম্যাককার্টনির নতুন তথ্যচিত্র ‘ম্যান অন দ্য রান’: উইংস ব্যান্ডের যুগ এবং মুক্তির বিস্তারিত তথ্য

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর ঐতিহাসিক বিচ্ছেদের পর পল ম্যাককার্টনির সংগীত জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সেই সময়ের সৃজনশীল বিবর্তন এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন তথ্যচিত্র ‘পল ম্যাককার্টনি: ম্যান অন দ্য রান’ (Paul McCartney: Man on the Run)। এই চলচ্চিত্রটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অস্কার, এমি এবং গ্র্যামি জয়ী প্রখ্যাত নির্মাতা মরগান নেভিল। তিনি তার সূক্ষ্ম নির্মাণশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, বিশেষ করে ‘২০ ফিট ফ্রম স্টারডম’ এবং ‘ওন্ট ইউ বি মাই নেইবার’-এর মতো কাজের মাধ্যমে তিনি সাংস্কৃতিক প্রামাণ্যচিত্রের জগতে নিজের বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। এই নতুন সিনেমাটি মূলত ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে পলের প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশের পরবর্তী এক দশককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যখন তিনি আইনি লড়াই এবং সমালোচকদের কড়া মন্তব্যের হাত থেকে বাঁচতে স্ত্রী লিন্ডাকে নিয়ে স্কটল্যান্ডের নির্জনতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এই তথ্যচিত্রটি পলের নতুন ব্যান্ড ‘উইংস’ (Wings) গড়ে তোলার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে। উইংস পরবর্তীকালে সত্তরের দশকের অন্যতম ব্যবসাসফল এবং জনপ্রিয় ব্যান্ডে পরিণত হয়েছিল। লিন্ডা ম্যাককার্টনির ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে নেওয়া কিছু অপ্রকাশিত ছবি এই চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের পলের ব্যক্তিগত জীবনের খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে। পলের দুই কন্যা মেরি ও স্টেলা ম্যাককার্টনি ছাড়াও এতে উইংস ব্যান্ডের প্রাক্তন সদস্য, শন ওনো লেনন, মিক জ্যাগার এবং ক্রিসি হাইন্ডের মতো সংগীত জগতের মহাতারকাদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিটলসের মতো বিশাল সাফল্যের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে একজন স্বাধীন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার যে কঠিন চ্যালেঞ্জ পল গ্রহণ করেছিলেন, তার এক বহুমাত্রিক চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে।

চলচ্চিত্রটি বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ মিলবে মাত্র একদিনের জন্য। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাফালগার রিলিজিং-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাগৃহে এটি প্রদর্শিত হবে। যারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে এই সিনেমাটি দেখবেন, তাদের জন্য থাকবে একটি বিশেষ উপহার—পল ম্যাককার্টনি এবং পরিচালক মরগান নেভিলের একটি বিশেষ কথোপকথন, যা কোনো অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে না। তবে যারা প্রেক্ষাগৃহে যেতে পারবেন না, তাদের জন্য ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও (Prime Video) এই তথ্যচিত্রটি তাদের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে। বিশ্বের ২৪০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের দর্শকরা ঘরে বসেই এই অসাধারণ সৃষ্টিটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এই প্রামাণ্যচিত্রের মুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে উইংস ব্যান্ডের স্বর্ণযুগকে স্মরণ করতে নতুন মিউজিক কালেকশন এবং একটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিহাসবিদ টেড উইডমার সম্পাদিত ‘উইংস: দ্য স্টোরি অফ আ ব্যান্ড অন দ্য রান’ শীর্ষক এই বইটিতে ১৯৮১ সালে ব্যান্ডটি ভেঙে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের নয়টি অ্যালবামের বিস্তারিত ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। এই সময়কালটি ছিল পলের জীবনের অন্যতম নাটকীয় পর্যায়, যেখানে একদিকে ছিল সংগীতের আকাশচুম্বী সাফল্য, আর অন্যদিকে ছিল ১৯৮০ সালে জন লেননের অকাল মৃত্যু এবং জাপানে পলের গ্রেফতার হওয়ার মতো ব্যক্তিগত বিপর্যয়। পলের নিজের ভাষায়, এটি ছিল বিটলস পরবর্তী ‘একেবারে শূন্য থেকে শুরু’ করার একটি সংগ্রাম, যেখানে তিনি বিশ্বকে উইংসের সক্ষমতা এবং প্রভাব প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Metro

  • Új Szó online

  • Everett Post

  • UNCUT

  • Wikipedia

  • Sedona.Biz

  • Sortiraparis

  • Everett Post

  • UNCUT

  • Get tickets

  • AXS TV

  • Fandango

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।