বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ অভিনীত 'দ্য থিং উইথ ফেদার্স': পুরুষালি শোকের নতুন দিগন্ত
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
বিখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ বর্তমানে রুপোলি পর্দায় এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এসেছেন, যার নাম ‘দ্য থিং উইথ ফেদার্স’ (The Thing with Feathers)। এই চলচ্চিত্রটি পুরুষদের শোক প্রকাশের চিরাচরিত ধারণাকে গভীরভাবে প্রশ্ন করে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ডিলান সাউদার্ন। এটি মূলত ম্যাক্স পোর্টারের ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই সিনেমাটি শোক প্রকাশের জটিল, বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়াটিকে তুলে ধরে, যা এটিকে অন্যান্য সরল শোকগাথা থেকে আলাদা করে তুলেছে।
কাম্বারব্যাচ এখানে এমন এক বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি হঠাৎ স্ত্রী বিয়োগের পর দুই ছোট ছেলে, রিচার্ড এবং হেনরি বকসলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। অভিনেতা পোর্টারের উপন্যাসের মূল ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দুর্বলতার মধ্যেও শক্তি খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। উল্লেখ্য, পোর্টারের এই কাহিনি তাঁর নিজের বাবাকে হারানোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেই ‘বাবা’ (স্ক্রিপ্টে কেবল ‘পাপা’ নামে পরিচিত), যিনি স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে একা হয়ে পড়েন এবং এর ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন। এই গভীর মানসিক বিপর্যয়কে দৃশ্যমান করার জন্য ছবিতে একটি পরাবাস্তব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে—একটি কাক, যা তাদের লন্ডনের অ্যাপার্টমেন্টে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবেশ করে। ডেভিড ট্যুলিস কণ্ঠ দিয়েছেন এই চরিত্রের, যে একইসঙ্গে প্রধান চরিত্রকে তাড়া করে, উপহাস করে এবং সান্ত্বনাও দেয়। ম্যাক্স পোর্টারের ভাষায়, এই কাকটি যেন এক ‘উন্মাদ ফ্রয়েডীয় থেরাপিস্ট’ হিসেবে কাজ করে।
সাউদার্ন পরিচালিত চিত্রনাট্যটি মূল বইয়ের তিন-অংশের কাঠামো—‘পাপা’, ‘ছেলেরা’ এবং ‘কাক’—অক্ষুণ্ণ রেখেছে। তবে, টেড হিউজের কবিতার সরাসরি উদ্ধৃতির মতো কিছু সাহিত্যিক উপাদান এতে বাদ দেওয়া হয়েছে। কাম্বারব্যাচ বিশেষভাবে কাকের দৃশ্যায়ন নিয়ে কাজ করেছেন, যেখানে শোকের মূর্ত প্রতীক হিসেবে কাকটি বাস্তবে উপস্থিত হয়। কাকের শারীরিক রূপদান করেছেন অভিনেতা এরিক ল্যাম্পার্ট, আর ট্যুলিস তার কণ্ঠ দিয়েছেন। এই কণ্ঠস্বরটি বাবার মানসিক ক্ষতস্থানে বিদ্রূপাত্মকভাবে আঘাত হানে। ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য পরিচিত পরিচালক ডিলান সাউদার্ন এই পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্রের মাধ্যমে ফিচার ফিল্মে আত্মপ্রকাশ করলেন।
চলচ্চিত্রটি ২০২৪ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (BFI) থেকে সমর্থন লাভ করে। এর বিশ্বব্যাপী যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে এটি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। পরিবেশক ভিউ লুমিয়ের (Vue Lumière) যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এর মুক্তির স্বত্ব কিনেছে এবং মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করেছে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর। সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, মেটাক্রিটিক-এ ১৩টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি ৫০/১০০ স্কোর অর্জন করেছে। পর্যালোচকরা কাম্বারব্যাচের অনবদ্য অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন, যদিও কেউ কেউ এর ‘অসম চরিত্রায়ন’-এর দিকে আঙুল তুলেছেন। ১০৪ মিনিটের এই ছবিটি বোঝাতে চায় যে শোক কোনো সরলরৈখিক পথ নয়, বরং এটি একটি ভাঙা মনস্তত্ত্বের প্রকাশ, যা ‘ডু নট লুক নাউ’ এবং ‘সোলারিস’-এর মতো শোকভিত্তিক কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উৎসসমূহ
The Irish News
Breaking News.ie
Wikipedia
Soap Central
Just Jared
The Guardian
NME
The Guardian
The Hollywood Reporter
The Independent
People
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
