রায়ান কুগলার পরিচালিত সিনেমা ‘সিনার্স’ (Sinners) ২০২৬ সালের অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডসে (যা আগে এসএজি অ্যাওয়ার্ডস বা স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডস নামে পরিচিত ছিল) সেরা এনসেম্বল কাস্টের পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের ১ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের শ্রাইন অডিটোরিয়ামে জমকালো এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় এবং নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এই জয় আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অস্কারের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদের আগের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।
ভ্যাম্পায়ার সাগা এবং ব্লুজ সঙ্গীতের এক অনন্য সংমিশ্রণে তৈরি এই ছবিটি পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ (One Battle After Another)-কে পেছনে ফেলে দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, অ্যান্ডারসনের ছবিটি এর আগে গোল্ডেন গ্লোব, প্রডিউসার্স গিল্ড, বাফটা (BAFTA) এবং ডিরেক্টরস গিল্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এই অর্জনের মাধ্যমে রায়ান কুগলার ইতিহাসে প্রথম পরিচালক হিসেবে দুটি ভিন্ন চলচ্চিত্রের জন্য সেরা এনসেম্বল পুরস্কার জয়ের রেকর্ড গড়লেন; এর আগে ২০১৯ সালে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবির জন্য তিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ এবং ‘হ্যামলেট’-এর মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে কুগলার প্রমাণ করেছেন যে, তিনি বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি ছোট পরিসরের বিষয়ভিত্তিক সিনেমাতেও সমান পারদর্শী।
স্মোক এবং স্ট্যাক নামক যমজ ভাইয়ের দ্বৈত চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য মাইকেল বি জর্ডান ‘সেরা প্রধান অভিনেতা’র পুরস্কার লাভ করেন। এই বিভাগে তিনি টিমোথি শালামেকে পরাজিত করেছেন। এটি জর্ডানের প্রথম একক অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ড, কারণ এর আগে তিনি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবির পুরো টিমের সাথে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছিলেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় জর্ডান পরিচালক কুগলারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, সৃজনশীল ঝুঁকি নেওয়ার জন্য কুগলার তাকে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিলেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসরে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ী ব্যক্তি প্রায় ৭৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অস্কারও জিতে নেন, যা ১৫ মার্চের চূড়ান্ত লড়াইয়ে জর্ডানকে অনেকখানি এগিয়ে রাখল।
অন্যদিকে, নারী বিভাগে জেসি বাকলি তার আধিপত্য বজায় রেখেছেন। ‘হ্যামলেট’ (Hamnet) চলচ্চিত্রে অ্যাগনেস শেক্সপিয়রের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ‘সেরা প্রধান অভিনেত্রী’র পুরস্কার জিতে অস্কারের দৌড়ে নিজেকে ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই জয়ের মাধ্যমে বাকলি চলতি মৌসুমে গোল্ডেন গ্লোব, ক্রিটিকস চয়েস এবং বাফটার পর আরও একটি বড় পুরস্কার নিজের ঝুলিতে ভরলেন। তিনি প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ক্রিস্টেন বেলের সঞ্চালনায় ২০২৬ সালের এই অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে যে, সহকর্মীদের ভোটে নির্বাচিত এই পুরস্কারগুলো অস্কারের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
পরিশেষে উল্লেখ্য যে, ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রটি অস্কারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬টি মনোনয়ন পেয়ে ইতিমধ্যে একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডসের এই ফলাফল পুরস্কার মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এখন চলচ্চিত্র প্রেমীদের নজর ১৫ মার্চের দিকে, যেখানে অস্কারের মূল মঞ্চে সেরা হওয়ার লড়াইটি হবে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি এবং রোমাঞ্চকর। এই জয়গুলো কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সিনেমার গুণগত পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।



