খবর অনুযায়ী Andrew Mountbatten-Windsor, রাজা Charles-এর ভাই, নতুন আপত্তিজনক প্রকাশনার পর তার বিলাসবহুল বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন।
এপস্টাইন নথি প্রকাশ: ইউরোপীয় রাজপরিবারগুলোতে নতুন কেলেঙ্কারির ঢেউ
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের ফলে ইউরোপের রাজপরিবারগুলোতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনসমক্ষে আসা এই নথিপত্রগুলো দণ্ডিত অর্থদাতা এপস্টাইনের সাথে অভিজাত মহলের অজানা সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের রাজতন্ত্রে বিদ্যমান সংকটগুলো আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং উচ্চবিত্তদের নৈতিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এই নথিপত্রগুলো মূলত অভিজাত নেটওয়ার্কের নৈতিক অবক্ষয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরেছে যা আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস Mette-Marit নরওয়েজীয় জনগণ ও রাজপরিবারকে তার অতীত বন্ধুত্বের জন্য গভীর ক্ষমা চেয়েছেন, মৃত Jeffrey Epstein–র সঙ্গে.
যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের ওপর জনচাপ তীব্রতর হয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, যখন এসেক্সের ডেডহ্যামে একটি জনসভায় রাজা তৃতীয় চার্লস সরাসরি সমালোচনার মুখে পড়েন। একজন বিক্ষোভকারী রাজাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে, এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশের পর তিনি তার ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে তদন্তে পুলিশকে কোনোভাবে প্রভাবিত করছেন কি না। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অ্যান্ড্রু তার রয়্যাল লজ বাসভবন ত্যাগ করেন, যা রাজার চরম অসন্তোষের ফল বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের উড ফার্মে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে মার্শ ফার্মের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। এদিকে টেমস ভ্যালি পুলিশ ২০১০ সালে রয়্যাল লজে যৌন নির্যাতনের একটি নতুন অভিযোগ খতিয়ে দেখছে, যেখানে এক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন যে তাকে যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল।
এপস্টাইনের ফাইল থেকে উদ্ধারকৃত নতুন তথ্যে অ্যান্ড্রুর সাথে এক অজ্ঞাত মহিলার একটি তারিখহীন ছবি এবং ২০২০ সালের পর এপস্টাইনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজে আমন্ত্রণের ইঙ্গিতবাহী ইমেল পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু বিতর্কিত ছবিও সামনে এসেছে যেখানে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে এক অজ্ঞাত মহিলার ওপর আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, যা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই নতুন অভিযোগগুলো ২০০৩ সালের যৌন অপরাধ আইনের আওতাভুক্ত, যা ভার্জিনিয়া জুফ্রে কর্তৃক উত্থাপিত ২০০১ সালের অভিযোগ থেকে আইনিভাবে ভিন্ন। এই প্রমাণগুলো রাজপরিবারের ভাবমূর্তিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
নরওয়েতে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটকে নিয়ে এক ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে, কারণ ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত নথিতে তার নামের প্রায় ১০০০টি উল্লেখ পাওয়া গেছে। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টাইনের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে, যা রাজপ্রাসাদের পূর্ববর্তী বিবৃতির চেয়েও দীর্ঘকালীন সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। ২০১৩ সালে তিনি এপস্টাইনের পাম বিচ হাউসে অবস্থান করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে, যা রাজপ্রাসাদের আগের দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করে। ২০১২ সালের ইমেলগুলোতে দেখা যায় যে, তিনি তার তৎকালীন ১৫ বছর বয়সী ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবির জন্য বিশেষ ধরনের ওয়ালপেপার এবং কসমেটিক ট্রিটমেন্ট নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে 'সেক্স ওগ সামফুন' (Sex og Samfunn) নামক সংস্থাটি রাজকুমারীর ওপর থেকে তাদের দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
রাজকুমারীর এই কেলেঙ্কারির মাঝেই তার ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ওসলো জেলা আদালতে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ মোট ৩৮টি অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটররা এটিকে নরওয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও গুরুতর যৌন অপরাধের তদন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও হইবি আদালতের শুনানিতে প্রধান অভিযোগগুলোতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন, তবে এই মামলাটি রাজপরিবারের জন্য এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
এপস্টাইন নথির পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চের একজন প্রাক্তন কর্মচারীর পাঠানো একটি অসমর্থিত ইমেল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে রেডিও উপস্থাপক এডি আরাগনের কাছে পাঠানো সেই ইমেলে দাবি করা হয় যে, এপস্টাইন সেখানে দুই বিদেশি তরুণীকে হত্যার পর সমাহিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও এফবিআই এই অভিযোগটি 'গার্ডিয়ান' কমপ্লেইন্ট ফর্মে নথিভুক্ত করেছে, তবে র্যাঞ্চটিতে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তল্লাশি চালানো হয়নি। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিটকয়েনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি থাকায় এটি একটি চাঁদাবাজির চেষ্টাও হতে পারে, তবে এপস্টাইনের কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান আইনি তদন্তে এই বিষয়টি এখনও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
উৎসসমূহ
Daily Mail Online
The Sun
Bild
Anadolu Agency
Substack
Forbes
AP News
Reddit
YouTube
Wikipedia
Daily Jang
CBS News
People.com
PBS
East Anglian Daily Times
The Guardian
The Sun Online
Wikipedia
HELLO! Magazine
Venture
EL PAÍS
People.com