আস্ট্রোনমাররা Milky Way-এর একটি গোপন চৌম্বকিক কঙ্কাল আবিষ্কার করেছে। Milky Way গ্যালাক্সির একটি ডায়াগ্রাম Sagittarius-এ উল্টো চৌম্বক ক্ষেত্রটি দেখায়।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির স্যাজিটেরিয়াস বাহুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের জটিল রহস্য উন্মোচন
লেখক: Uliana S.
২০২৬ সালের শুরুর দিকে পরিচালিত অত্যাধুনিক রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি পর্যবেক্ষণ আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির লুকানো চৌম্বকীয় কাঠামোর একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছে। এই শক্তিশালী চৌম্বকীয় রেখাগুলো আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের গতিশীলতা এবং নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা গ্যালাক্সির বিবর্তন বোঝার জন্য মৌলিক বিষয়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগারির ডক্টর জো-অ্যান ব্রাউন এই গবেষণার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের উপস্থিতি না থাকলে আমাদের গ্যালাক্সিটি তার নিজস্ব মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে অনিবার্যভাবে ভেঙে পড়ত।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগারির পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ব্রাউনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে 'The Astrophysical Journal' এবং 'The Astrophysical Journal Supplement Series'-এ দুটি পৃথক বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ডোমিনিয়ন রেডিও অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরিতে (DRAO) অবস্থিত রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গবেষক দলটি একটি বহুমুখী ফ্রিকোয়েন্সি পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল অফ কানাডার এই কেন্দ্রে ৩৫০ থেকে ১০৩০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পরিসরে উত্তর আকাশ স্ক্যান করে জিএমআইএমএস (GMIMS - Global Magneto-Ionic Medium Survey) প্রকল্পের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো মিল্কিওয়ের চৌম্বক ক্ষেত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র তৈরি করা।
ওভারল্যাপ হওয়া সংকেতগুলোকে আলাদা করার জন্য এই গবেষণায় 'ফ্যারাডে রোটেশন' নামক একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮৪৫ সালে মাইকেল ফ্যারাডে প্রথম এই প্রভাবটি লক্ষ্য করেন, যেখানে রেডিও তরঙ্গ যখন চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত আয়নিত গ্যাসের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এর পোলারাইজেশন তলের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের মাত্রা বা বিচ্যুতি পর্যবেক্ষণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দৃষ্টিরেখা বরাবর চৌম্বক ক্ষেত্রের উপাদানগুলো পরিমাপ করতে সক্ষম হন। এটি মহাজাগতিক চৌম্বকীয় স্থাপত্য শনাক্ত করার জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
এই গবেষণার একটি বিশেষ অংশ ছিল গ্যালাক্সির অন্যতম বৃহৎ সর্পিল কাঠামো 'স্যাজিটেরিয়াস বাহু'। সেখানে একটি বিস্ময়কর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে: এই বাহুর চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক সাধারণ গ্যালাকটিক ক্ষেত্রের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। ডক্টর ব্রাউন বিশদভাবে জানিয়েছেন যে, উপর থেকে দেখলে গ্যালাক্সির মূল চৌম্বক ক্ষেত্রটি ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হয়, কিন্তু স্যাজিটেরিয়াস বাহুতে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরছে। ড্রাগনস (DRAGONS - DRAO GMIMS of the Northern Sky) প্রকল্পের অংশ হিসেবে করা এই আবিষ্কারটি প্রথমবারের মতো এত বিশাল পরিসরে চৌম্বকীয় কাঠামোর এমন জটিলতা প্রদর্শন করল।
দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক রেবেকা বুথ একটি নতুন ত্রিমাত্রিক মডেল উপস্থাপন করেছেন, যা পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণের সময় এই বিপরীতমুখী অবস্থাকে একটি তির্যক কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করে। সম্পূর্ণ এবং নির্ভুলভাবে ক্যালিব্রেট করা এই ডেটাসেটটি বিশ্ব জ্যোতির্বিজ্ঞানে কানাডার এক উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে। এই জরিপে আরও দেখা গেছে যে, প্রায় ৫৫ শতাংশ দৃষ্টিরেখায় ফ্যারাডে জটিলতা বিদ্যমান, যা গ্যালাকটিক চৌম্বক ক্ষেত্রের উচ্চমাত্রার অসমতা বা ভিন্নতাকে নির্দেশ করে।
এই নতুন তথ্যগুলো মহাকাশ বিজ্ঞানীদের গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং এর কাঠামোগত অখণ্ডতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। মহাজাগতিক ধূলিকণা এবং গ্যাসের মেঘ কীভাবে এই চৌম্বকীয় শক্তির প্রভাবে বিন্যস্ত থাকে, তা এখন আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে। এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং নক্ষত্রমণ্ডলীর গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।