ব্রহ্মাণ্ড বিগব্যাংয়ের 1 বিলিয়ন বছর পরে মেগা-স্ট্রাকচার তৈরি করেছে, মানক মডেলগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এবং চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির যৌথ তথ্যের ভিত্তিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি বিশাল গ্যালাক্সি প্রোটোক্লাস্টার বা ছায়াপথ স্তবকের সন্ধান পেয়েছেন, যা ধারণার চেয়ে অনেক আগেই গঠিত হয়েছিল। JADES-ID1 নামে পরিচিত এই কাঠামোটি বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাত্র এক বিলিয়ন বছর পরেই একত্রিত হতে শুরু করেছিল। বর্তমান মহাজাগতিক মডেল অনুযায়ী, এই আকারের কাঠামোর বিকাশের জন্য যে সময়ের প্রয়োজন, তার চেয়ে এটি অন্তত এক থেকে দুই বিলিয়ন বছর এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি 'নেচার' (Nature) সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে, মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য বস্তুর পুঞ্জীভূত হওয়া এবং বৃহৎ কাঠামোর বিকাশ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটেছে।
জেডব্লিউএসটি অ্যাডভান্সড ডিপ এক্সট্রাগ্যাল্যাকটিক সার্ভে (JADES)-এর অংশ হিসেবে ওয়েব অবজারভেটরি 'চন্দ্র ডিপ ফিল্ড সাউথ' অঞ্চলে অন্তত ৬৬টি সম্ভাব্য সদস্য গ্যালাক্সি শনাক্ত করেছে। চন্দ্র অবজারভেটরি এই অঞ্চলে উত্তপ্ত গ্যাসের একটি হ্যালো বা বলয় খুঁজে পেয়েছে যা এক্স-রে বিকিরণ করছে—এটি একটি সক্রিয়ভাবে গঠিত প্রোটোক্লাস্টারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, JADES-ID1-এর মোট ভর সূর্যের ভরের প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন গুণের সমান। হার্ভার্ড অ্যান্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (CfA)-এর প্রধান গবেষক আকোশ বোগদান (Akos Bogdan) জানিয়েছেন যে, JADES-ID1 সম্ভবত এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে দূরবর্তী প্রোটোক্লাস্টার হতে পারে।
এই পর্যবেক্ষণটি মহাজাগতিক কাঠামো গঠনের মানক মডেলগুলোকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। প্রচলিত তত্ত্বে ধারণা করা হয়েছিল যে, এই আকারের প্রোটোক্লাস্টারগুলো বিগ ব্যাং-এর অন্তত তিন বিলিয়ন বছর পর গঠিত হতে শুরু করবে। মিউনিখের লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ক্লাউস ডোলাগ (Klaus Dolag) উল্লেখ করেছেন যে, এই আবিষ্কারটি হয় ডার্ক ম্যাটার জমার গতি নিয়ে প্রচলিত তত্ত্ব পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা দেখাচ্ছে, অথবা বিদ্যমান সরলীকৃত মহাজাগতিক মডেলগুলোর কোনো ত্রুটি নির্দেশ করছে।
২০২৬ সালের সমসাময়িক অন্যান্য আবিষ্কারগুলোও প্রাথমিক মহাবিশ্বের অপ্রত্যাশিত দ্রুত বিকাশের প্রমাণ দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েব টেলিস্কোপের NIRSpec যন্ত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া MoM-z14 নামক একটি গ্যালাক্সি বিগ ব্যাং-এর মাত্র ২৮০ মিলিয়ন বছর পরেই অস্তিত্বশীল ছিল। এমআইটি (MIT)-র কাভলি ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক রোহান নাইডু (Rohan Naidu) জানিয়েছেন যে, MoM-z14-এ প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা নাক্ষত্রিক বিবর্তনের বর্তমান মডেলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে। কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক প্রজন্মের নক্ষত্র তৈরি হয়ে গ্যাসকে এই পর্যায়ে সমৃদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হতো।
এছাড়াও, MoM-z14 গ্যালাক্সিটি তার চারপাশের আদিম হাইড্রোজেন কুয়াশা পরিষ্কার করার লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা মহাবিশ্বের রিআয়নাইজেশন বা পুনঃআয়নন যুগের সাথে সম্পর্কিত। JADES-ID1 এবং MoM-z14 থেকে প্রাপ্ত সম্মিলিত তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণাগুলো অসম্পূর্ণ। বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এখন আরও তথ্য সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ করছে যাতে বোঝা যায় JADES-ID1 কি কেবল একটি বিরল ঘটনা, নাকি এটি মহাজাগতিক মডেলগুলোতে মৌলিক কোনো পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।