গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইরানের রাজধানী তেহরানের উপর কালো, সম্ভাব্য বিষাক্ত বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা গেছে, যা তার আগের দিন ইসরায়েলি বাহিনীর জ্বালানি ডিপোগুলোতে চালানো ব্যাপক আক্রমণের ফল। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত তাৎক্ষণিক পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত অ্যাসিড বৃষ্টির দূষণ নিয়ে। এই অবকাঠামোগত আঘাতগুলো, যা রাজধানী জুড়ে দৃশ্যমান ব্যাপক ধোঁয়া সৃষ্টি করেছিল, তা চলমান সংঘাতে কৌশলগত ভিন্নতা নির্দেশ করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণ হিসেবে ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট বিশাল তেল আগুনকে নিম্নচাপ আবহাওয়া ব্যবস্থার সাথে মিলিত হওয়ার ফল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই তেল আগুনে সালফার ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৃষ্টির জলের সাথে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে এই বৃষ্টির সংস্পর্শে আসার পর অনেক গাড়ির রঙ নষ্ট হয়ে গেছে এবং রাস্তায় বের হওয়া মানুষজন গলাব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইআরসিএস) এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ তেল ও রাসায়নিক স্থাপনার বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত কণা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষত ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের উপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার পক্ষ থেকে নাগরিকদের খোলা জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং যতটা সম্ভব বাড়িতে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, কারণ বৃষ্টির পর গরম মাটি থেকে বাষ্পীভূত বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান নাগরিকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানালেও, দৈনিক তেল গ্রহণের সীমা ৩০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতির উপর চাপ নির্দেশ করে। তেহরানের শাহরান তেল ডিপো এবং উত্তর-পূর্ব তেহরানের আঘদাসিয়েহ তেল গুদামসহ কারাজ শহরের বিশাল তেল সংরক্ষণাগারগুলো হামলার শিকার হয়েছিল। এই হামলায় অন্তত চারজন ট্যাংকারচালক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে এই ডিপোগুলি ইরানের সামরিক বাহিনী সামরিক স্থাপনা পরিচালনায় ব্যবহার করত এবং এগুলো থেকে বিভিন্ন ভোক্তা, বিশেষ করে সামরিক ইউনিটগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। আইডিএফ আরও জানিয়েছে যে ইসরায়েলের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে তেহরানকে সতর্ক করার জন্যই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই এই আক্রমণকে 'ইরানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোতে সরাসরি হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা শেষবার ২০২২ সালের জুনে দেখা গিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার মাত্রা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং তেল পুড়িয়ে শেষ না করে বরং তা বাঁচানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যদিও হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।



