চীনের দক্ষিণাংশে ঠাণ্ডা হাওয়ার এক তরঙ্গ Shanghaiয়ে বিরল বরফপাত নিয়ে এসেছে।
মধ্য ও পূর্ব চীনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, সাংহাইয়ে বিরল তুষারপাত
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17
মধ্য ও পূর্ব চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে একটি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হেনেছে, যার ফলে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের ঘটনা ঘটছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতি দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, বিশেষত সাংহাইয়ের মতো প্রধান মহানগরীতে।
শাংহাইয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে তুষার পড়েনি.
২০২৬ সালের ২০শে জানুয়ারি, মঙ্গলবার, সাংহাই শহরে বিরল তুষারপাতের সাক্ষী ছিল, যা একটি তাৎপর্যপূর্ণ আবহাওয়াগত ঘটনা। এই তুষারপাতের ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এর ঠিক আগের সপ্তাহে স্থানীয় গাছপালা অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে অকাল প্রস্ফুটিত হয়েছিল, যা জলবায়ুগত চরম বৈপরীত্যের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের বিরল ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেমনটি পূর্বে সৌদি আরবের মতো উষ্ণ অঞ্চলেও দেখা গেছে।
এই ভোরের হালকা তুষারপাত Shanghai-কে এক নরম, নিঃশব্দ বিস্ময়কর জগতে পরিণত করে.
এই তীব্র শীতকালীন ব্যবস্থার কারণে, চীন সরকার জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। এই আকস্মিক শীতলতা এবং তুষারপাত চীনের জাতীয় দুর্যোগ কমিশনকে স্তর IV জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করতে বাধ্য করেছে, যা শীতকাল শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ব্যাপক বৃষ্টি, তুষার এবং জমাট বাঁধার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে ১২টি প্রদেশে বরফের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণাভিমুখে ধেয়ে আসা এই শৈত্যপ্রবাহের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রেখেছে, যা জনসাধারণের সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
এই বৈশ্বিক আবহাওয়ার প্যাটার্নগুলো জলবায়ুগত অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারপাত হয়েছে এবং জাপানের উত্তর-পশ্চিম উপকূলেও ভারী তুষারপাত ও বাতাসের কারণে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। সাংহাইয়ের ক্ষেত্রে, পূর্ববর্তী সপ্তাহে উদ্ভিদের অকাল প্রস্ফুটন এবং তার পরপরই তীব্র তুষারপাত এই অস্থিরতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
এই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব শুধু পরিবহন বা পর্যটনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও চীন ২০২৫ সালে ৫% হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল, এমন ব্যাপক আবহাওয়া বিপর্যয় সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল করতে পারে, যা বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্থরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে, জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং রাস্তা বন্ধের মতো পদক্ষেপগুলি সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ। সাংহাইয়ের মতো শহরগুলিতে, যেখানে সাধারণত শীতকালে সেন্ট্রাল হিটিং-এর অভাবের কারণে স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা অনুভূত হয়, সেখানে এই তুষারপাত একটি অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
উৎসসমূহ
Lietuvos Radijas ir Televizija
Devdiscourse
Mirror
LRT
Alfa
15min.lt
LRT
Kupiškėnų mintys
The Straits Times
People's Daily
Global Times
China Daily
Moomoo
Met Office
Express
ChronicleLive
Daily Express
Daily Express
