২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের গ্রুম লেক এয়ারফিল্ড হিসেবে পরিচিত অতি-গোপনীয় 'এরিয়া ৫১'-এর সংরক্ষিত আকাশসীমায় একটি তীক্ষ্ণ কোণবিশিষ্ট ত্রিভুজাকার রহস্যময় আকাশযানের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। 'আনক্যানি এক্সপেডিশনস' (Uncanny Expeditions) নামক ইউটিউব চ্যানেলের পরিচালক এবং বিমান চালনা গবেষক অ্যান্ডার্স ওটেসন এই গোপনীয় এলাকায় নৈশকালীন পর্যবেক্ষণের সময় আধুনিক থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার সাহায্যে এই বস্তুটি ক্যামেরাবন্দি করেন। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত থার্মাল ফুটেজে দেখা গেছে যে, একটি বি-২ স্পিরিট (B-2 Spirit) বোমারু বিমানের উপস্থিতিতেই বস্তুটি আকাশে অবস্থান করছিল। ওটেসনের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বস্তুটির আকার, তাপীয় বৈশিষ্ট্য এবং চলাচলের ধরন কোনোভাবেই পরিচিত বি-২ বিমানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক প্রকল্প 'নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স' (NGAD) এবং ষষ্ঠ প্রজন্মের এফ-৪৭ (F-47) যুদ্ধবিমান তৈরির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে ডিজাইন করা হয়েছে।
Mysterious ‘Dorito-Shaped’ Aircraft Spotted at Night Near Area 51 📅 January 18, 2026
এই রহস্যময় আকাশযানের প্রকৃতি নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে সাম্প্রতিক আইনি পদক্ষেপের কারণে। ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (FY2026 NDAA) পেন্টাগনকে বাধ্য করেছে ১ জানুয়ারি ২০০৪ থেকে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সমস্ত 'আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা' (UAP) বা রহস্যময় আকাশযান সংক্রান্ত ইন্টারসেপশন সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করতে। নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (NORAD) এবং নর্দান কমান্ড (Northcom) দ্বারা পরিচালিত এই ইন্টারসেপশনগুলোর ওপর ক্যাপিটল হিলের এই বিশেষ নজরদারি এটাই প্রমাণ করে যে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেখা যাওয়া এই যানটিকে এর সুনির্দিষ্ট ত্রিভুজাকার জ্যামিতিক আকৃতির কারণে পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যে 'ডোরিটো আকৃতির' (Dorito-shaped) বলে অভিহিত করছেন। এই পর্যবেক্ষণটি ২০১৪ সালে কানসাসের উইচিটাতে দেখা যাওয়া একগুচ্ছ রহস্যময় ত্রিভুজাকার প্ল্যাটফর্মের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় জেফ টেম্পলিন নামক এক ব্যক্তির তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছিল যে, একটি বস্তু আকাশে ধোঁয়ার রেখা রেখে এস-আকৃতির (S-shaped) কৌশল প্রদর্শন করছে যা তৎকালীন বিশেষজ্ঞরা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এমনকি ২০১৪ সালের মার্চ মাসে টেক্সাসের অ্যামারিলোতে বুমেরাং আকৃতির তিনটি বিমান দেখা গিয়েছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত দীর্ঘকাল ধরে একাধিক গোপনীয় প্ল্যাটফর্মের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে।
সামরিক খাতের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত এনজিএডি (NGAD) প্রোগ্রামের আওতায় ২১ মার্চ ২০২৫ তারিখে বোয়িং (Boeing) কোম্পানি এফ-৪৭ যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি বিশাল চুক্তি লাভ করে। এই প্রকল্পটি মূলত এফ-২২ র্যাপ্টরের উত্তরসূরি তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে 'ডোরিটো' আকৃতির বস্তুটির থার্মাল ছবিগুলো এফ-৪৭-এর জনসমক্ষে আসা নকশার সাথে পুরোপুরি মেলে না এবং এটি একটি সাধারণ যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বেশি বড় বলে মনে হয়। বিকল্প হিসেবে অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন এটি আরকিউ-১৮০ (RQ-180) ড্রোন হতে পারে, যার অবয়ব বি-২ বিমানের সাথে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এর কার্যক্ষমতা অনেক বেশি উন্নত।
ঐতিহাসিকভাবে এরিয়া ৫১ বা গ্রুম লেক এলাকাটি লকহিড এফ-১১৭ নাইটহক-এর মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় এবং বৈপ্লবিক বিমানগুলোর পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই ঘটনা সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেননি, তবে আধুনিক থার্মাল সিস্টেমের মাধ্যমে এই বস্তুটি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে। গবেষক ওটেসন কর্তৃক সরবরাহকৃত এই নতুন তথ্যগুলো রহস্যময় আকাশযান পর্যবেক্ষণের বৈশ্বিক আর্কাইভে এক নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তির রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।


