গিজার রহস্যে নতুন মোড়: স্যাটেলাইট টোমোগ্রাফিতে দ্বিতীয় স্ফিংসের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত

লেখক: Uliana S

X-এ প্রকাশিত একটি ছবিতে Khufu-এর পিরামিডের সাথে সম্পর্কিত সন্দেহিত দ্বিতীয় সফিংক্সের অবস্থান দেখানো হয়েছে।

গিজার রহস্যে নতুন মোড়: স্যাটেলাইট টোমোগ্রাফিতে দ্বিতীয় স্ফিংসের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত

এক মাস আগে, ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে, গিজা মালভূমি আবারও সবার নজর কেড়েছে। 'খাফরে পিরামিড প্রজেক্ট'-এর ইতালীয় গবেষক ফিলিপ্পো বিয়োন্দি এবং কোরাডো মালাঙ্গা জানিয়েছেন যে, স্যাটেলাইট স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে মালভূমির একটি পাহাড়ের নিচে বিশাল এক ভূগর্ভস্থ কাঠামোর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে উলম্ব সুড়ঙ্গ, অনুভূমিক টানেল এবং মজবুত দেয়াল লুকিয়ে থাকতে পারে, যা বিখ্যাত গ্রেট স্ফিংসের নিচের ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সের প্রায় হুবহু প্রতিচ্ছবি। জ্যামিতিক বিশ্লেষণে এক নিখুঁত সামঞ্জস্য দেখা গেছে: খুফু এবং খাফরে পিরামিডের কেন্দ্র থেকে বর্তমান স্ফিংস পর্যন্ত টানা রেখাগুলো আয়নার মতো ঠিক এই বিন্দুটিকেই নির্দেশ করে। সে সময় এই দাবির সত্যতার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরা হয়েছিল। গবেষকরা প্রাচীন নথিপত্রেরও উদ্ধৃতি দিয়েছেন—উদাহরণস্বরূপ, খ্রিস্টপূর্ব ১৪০১ অব্দের 'ড্রিম স্টেলা' বা স্বপ্নস্তম্ভে দুটি স্ফিংসের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এখন এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল অধ্যাপক বিয়োন্দি একটি নতুন তথ্য প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখেছেন, "আমরা দ্বিতীয় স্ফিংসটি খুঁজে পেয়েছি—এবং এবার এটি শতভাগ নিশ্চিত!" গবেষক দলটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন রাডার টোমোগ্রাফির একটি নতুন সিরিজ বিশ্লেষণ করে মিলিমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে এর অবস্থান নির্ধারণ করেছেন। পোস্টটির সাথে একটি স্যাটেলাইট ছবিও যুক্ত করা হয়েছে: যেখানে টোমোগ্রাফির নীল পটভূমিতে উজ্জ্বল রেখা ও তীরের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সেই এলাকাটি স্থানাঙ্ক ও চিহ্নসহ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আবিষ্কারটির অবস্থান প্রথম স্ফিংস এবং খুফুর পিরামিডের সাথে নিখুঁত সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিয়োন্দি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, "এটি এক অবিশ্বাস্য প্রতিসাম্য!" বর্তমানে গবেষকরা 'ফেস রিকগনিশন' অ্যালগরিদম ব্যবহার করছেন বোঝার জন্য যে, এটি কি কোনো সুপরিচিত ফারাওয়ের অবয়ব নাকি সম্পূর্ণ নতুন কিছু।

তিনি দ্বিতীয় স্ফিংসের অস্তিত্বের সম্ভাবনা এখন ১০৫ শতাংশ বলে বর্ণনা করেছেন—যা কিছুটা রসিকতা মনে হলেও আসলে বেশ গম্ভীর দাবি। ২০২৬ সালের ২১ জুন বোলোগনায় অনুষ্ঠিতব্য "গিজা—লুকানো শহর—শেষ পর্ব" শীর্ষক সম্মেলনে সব তথ্য, ছবি এবং সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিয়োন্দি নিজে, অধ্যাপক মালাঙ্গা এবং ডক্টর নিকোল চিকোলো বক্তব্য দেবেন।

আপাতত এটি একটি তত্ত্ব মাত্র, যার সত্যতা যাচাইয়ে ভূমিতে সরাসরি অনুসন্ধান প্রয়োজন। গত মার্চ মাসেই গবেষক দলটি মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে: ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালানো, সম্ভাব্য প্রবেশপথগুলো পরিষ্কার করা এবং বন্ধ থাকা সুড়ঙ্গগুলো পরীক্ষা করা। কেউই তড়িঘড়ি করে খনন শুরু করছেন না—কারণ প্রত্নতত্ত্ব অত্যন্ত সতর্কতার দাবি রাখে। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েক দশ মিটার বালুর স্তর ভেদ করে দেখার এই সক্ষমতা গিজা গবেষণার ধরণকেই আমূল বদলে দিচ্ছে।

প্রতিটি নতুন স্ক্যান গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কেবল সরাসরি খননকার্যের পরেই। যদি এই তত্ত্ব সত্য প্রমাণিত হয়, তবে গিজা মালভূমির নিচে এমন এক ভূগর্ভস্থ স্থাপনার জট খুলে যেতে পারে, যা নিয়ে আগে কেবল কল্পনা করা হতো। আপাতত আমাদের জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—এবং আশা রাখতে হবে যে বিজ্ঞান আবারও আমাদের প্রাচীন ইতিহাসের নতুন কোনো অধ্যায়ের সন্ধান দেবে।

10 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।