ওবামার মন্তব্যের পর ট্রাম্পের নির্দেশ: ইউএফও সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের ঘোষণা

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

ট্রাম্প Pete Hegseth এবং কয়েকটি ফেডারেল এজেন্সিকে আদেশ দিয়েছেন যে তারা পৃথিবীর বাইরে জীবন, অজানা বায়ু-ঘটনাসমূহ এবং UFO-র সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি শনাক্ত করা এবং ডিক্লাসিফাই করা শুরু করবে।

২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করেছেন। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা অজ্ঞাত আকাশযান (UAP), ইউএফও (UFO) এবং ভিনগ্রহের জীবন সংক্রান্ত যাবতীয় সরকারি নথিগুলো শনাক্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করে। মূলত ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্ব নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক কিছু চাঞ্চল্যকর পাবলিক মন্তব্যের ফলে যে ব্যাপক জনমত ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে, তার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ট্রাম্প এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

🇺🇸 Barack Obama said aliens are real. Trump: "He's not supposed to be doing that. He made a big mistake giving out classified information"

Mario Nawfal
Mario Nawfal
@MarioNawfal

🚨TRUMP: Obama gave away classified information on Aliens This comes after Obama's comments in an interview that Aliens are real, which he later retracted Trump: “He gave classified information, he’s not supposed to be doing that." Asked whether he knows if Aliens are real,

Image
2.6K
Reply

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন যে ওবামা গোপন তথ্য প্রকাশ করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন যে 'আলিয়েনরা অস্তিত্ব রয়েছে'। ট্রাম্প: '…সম্ভবত আমি তাকে সমস্যার হাত থেকে বের করে দেব, এটি ডিক্লাসিফাই করে'.

ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দেন এবং পরবর্তীতে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিষয়টি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই নতুন নির্দেশনায় সরাসরি 'সেক্রেটারি অফ ওয়ার' এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা ভিনগ্রহের জীবন এবং অজ্ঞাত আকাশযান সংক্রান্ত অত্যন্ত জটিল অথচ অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো শনাক্ত করে তা অবমুক্ত করে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিট হেগসেথকে, যিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের বিশেষ আদেশে ঐতিহাসিক 'সেক্রেটারি অফ ওয়ার' পদটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা এর আগে 'প্রতিরক্ষামন্ত্রী' বা 'সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স' হিসেবে পরিচিত ছিল।

ট্রাম্পের এই নির্বাহী পদক্ষেপটি মূলত বারাক ওবামার একটি বক্তব্যের সরাসরি পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওবামা ব্রায়ান টাইলার কোহেনের একটি পডকাস্টে দাবি করেছিলেন যে ভিনগ্রহের প্রাণীরা 'বাস্তব', যার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ওবামার বিরুদ্ধে 'গোপন তথ্য' ফাঁসের অভিযোগ আনেন। তবে ওবামা পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান কিছুটা পরিষ্কার করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন যে, মহাবিশ্বের বিশালতা বিবেচনায় গাণিতিক বা পরিসংখ্যানগতভাবে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হলেও, তার আট বছরের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি ভিনগ্রহের কোনো সভ্যতার সাথে যোগাযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাননি। ওবামা সেই পডকাস্টে আরও কৌতুক করে বলেছিলেন যে, এরিয়া ৫১-এ কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা মহাকাশযান লুকিয়ে রাখা হয়নি এবং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন বড় কোনো তথ্য গোপন রাখতে হলে এক 'বিশাল ষড়যন্ত্রের' প্রয়োজন হতো।

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য মার্কিন কংগ্রেসে চলমান আইনি প্রচেষ্টার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২৪/২০২৬ সালের ইউএপি ডিসক্লোজার অ্যাক্ট এবং ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিনিধি সভায় উত্থাপিত ইউএপি ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট। এই আইনি কাঠামোর প্রেক্ষাপটে আরও জানা গেছে যে, ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (NDAA) ইতিমধ্যেই ২০০৪ সাল থেকে নোরড (NORAD) এবং নর্থকম (NORTHCOM) কর্তৃক পরিচালিত অজ্ঞাত আকাশযান ইন্টারসেপ্ট বা বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলো নিয়ে কংগ্রেসকে নিয়মিত এবং বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছে।

পিট হেগসেথ, যিনি ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২৯তম প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, বর্তমানে এই নতুন নামাঙ্কিত 'সেক্রেটারি অফ ওয়ার' পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ সামরিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হেগসেথ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কোয়ান্টিকোতে শীর্ষস্থানীয় জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের নিয়ে একটি জরুরি সভা করে আগেই সবার নজর কেড়েছিলেন। ট্রাম্পের এই নতুন আদেশের পর এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই নথিগুলো প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং এর পরিধি ঠিক কতটা হবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO)-এর দাবি অনুযায়ী ভিনগ্রহের প্রযুক্তির কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নির্দেশের পর সামরিক বাহিনী তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখবে নাকি ঐতিহাসিক কোনো তথ্য প্রকাশ করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে।

66 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • www.theepochtimes.com

  • WXLV

  • Le Monde.fr

  • The Daily Wire

  • NTD

  • The Washington Post

  • RNZ News

  • CTV News

  • Malay Mail

  • IBT Times UK

  • Al Jazeera

  • AP News

  • CTV News

  • Mint

  • DefenseScoop

  • MarketScreener

  • RNZ News

  • CTV News

  • WMBD

  • The Hindu

  • CTV News

  • TRT World

  • Mint

  • Parade

  • The Washington Post

  • U.S. Department of War

  • The Washington Post

  • RNZ News

  • CTV News

  • Times Union

  • Military.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।