১৫ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকো সিটির আকাশে রহস্যময় দ্রুতগামী বস্তুর ভিডিও ধারণ
লেখক: Uliana S.
২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ভোরে মেক্সিকো সিটির আকাশে একটি অসাধারণ বায়ুগতিশীল ঘটনা পরিলক্ষিত হয়, যা ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 'ওয়েবক্যামস ডি মেক্সিকো' (Webcams de México) নামক সংস্থার একটি নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে একটি অন্ধকার এবং সম্ভবত গোলাকার বস্তু। স্থানীয় সময় ভোর ০৪:১৮ মিনিটে এই রহস্যময় বস্তুটি মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত তোরে ল্যাটিনোআমেরিকানা (Torre Latinoamericana) আকাশচুম্বী ভবনের নিকটবর্তী এলাকায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি পরবর্তীকালে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিও ফুটেজটি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য এর গতি দ্বিগুণ করা হয়েছিল, যাতে বস্তুটির গতিপথ এবং বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, সাধারণ আকাশযানের তুলনায় এই বস্তুটির মধ্যে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা রয়েছে। কুয়াহটেমোক (Cuauhtémoc) জেলার সেন্ট্রো এলাকার আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় বস্তুটিতে কোনো নেভিগেশন লাইট বা সংকেত বাতি জ্বলতে দেখা যায়নি, যা যেকোনো অনুমোদিত উড়োজাহাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক। একটি অন্ধকার ছায়ার মতো বস্তুটি তির্যকভাবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নেমে ক্যামেরার দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তথ্যটির প্রাথমিক উৎস ছিল 'ওয়েবক্যামস ডি মেক্সিকো' প্ল্যাটফর্ম, যারা মেক্সিকোর আকাশসীমার বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পোপোক্যাটেপেটল (Popocatépetl) আগ্নেয়গিরির উপরেও তারা একটি উজ্জ্বল বস্তু প্রত্যক্ষ করেছিল। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না আসায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই অনুমানগুলো সাধারণ ড্রোন বা আবহাওয়া বেলুন থেকে শুরু করে ভিনগ্রহের বা মানুষের তৈরি নয় এমন কোনো উন্নত প্রযুক্তির সম্ভাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
যে তোরে ল্যাটিনোআমেরিকানা ভবনে ক্যামেরাটি স্থাপন করা হয়েছিল, সেটি একটি ঐতিহাসিক ৪৪ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী ভবন। ১৮২ মিটার উচ্চতার এই ভবনটি ১৯৫৬ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং এটি এর অসাধারণ ভূমিকম্প সহনশীলতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মেক্সিকোতে সাম্প্রতিক সময়ে অজ্ঞাত আকাশযান বা ইউএপি (UAP) নিয়ে জনমনে যে কৌতূহল বাড়ছে, এই ঘটনাটি তারই একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভিডিওতে ধরা পড়া বস্তুটির অস্বাভাবিক গতি এবং কোনো আলোকসজ্জা না থাকা জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা সপ্তাহান্তের পরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
সংশয়বাদীরা এই ঘটনাটিকে সাধারণ দৃষ্টিবিভ্রম বা কোনো উন্নত বাণিজ্যিক ড্রোন বলে উড়িয়ে দিলেও, ইউএফও (UFO) গবেষকরা একে ভিনগ্রহের প্রযুক্তির একটি সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বস্তুটি যেভাবে হঠাৎ করেই আকাশে আবির্ভূত হয়েছিল এবং অদৃশ্য হয়ে গেল, তা সাধারণ প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়। মেক্সিকো সিটির এই গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্কের কাছে নির্ভরযোগ্য একটি নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ধারণ করা এই ঘটনাটি এখনো একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। এটি মহাকাশীয় এবং আকাশপথের রহস্যময় ঘটনাগুলো সম্পর্কে মেক্সিকোর গভীর সাংস্কৃতিক আগ্রহ এবং গবেষণার প্রবণতাকেই পুনরায় প্রতিফলিত করে।
12 দৃশ্য
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
