২০২৪ সালে চাঁদে সৃষ্ট বিশাল গর্ত শনাক্ত করল নাসার এলআরও (LRO)

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

A new 225-meter (740-foot) crater appeared on the Moon. NASA's lunar orbiter (LRO) imaged the dramatic aftermath. Such large impacts are once-in-a-century events. This one happened in the spring of 2024. Image: ​New 225-m diameter lunar crater imaged by LRO, incidence angle 38°.

Image
55
Reply

একটি নতুন চন্দ্র ক্রেটর যার ব্যাস 225 মিটার, LRO যান দ্বারা ধরা হয়েছে, ইনসিডেন্স কোণ 38°. ছবির প্রস্থ 950 মিটার, উত্তর উপরে.

নাসার লুনার রিকনেসান্স অরবিটার (LRO) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন এবং বিশাল ইমপ্যাক্ট ক্রেটার বা আঘাতজনিত গর্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স কনফারেন্সে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি উপস্থাপন করা হয়। এই তথ্যটি ভবিষ্যতে পরিচালিত হতে যাওয়া বিভিন্ন মানববাহী ও রোবোটিক মিশনের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যার মধ্যে আমেরিকার 'আর্টেমিস' প্রোগ্রাম এবং চীনের চন্দ্র অভিযানগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই বিশাল গর্তটি তৈরি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন। এর ব্যাস প্রায় ২২৫ মিটার, যা দুটি আদর্শ আমেরিকান ফুটবল মাঠের দৈর্ঘ্যের সমান। এই ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর গড় গভীরতা প্রায় ৪৩ মিটার। গর্তের খাড়া দেয়ালগুলো বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় যে, মহাজাগতিক বস্তুটি কোনো ঘন ও জমাটবদ্ধ পদার্থের ওপর আঘাত হেনেছিল, যা সম্ভবত প্রাচীন শীতল লাভা প্রবাহ। ২০০৯ সালে উৎক্ষেপিত এলআরও মিশনের মাধ্যমে এর আগে সর্বোচ্চ ৭০ মিটার চওড়া একটি নতুন গর্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, যা বর্তমান আবিষ্কারটির বিশালতাকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গ্রহ বিজ্ঞানী মার্ক রবিনসন, যিনি এলআরও-তে থাকা এলআরওসি (LROC) ক্যামেরার প্রধান গবেষক, এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চাঁদে এই আকারের গর্ত গড়ে প্রতি ১৩৯ বছরে একবার তৈরি হয়। গর্তটির আকৃতি কিছুটা দীর্ঘায়িত বা ডিম্বাকৃতি হওয়ায় বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, আঘাতের স্থানে উপ-পৃষ্ঠের উপাদানগুলো অসম প্রকৃতির ছিল। এই সংঘর্ষের ফলে উজ্জ্বল ইজেক্টা বা নিক্ষিপ্ত পদার্থের একটি বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে যা শত শত মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট কম্পন এবং দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলো কেন্দ্রস্থল থেকে ১২০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।

এই আবিষ্কারটি চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রকৌশলগত দিক থেকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে। সংঘর্ষের সময় নিক্ষিপ্ত ধ্বংসাবশেষের গতিবেগ ছিল প্রতি সেকেন্ডে প্রায় এক কিলোমিটার। এর ফলে ভবিষ্যতে নির্মিতব্য চন্দ্রঘাঁটি এবং আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অধীনে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। গর্তটি চাঁদের প্রাচীন বন্ধুর উচ্চভূমি এবং ব্যাসাল্টিক লাভা দ্বারা গঠিত সমতল ভূমির সংযোগস্থলে অবস্থিত। এলআরও-র মাধ্যমে প্রাপ্ত এই তথ্যগুলো আগামী এক দশকে চাঁদে অবকাঠামো নির্মাণের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং গর্ত তৈরির মডেলগুলো পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এলআরও মিশনটি চাঁদের অভূতপূর্ব টপোগ্রাফিক বা ভূ-সংস্থানিক তথ্য সরবরাহ করে আসছে, যা বিশেষ করে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মিশন পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে চন্দ্র গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাসার পাশাপাশি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপানিজ অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (JAXA) এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (CSA) আর্টেমিস প্রোগ্রামের আওতায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই ধরনের গবেষণাগুলো প্রমাণ করে যে, চাঁদের পৃষ্ঠে যেকোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উচ্চ-গতির মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ থেকে সুরক্ষার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা কতটা প্রয়োজন।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • VICE

  • The Watchers News

  • Science News

  • Reddit

  • VICE

  • Edinburgh Live

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।