২০২৬ সালের ১০–১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অ্যাপুলিয়া থেকে, বিশেষ করে বারি অঞ্চল acquaintance কাছাকাছি, বহু প্রতিবেদনে আকাশে একটি জোরালো বিস্ফোরণ ও হঠাৎ একটি আলোর ঝলকনের বর্ণনা দিয়েছে.
বারির আকাশে রহস্যময় আলো ও প্রচণ্ড শব্দ: আপুলিয়ায় মহাজাগতিক বস্তু পতনের তদন্তে বিজ্ঞানীরা
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
২০২৬ সালের ১০ থেকে ১১ জানুয়ারি, শনিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ ইতালির আপুলিয়া অঞ্চলের বারির পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা এক অভাবনীয় এবং আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন। গভীর রাতে এক প্রচণ্ড শব্দ এবং শক্তিশালী শকওয়েভের মতো কম্পনে বহু মানুষের ঘুম ভেঙে যায়, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তুড়ি (Turi), কাসামাসিমা (Casamassima) এবং ভ্যালেনজানোর (Valenzano) মতো পৌরসভাগুলোতে আতঙ্কিত নাগরিকরা দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে ভূমিকম্প, কোনো বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা এমনকি কোনো সামরিক মহড়া বা দুর্ঘটনা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
ঘটনার পরদিন সকালে একটি জলপাই বাগানে একটি রহস্যময় গর্ত এবং মহাজাগতিক উপাদানের মতো দেখতে কিছু ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরায় একটি উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি ধরা পড়েছিল, যার ঠিক পরেই প্রচণ্ড কম্পন অনুভূত হয়, যা কোনো শক্তিশালী বিস্ফোরণের সমতুল্য ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা জলপাই গাছগুলোতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পুড়ে যাওয়ার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে বস্তুটি পতনের সময় প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বা কোনো মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা (ASI) বর্তমানে উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বস্তুটির উল্কাপিণ্ড হওয়ার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি কারণ এর রাসায়নিক বিশ্লেষণ এখনও চলমান রয়েছে। ঘটনার পরপরই কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্য না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
দক্ষিণ ইতালিতে এ ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা ঘটার নজির আগেও রয়েছে। ২০২৪ সালে মাতেরা (Matera) শহরের কাছে 'সান ভ্যালেন্টিনো' নামক একটি উল্কাপিণ্ড পতনের ঘটনা ঘটেছিল যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই ঘটনাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (INAF) দ্বারা পরিচালিত প্রিজমা (PRISMA) প্রকল্পের মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। প্রিজমা হলো ইতালির প্রথম পদ্ধতিগত উল্কা পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক, যা প্রায় ৫০টি অত্যাধুনিক ক্যামেরার সাহায্যে উল্কার গতিপথ এবং পতনের সম্ভাব্য স্থান নির্ণয় করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাতেরায় পড়া উল্কাপিণ্ডের ক্ষেত্রে প্রিজমা টিম ৮ বর্গকিলোমিটারের একটি এলাকা চিহ্নিত করেছিল, যেখান থেকে পরবর্তীতে ১১০ গ্রামেরও বেশি উল্কাপিণ্ডের উপাদান উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
গ্রহ বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে দক্ষিণ ইতালি অঞ্চলটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে কালাব্রিয়ার গারিলিওন (Gariglione) পাহাড়ে একটি অত্যন্ত বিরল উল্কাপিণ্ডের খণ্ড পাওয়া গিয়েছিল, যাতে কোয়াসিক্রিস্টাল এবং অস্বাভাবিক অ্যালুমিনিয়াম-তামার সংকর ধাতু বিদ্যমান ছিল। এটি ছিল সমগ্র বিশ্বে এই ধরনের মাত্র তৃতীয় ঘটনা, যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বারী বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ASI-এর একদল দক্ষ গবেষক এই গবেষণায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন, যা এই অঞ্চলের প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের গভীর আগ্রহের বিষয়টিকেই পুনরায় নিশ্চিত করে।
বারির কাছে পাওয়া রহস্যময় নমুনার বিশ্লেষণের পাশাপাশি, ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি একই দিনে ওই অঞ্চলে দুটি পৃথক ভূমিকম্পের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে। বার্লেটা (Barletta) উপকূলে ২.৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয় যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার গভীরে। এর পাশাপাশি, একই দিন ইতালীয় সময় ভোর ০৫:৫৩ মিনিটে কালাব্রিয়ার আয়নিয়ান উপকূলে ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল ৬৫ কিলোমিটার। এই ভূমিকম্পটি কালাব্রিয়া, সিসিলি এবং আপুলিয়া অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছিল। এই উচ্চ টেকটোনিক কার্যকলাপ এবং মহাজাগতিক বস্তুর পতন একই সময়ে ঘটায় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রাথমিক আতঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল, যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উৎসসমূহ
B1TV.ro
B1TV
Adevarul
