বজ্রপাতের সময় পাতার ডগায় 'করোনা ডিসচার্জ' বা বৈদ্যুতিক নিঃসরণের অস্তিত্ব নিশ্চিত

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

Trees throw silent UV raves under every thunderstorm while we complain about static shock. Thunderstorms secretly crown treetops with invisible swarms of ghostly electric fire, faint blue/UV coronae now captured outdoors for the first time, turning forests into living plasma

Image
0
Reply

ঝড়গুলি গাছের শিখরগুলোকে অদৃশ্য প্রেতাত্মা বৈদ্যুতিক অগ্নির ঝুঁড়ি দিয়ে গোপনে আবৃত করে, দুর্বল নীল-আল্ট্রাভায়োলেট করোনা, যা প্রথমবার বাইরে খোলা আকাশে ধরা পড়েছে।

বৈজ্ঞানিক মহলে দীর্ঘদিনের একটি তাত্ত্বিক ধারণা অবশেষে বাস্তব প্রমাণের মুখ দেখেছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সরাসরি মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বজ্রপাতের সময় গাছের পাতার ডগা থেকে এক ধরণের মৃদু বৈদ্যুতিক নিঃসরণ ঘটে, যা 'করোনা ডিসচার্জ' নামে পরিচিত। কয়েক দশক ধরে এটি কেবল গবেষণাগারের পরীক্ষা এবং তাত্ত্বিক অনুমানের বিষয় থাকলেও, এখন এটি প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রমাণিত একটি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির আবহাওয়াবিদ প্যাট্রিক ম্যাকফারল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল এই বিরল ঘটনাটি সফলভাবে নথিভুক্ত করেছেন। এটি বায়ুমণ্ডলের বিদ্যুৎ এবং জীবমণ্ডলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উত্তর ক্যারোলিনার পেমব্রোকে এই গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণ চালানো হয় এবং পরবর্তীতে ফ্লোরিডা থেকে পেনসিলভেনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ঝড়ের গতিপথ অনুসরণ করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। যেহেতু এই বৈদ্যুতিক নিঃসরণ খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়, তাই গবেষকরা একটি বিশেষ মোবাইল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করেন, যা ইলেকট্রিক ফিল্ড সেন্সর এবং একটি পেরিস্কোপে বসানো আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভি) রশ্মি সংবেদনশীল ক্যামেরায় সজ্জিত ছিল।

এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের তীব্র বৈদ্যুতিক শক্তি, যা মাটিতে বিপরীতমুখী আধান তৈরি করে। এই আধান তখন ভূমির সর্বোচ্চ বিন্দুগুলোতে, বিশেষ করে গাছের পাতার ডগায় গিয়ে জমা হয়। গবেষকরা ২৫৫ থেকে ২৭৩ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইউভি ক্যামেরা ব্যবহার করে লক্ষ্য করেছেন যে, বাতাসের ঝাপটায় গাছের ডালপালা যখন দোলে, তখন পাতার ডগা থেকে ইউভি ফ্ল্যাশ বা আলোকচ্ছটা নির্গত হয়। একটি নির্দিষ্ট ঝড়ের সময় মাত্র ৯০ মিনিটের পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা ৪১টি পৃথক করোনা ডিসচার্জ রেকর্ড করেছেন, যার মধ্যে কয়েকটি তিন সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, যা এই ঘটনার স্থায়িত্ব সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়।

এই গবেষণার ফলাফল ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী 'জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স'-এ প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে বনাঞ্চলের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের অস্বাভাবিকতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক রহস্যের সমাধান হলো, যা আগে কেবল পরোক্ষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হতো। প্যাট্রিক ম্যাকফারল্যান্ড এই সাফল্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "এই ঘটনাগুলো সত্যিই ঘটে; আমরা তা দেখেছি এবং এখন আমরা নিশ্চিত যে এগুলোর অস্তিত্ব আছে।" উল্লেখ্য যে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে গবেষণাগারে করা পরীক্ষাগুলোতে দেখা গিয়েছিল যে, এই ধরণের নিঃসরণ পাতার ডগা পুড়িয়ে দিতে পারে এবং ক্লোরোপ্লাস্ট ও কোষের ঝিল্লির ক্ষতি করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

পরিবেশগত দিক থেকে এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মনে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। গবেষকরা ধারণা করছেন যে, বারবার এমন বৈদ্যুতিক নিঃসরণের ফলে পাতার রক্ষাকারী মোমের স্তর বা কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা গাছের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই করোনা ডিসচার্জ থেকে হাইড্রোক্সিল (OH) এবং হাইড্রোপ্রক্সিল (HO2) রেডিক্যাল উৎপন্ন হয়। এই উপাদানগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস প্রশমিত করে বায়ুর মান উন্নত করতে পারলেও ওজোন স্তর গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গাছ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত এবং প্রতি মুহূর্তে প্রায় ১৮০০ বজ্রপাত ঘটে চলেছে, যা বায়ুমণ্ডলের রসায়নে এই ঘটনার বিশাল গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Debrief

  • India Today

  • The Debrief

  • AGU (American Geophysical Union)

  • ResearchGate

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।