২০২৬ সালের ১ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অস্ট্রেলীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক রস কুলথার্ট এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান যে, তিনি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি বিশেষ এলাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করেছেন, যা তার বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আন্তঃমাত্রিক পোর্টাল। কুলথার্টের মতে, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানটিকে মার্কিন বন বিভাগ বা ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের (US Forest Service) আড়ালে সুকৌশলে জনসাধারণের আড়ালে রাখা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের মূল উৎস হলো কুলথার্টের একটি সাম্প্রতিক জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য, যার খণ্ডিতাংশ টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সে (সাবেক টুইটার) মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, সাংবাদিক কুলথার্ট অত্যন্ত ধীরস্থির এবং পরিমিত ভঙ্গিতে কথা বলছেন, যা তার দাবির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি কোনো প্রকার উত্তেজনা ছাড়াই তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
Here is a satellite photo of the "secret" goverment portal site Ross Coulthart is being dodgy about.... I know right where this is and plan to visit it in person. x.com/i/trending/202…
কুলথার্ট তার বক্তব্যে সেই স্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আমি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়েছিলাম যেখানে বিশাল বেড়া দেওয়া আছে এবং চারদিকে অসংখ্য সতর্কবার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগানো। দাপ্তরিকভাবে বলা হচ্ছে এটি মার্কিন বন বিভাগের একটি সাইট এবং সেখানে প্রাচীন উপজাতীয় শিল্পের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, বাস্তবতা মোটেও তেমন নয়। মূলত একটি পোর্টালকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করার জন্য মার্কিন সরকার বন বিভাগ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষার এই অজুহাতটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।"
যদিও কুলথার্ট সেই রহস্যময় স্থানের সুনির্দিষ্ট নাম বা অবস্থান প্রকাশ করেননি এবং কোনো ছবি বা জিপিএস স্থানাঙ্ক প্রদান করেননি, তবে তিনি বারবার একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন যে, এলাকাটি অত্যন্ত কঠোরভাবে সুরক্ষিত। তার এই অস্পষ্টতা অনেককে সন্দিহান করে তুললেও, যারা দীর্ঘকাল ধরে সরকারি গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে এটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কুলথার্টের এই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিনে অর্থাৎ ১ মার্চ, প্রখ্যাত প্যারানরমাল গবেষক রায়ান স্কিনার একটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেন। স্কিনওয়াকার র্যাঞ্চের রহস্য উন্মোচনে অভিজ্ঞ স্কিনার দাবি করেন যে, তিনি কুলথার্টের ইঙ্গিত করা সেই 'গোপন' পোর্টালের সঠিক অবস্থান জানেন। তিনি জানান, এই রহস্যময় স্থানটি অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সেডোনা অঞ্চলের বিখ্যাত পালাটকি হেরিটেজ সাইটের (Palatki Heritage Site) ঠিক পাশেই অবস্থিত, যার আনুমানিক স্থানাঙ্ক হলো 34.9151677, -111.9002648। স্কিনার আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় বাসিন্দারা এই জায়গাটিকে একটি 'বেড়া দিয়ে ঘেরা বিশাল শেড' হিসেবে চেনে এবং জনশ্রুতি আছে যে, এক প্রত্যক্ষদর্শী সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিকিরণ বা রেডিয়েশনের কারণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। স্কিনার ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি খুব শীঘ্রই একটি গেইগার কাউন্টার নিয়ে সেখানে যাবেন এবং অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করবেন, কারণ তিনি নিজেকে একজন 'সংশয়বাদী বিশ্বাসী' হিসেবে মনে করেন।
সেডোনা অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অদ্ভূত এবং অলৌকিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এখানে ব্র্যাডশ র্যাঞ্চের মতো জায়গা রয়েছে, যেখানে এর আগেও পোর্টাল বা ভিনগ্রহী যান দেখার কথা শোনা গেছে। তবে সরকারিভাবে পালাটকি হলো সিনাগুয়া আদিবাসীদের একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে প্রাচীন শিলালিপি বা পেট্রোগ্লিফ রয়েছে। মার্কিন বন বিভাগ সবসময়ই বলে এসেছে যে, এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যই সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছে। পোর্টাল সংক্রান্ত কোনো অতিপ্রাকৃত দাবির বিষয়ে বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।
এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল মানুষ এই দাবির সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ এবং উচ্চমানের ছবি দাবি করছেন, অন্যদিকে অনেকে আমেরিকার বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানে ঘটে যাওয়া নিখোঁজ রহস্য বা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার পুরনো কাহিনীগুলো পুনরায় সামনে নিয়ে আসছেন। মার্কিন বন বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় এই রহস্যের জট আরও পাকিয়ে যাচ্ছে।
রস কুলথার্টের এই জোরালো দাবি এবং রায়ান স্কিনারের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি সেই পুরনো জল্পনাকেই উসকে দিচ্ছে যে, আমেরিকার কিছু সংরক্ষিত বনাঞ্চল হয়তো কেবল প্রকৃতির জন্য নয়, বরং অন্য কোনো মহাজাগতিক বা বৈজ্ঞানিক রহস্য গোপন করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনো অকাট্য দাপ্তরিক নথি বা চাক্ষুষ প্রমাণ সামনে আসছে, ততক্ষণ এই পুরো বিষয়টি কেবল মৌখিক সাক্ষ্য এবং মহাকাশ থেকে তোলা অস্পষ্ট ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।



