গভীর থেকে সরাসরি: Monterey Bay-এ বিরলভাবে দেখা সাত-হাত বিশিষ্ট অক্টোপাস
গভীর সমুদ্রের বিরল 'সাত-বাহু' অক্টোপাস: এমবিএআরআই-এর ক্যামেরায় ধরা পড়ল Haliphron atlanticus
লেখক: Inna Horoshkina One
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, মন্টারে বে অ্যাকোয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এমবিএআরআই)-এর গবেষক দল সমুদ্রের গভীরতম অঞ্চলের এক অত্যন্ত দুর্লভ বাসিন্দা—অক্টোপাস Haliphron atlanticus—এর ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম হন। এই প্রাণীটি 'সাত-বাহু' অক্টোপাস নামেও পরিচিত। ঘটনাটি ঘটেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টারে উপসাগরে, প্রায় ৭০০ মিটার গভীরে। এই পর্যবেক্ষণটি করা হয়েছিল দূর নিয়ন্ত্রিত ডুবোজাহাজ যান (ROV) ব্যবহার করে, যা গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
এই দৃশ্যটি কোনো আকস্মিক চমক নয়, বরং সমুদ্রের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার একটি ক্ষণিকের ঝলক। কিন্তু এই এক মুহূর্তের পর্যবেক্ষণ আমাদের গভীর সমুদ্র সম্পর্কে ধারণাকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের অজানা জগৎটি আসলে কত বৈচিত্র্যময় এবং সক্রিয়।
'সাত-বাহু' নামের রহস্য
অক্টোপাসটিকে 'সাত-বাহু' নামে ডাকা হলেও এটি কোনো জৈবিক ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতার কারণে নয়। অন্যান্য অক্টোপাসের মতোই Haliphron atlanticus-এরও আটটি বাহু রয়েছে। এই 'সাত'-এর বিভ্রম তৈরি হয় পুরুষ প্রাণীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে: তাদের অষ্টম বাহুটি হলো একটি পরিবর্তিত অঙ্গ, যাকে বলা হয় গেকটোকোটাইল। এই অঙ্গটি শুক্রাণু স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং প্রায়শই এটি চোখের নিচে থাকা একটি থলির মধ্যে লুকিয়ে থাকে। ফলস্বরূপ, ক্যামেরায় সাধারণত সাতটি অঙ্গই দৃশ্যমান হয়, আর সেই থেকেই এই জনপ্রিয় ডাকনামটি প্রজাতির বর্ণনায় স্থায়ী হয়ে গেছে।
পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ
এমবিএআরআই-এর এই পর্যবেক্ষণটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে:
- এই শনাক্তকরণটি একটি ROV যানের মাধ্যমে করা হয়েছে এবং গভীরতা সহ অন্যান্য পর্যবেক্ষণের সঠিক প্যারামিটার নথিভুক্ত করা হয়েছে।
- প্রাণীটিকে স্পষ্টভাবে Haliphron atlanticus হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এই সাক্ষাৎটি বিরলতার পরিসংখ্যানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে: প্রায় চার দশকের গবেষণার ইতিহাসে, এই অঞ্চলে এমবিএআরআই-এর এটি হলো এই প্রজাতির চতুর্থ নিশ্চিত পর্যবেক্ষণ।
এমবিএআরআই হলো একটি বেসরকারি, অলাভজনক সমুদ্রবিজ্ঞান কেন্দ্র, যা ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত তাদের 'সমুদ্রের চোখ'—যেমন ROV-এর মতো উন্নত ডুবোজাহাজ রোবোটিক্স প্রযুক্তির পদ্ধতিগত উন্নয়নের জন্য। মোস ল্যান্ডিং-এ অবস্থিত তাদের ক্যাম্পাস এমনভাবে স্থাপিত যে গবেষকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাদেশীয় উপকূলের অন্যতম গভীরতম সামুদ্রিক খাদে সরাসরি প্রবেশাধিকার পান। এই কারণেই মন্টারে উপসাগর মানবজাতির জন্য গভীর সমুদ্রের রহস্য উন্মোচনের অন্যতম প্রধান 'জানালা' হয়ে উঠেছে।
Haliphron atlanticus সম্পর্কে তথ্য
Haliphron atlanticus সাধারণত মেসোপেলাজিক এবং ব্যাটিপেলাজিক অঞ্চলে বসবাস করে, যা সাধারণত ২০০ থেকে ৯০০ মিটার গভীরতার মধ্যে দেখা যায়। এই প্রজাতিতে সুস্পষ্ট লিঙ্গ বৈষম্য (sexual dimorphism) পরিলক্ষিত হয়: স্ত্রী অক্টোপাসগুলি বেশ বড় আকারের হতে পারে (বর্ণনা অনুযায়ী কয়েক মিটার লম্বা এবং কয়েক ডজন কিলোগ্রাম ওজন পর্যন্ত), যেখানে পুরুষরা তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট হয়। অনেক অক্টোপাসের জীবনচক্রই নাটকীয়: সঙ্গমের পরে পুরুষরা প্রায়শই মারা যায়, এবং স্ত্রীরা ডিম পাড়ার পরে প্রাণত্যাগ করে।
পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ অনুসারে, Haliphron atlanticus-এর খাদ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে জেলির মতো জীব (যেমন জেলিফিশ)। এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এই অক্টোপাসটিকে একটি পৌরাণিক প্রাণী থেকে সরিয়ে এনে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলের একটি সক্রিয় অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, এমন একটি সাক্ষাৎ কেবল একটি 'বিরল শট' নয়। এটি ভবিষ্যতের বিশ্লেষণের জন্য মূল্যবান উপাদান সরবরাহ করে:
- প্রজাতির আচরণ এবং খাদ্য শৃঙ্খলে এর অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে জানা,
- গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র কীভাবে গঠিত এবং কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা বোঝা।
এই ঘটনাটি আমাদের গ্রহের গভীরতার প্রতিধ্বনিকে আরও জোরালো করেছে। গভীর সমুদ্রেও জীবন বিদ্যমান, যেখানে আমরা এখনও তাড়াহুড়ো না করে দেখার মতো দৃষ্টি অর্জন করতে পারিনি। সমুদ্র এখনও তার সমস্ত গল্প বলেনি। এটি কেবল তার পাতাগুলি খুলতে শুরু করেছে—এবং জীবনের প্রতিটি নতুন রূপ পৃথিবীর বর্ণমালার একটি নতুন অক্ষরের মতো শোনাচ্ছে, যা আমাদের অজানা জগৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
