সমুদ্র সংখ্যা দ্বারা উত্তর দিচ্ছে: Grind-এ PFAS 60% কমে গেছে — কিন্তু নতুন PFAS কোথায় জমা হচ্ছে?
উত্তর আটলান্টিকের গ্রিন্ডা তিমিদের দেহে পিএফএএস (PFAS) হ্রাস: পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও নতুন রাসায়নিকের চ্যালেঞ্জ
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
উত্তর আটলান্টিকের দীর্ঘ-পাখনাযুক্ত গ্রিন্ডা তিমিদের (Globicephala melas) টিস্যু নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী এক গবেষণায় একটি বিরল ও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকা এই শিকারি প্রাণীদের দেহে তথাকথিত "চিরস্থায়ী রাসায়নিক" বা পিএফএএস-এর (PFAS) মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
গ্রিন্ডা তিমিরা মূলত সমুদ্রের পরিবেশগত স্বাস্থ্যের একটি শক্তিশালী জৈব-সূচক বা বায়ো-ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে। তারা তাদের খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মহাসাগরের তলানি থেকে দূষণ শোষণ করে, তাই তাদের শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি দূরবর্তী সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের সামগ্রিক রাসায়নিক বোঝার পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনিফার সানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল ১৯৮৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনাগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেছেন। এই গবেষণায় ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের নমুনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গ্রিন্ডা তিমির মাংস ব্যবহৃত হয়। গবেষণার প্রধান ফলাফল হলো, দীর্ঘ-শৃঙ্খল বিশিষ্ট "লিগ্যাসি পিএফএএস" ২০১১ সালের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা ৬০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এই গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, তা হলো সময়ের ব্যবধান বা "টাইম ল্যাগ"। যদিও ২০০০-এর দশকের শুরু থেকেই পরিচিত পিএফএএস রাসায়নিকগুলোর উৎপাদন ও ব্যবহার কমানো শুরু হয়েছিল, তিমিদের দেহে এর প্রভাব পড়তে বেশ কয়েক বছর সময় লেগেছে। গবেষকরা একে একটি "ধীর গতির ঢেউয়ের" সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে রাসায়নিকগুলো সমুদ্রের স্রোতের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে এবং তিমির দেহে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে দীর্ঘ সময় নেয়।
এই গবেষণাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে। পরিমাপযোগ্য জৈব ফ্লোরিনের সামগ্রিক চিত্রে দেখা গেছে যে, চারটি পুরনো রাসায়নিক যৌগ মোট পরিমাণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দখল করে ছিল। আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, ২০২৩ সালের মধ্যে এই নির্দিষ্ট যৌগগুলোর পরিমাণই সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি একটি উদ্বেগের বিষয়ও সামনে এসেছে যা গবেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। পুরনো পিএফএএস-এর মাত্রা কমলেও গবেষকরা কিছু বিকল্প বা নতুন রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি বাড়তে দেখছেন। একে গবেষকরা "দুর্ভাগ্যজনক প্রতিস্থাপন" (regrettable substitution) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে বাজার পরিচিত বিষাক্ত উপাদান থেকে সরে গিয়ে এমন সব বিকল্প বেছে নেয় যা হয়তো কম পরিচিত এবং বিশ্লেষণ করা আরও কঠিন।
এই গবেষণার মূল শিক্ষাটি কেবল একটি নিবন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নির্দেশ করে যে প্রতিটি রাসায়নিককে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যথেষ্ট নয়। গবেষকরা সামগ্রিক জৈব ফ্লোরিন বা "বাল্ক-ইন্ডিকেটর" পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল রাসায়নিক বাজারের সাথে তাল মেলাতে বিজ্ঞান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে পিএফএএস-কে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী হিসেবে বিবেচনা করে নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
পরিশেষে, এই গবেষণাটি বিশ্বজুড়ে একটি বিরল আশার বাণী শুনিয়েছে যে, বিপজ্জনক রাসায়নিক বর্জন করলে তার সুফল পাওয়া সম্ভব। এমনকি উন্মুক্ত মহাসাগরে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকা প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তনের প্রভাব এখন পরিমাপযোগ্য। উত্তর আটলান্টিক আজ আমাদের এই বার্তাই দিচ্ছে যে, পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত প্রতিটি সুচিন্তিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উৎসসমূহ
Mongabay
Mongabay
EnviroLink Network
Oceanographic Magazine
TUN
Proceedings of the National Academy of Sciences
