আর্টেমিস III মিশনের জন্য LEAF পরীক্ষা: চাঁদে উদ্ভিদ বৃদ্ধির উপর অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী গবেষণা
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
ভবিষ্যতে চন্দ্র ও মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালাচ্ছেন। এই বিজ্ঞানীরা ARC সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর প্ল্যান্টস ফর স্পেস (P4S)-এর অধীনে একত্রিত হয়েছেন। P4S উদ্যোগটি নাসা (NASA) এবং জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার (DLR)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীর বাইরে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয়, অত্যন্ত কার্যকর এবং বর্জ্যমুক্ত উদ্ভিদ চাষের ব্যবস্থা তৈরি করা।
অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ARC সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর প্ল্যান্টস ফর স্পেস (P4S) হলো একটি সাত বছরব্যাপী আন্তঃবিভাগীয় প্রকল্প। এই প্রকল্পে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, উদ্ভিদ জীববিজ্ঞান, সিনথেটিক বায়োলজি, খাদ্য রসায়ন, মনোবিজ্ঞান, আইন এবং শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। এই কর্মসূচির অধীনে একটি প্রধান পরীক্ষা, যার নাম LEAF (Lunar Effects on Agricultural Flora), নাসা-র আর্টেমিস III মিশনের সঙ্গে চাঁদে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই উৎক্ষেপণ ২০২৭ সালের মাঝামাঝির আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। LEAF পরীক্ষা, যা LEAF Beta নামেও পরিচিত, চাঁদের পরিবেশে নির্দিষ্ট কিছু উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাসিকা রাপা (যার মধ্যে রেড-গ্রিন ভ্যারাইটি Wisconsin Fast Plants® অন্তর্ভুক্ত), উল্ফিয়া (জলজ উদ্ভিদ) এবং অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা।
এই গবেষণার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো চাঁদের আংশিক মহাকর্ষ (যা পৃথিবীর এক-ষষ্ঠাংশ) এবং মহাজাগতিক বিকিরণের সম্মিলিত প্রভাব উদ্ভিদের শারীরবৃত্তির উপর কেমন পড়ে, তা নিরূপণ করা। এটিই হবে চাঁদের পরিবেশের সামগ্রিক জৈব-শারীরিক প্রভাবের উপর প্রথম বিস্তৃত বিশ্লেষণ। LEAF Beta পরীক্ষাটি একটি বায়ুরোধী, বিচ্ছিন্ন বায়ুমণ্ডলযুক্ত চেম্বার ব্যবহার করবে, যা উদ্ভিদকে চরম সূর্যালোক, তেজস্ক্রিয়তা এবং মহাশূন্যের শূন্যতা থেকে রক্ষা করবে। একই সঙ্গে, এই চেম্বারের মধ্যে সালোকসংশ্লেষ এবং চাপের প্রতি উদ্ভিদের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিজ্ঞানীরা জানতে চাইছেন যে এই জৈব-ভৌত চাপগুলি সালোকসংশ্লেষের উৎপাদনশীলতা এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণকে কীভাবে প্রভাবিত করে, এবং মহাকাশ ফসলের জন্য কোন জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলি প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সাহায্য করে।
অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও অঙ্গসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরপর, নমুনাগুলি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পর সেগুলির জিনগত ও বিপাকীয় বিশ্লেষণ করা হবে। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ LEAF হবে প্রথম মিশন যার মাধ্যমে চাঁদের মাটি থেকে সংগৃহীত উদ্ভিদ নমুনা বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য পৃথিবীতে ফেরত আনা হবে। P4S-এর বৃহত্তর লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রযুক্তিগত ভিত্তি স্থাপন করা। এই গবেষণা পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতেও সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
P4S-এর পরিচালক এবং অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ গিলিহাম মনে করেন, P4S-এর এই অগ্রগতি পৃথিবীতেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেবে। উদাহরণস্বরূপ, খরা বা মাটির লবণাক্ততা মোকাবিলায় উদ্ভিদের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এই জ্ঞান কাজে লাগানো যেতে পারে। P4S কনসোর্টিয়ামে নাসা, অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি (ASA) এবং DLR সহ মোট ৩৮টি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। LEAF প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে কলোরাডোর বোল্ডারে অবস্থিত Space Lab Technologies। এই বৈজ্ঞানিক যন্ত্রটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা একুশ শতকে মানুষের চাঁদে প্রত্যাবর্তনের নাসার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উৎসসমূহ
IT News zu den Themen Künstliche Intelligenz, Roboter und Maschinelles Lernen - IT BOLTWISE® x Artificial Intelligence
Scimex
ARC Centre of Excellence in Plants for Space | Australian Research Council
Plants to be grown on the Moon when humans return | Newsroom | University of Adelaide
Artemis astronauts will carry plants to the moon in 2026 | Space
Lunar Payload LEAF - Lunar Effects on Agricultural Flora - Space Lab
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
