
4 কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত তাজা পানি
শেয়ার করুন
লেখক: Svetlana Velhush

4 কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত তাজা পানি
আমেরিকার ইউটা অঙ্গরাজ্যের গ্রেট সল্ট লেকের লবণাক্ত আস্তরণের নিচে এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৪ কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল মিঠা পানির প্রবাহ বা 'লুকানো মহাসাগর' আবিষ্কৃত হয়েছে এই মরুভূমির নিচে। এই আবিষ্কারটি কেবল ভূতাত্ত্বিকদের অবাকই করেনি, বরং এটি পরিবেশগত সংকটের মুখে থাকা এই অঞ্চলের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে কাজ করছে। প্রচণ্ড চাপের ফলে এই মিঠা পানি লবণের স্তর ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে, যার ফলে মৃত মরুভূমির মাঝে নলখাগড়া বা রিড ঘাস সমৃদ্ধ ছোট ছোট 'মরু উদ্যান' বা ওয়েসিস তৈরি হচ্ছে। এই অদ্ভুত দৃশ্যটি বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যখন খরার কারণে হ্রদের তলদেশ শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং সেখানে প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের অদ্ভুত সব ঢিবি দেখা দেয়।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই পানির উৎস অত্যন্ত প্রাচীন। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো হিমযুগের বরফ গলা পানি যা কয়েক শতাব্দী ধরে ওয়াসাচ পর্বতমালা (Wasatch Mountains) থেকে গড়িয়ে নিচে জমা হয়েছে। একটি বিশাল 'লবণের লেন্স' বা সল্ট লেন্সের নিচে এই পানি আটকা পড়ে ছিল, যা একে বাইরের পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রেখেছে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইউনিভার্সিটি অফ ইউটা-র ভূ-পদার্থবিদরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তারা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সেন্সিং (AEM) প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্রদের ফার্মিংটন বে (Farmington Bay) এলাকার নিচে এই বিশাল জলরাশির অস্তিত্ব খুঁজে পান। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই ভূগর্ভস্থ পানির স্তরটি ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা হ্রদটিকে ঘিরে থাকা বিশাল পর্বতশৃঙ্গগুলোর উচ্চতার সাথে তুলনীয়।
ইউনিভার্সিটি অফ ইউটা-র ভূতত্ত্ব ও ভূ-পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিল জনসন (Bill Johnson) এই ঘটনাটিকে একটি 'হাইড্রোলজিক্যাল অ্যানোমালি' বা জলতাত্ত্বিক অসংগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ঘন লবণাক্ত পানির মিঠা পানিকে হ্রদের কিনারার দিকে ঠেলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো চিত্র; প্রচণ্ড চাপে মিঠা পানি ১০ মিটার পুরু লবণের স্তর ভেদ করে হ্রদের কেন্দ্রস্থলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
এই আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো এর পরিবেশগত ব্যবহার। বিজ্ঞানীরা এই পানিকে পানীয় হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন না, কারণ এত গভীর থেকে পানি তোলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পরিবর্তে, তারা এটিকে একটি পরিবেশগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান। হ্রদটি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে তলদেশে জমা হওয়া লক্ষ লক্ষ টন আর্সেনিক এবং সিসাযুক্ত বিষাক্ত ধূলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
গবেষকরা প্রস্তাব করেছেন যে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে মিঠা পানির চাপ বেশি, সেখানে অগভীর কূপ খনন করে হ্রদের তলদেশকে আর্দ্র রাখা সম্ভব। এর ফলে বিষাক্ত ধূলিকণাগুলো মাটির সাথে আটকে থাকবে এবং বাতাসে ছড়াতে পারবে না। নদীর মূল্যবান পানি খরচ না করেই এই বিশাল ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার ব্যবহার করে এই অঞ্চলের পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ScienceDaily: Детальный отчет о результатах аэрофотосъемки и глубокого картографирования
University of Utah (AtTheU): Официальный релиз исследовательской группы о «другом» Соленом озере.
NASA Earth Observatory: Спутниковый анализ появления «оазисов» на пересохшем дне.