
অন্তরীক্ষ
শেয়ার করুন
লেখক: Svetlana Velhush

অন্তরীক্ষ
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) বৈজ্ঞানিক দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিজীববিজ্ঞানীদের মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পৃথিবী থেকে ১২০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত K2-18b নামক গ্রহটি আগে থেকেই মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতির কারণে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে এবার এর বায়ুমণ্ডলের শোষণ বর্ণালীতে জটিল ফ্লোরিনযুক্ত গ্যাসের ক্ষীণ কিন্তু স্পষ্ট রেখা পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এবং মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর নিক্কু মধুসূদন এই আবিষ্কারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান যে, যদি এই তথ্যগুলো শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়, তবে আমরা বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হব। সাধারণত বিজ্ঞানীরা বায়োসিগনেচার বা অণুজীবের উপস্থিতির চিহ্ন খোঁজেন, কিন্তু ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের (CFC) মতো গ্যাসের উপস্থিতি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি কেবল প্রাণের অস্তিত্ব নয়, বরং একটি ভিনগ্রহের উন্নত সভ্যতার অস্তিত্বের দিকেও নির্দেশ করতে পারে।
K2-18b গ্রহটি ভরের দিক থেকে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৮.৬ গুণ বড় এবং এটি তার নক্ষত্র, যা একটি লাল বামন (Red Dwarf), তার বাসযোগ্য অঞ্চলের (Habitable Zone) মধ্যে অবস্থান করছে। হাইসিয়ান ধারণার মূল ভিত্তি হলো এই যে, গ্রহটির শক্তিশালী হাইড্রোজেন আবরণের নিচে একটি বিশ্বব্যাপী মহাসাগর লুকিয়ে থাকতে পারে। যদি সেখানে সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব থাকে, তবে উচ্চ চাপ এবং পানির ভিন্ন রাসায়নিক গঠনের কারণে সেই প্রাণ হবে আমাদের পৃথিবীর প্রাণের চেয়ে অনেক আলাদা। এই ধরণের পরিবেশে প্রাণের বিবর্তন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মূল বিতর্কটি হলো এই গ্যাসগুলোর প্রকৃত উৎস নিয়ে। এই গ্যাসগুলো কি কোনো ভিনগ্রহের উন্নত শিল্পের 'নির্গমন' বা বর্জ্য হিসেবে নির্গত হচ্ছে, নাকি আমরা চরম প্রতিকূল পরিবেশে কোনো অজানা প্রাকৃতিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছি যা আগে কখনো দেখা যায়নি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের এই তথ্যগুলো যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে তা মহাবিশ্বে আমাদের একাকীত্বের অবসান ঘটাতে পারে এবং মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
NASA Exoplanet Archive — Обновленные данные по массе, радиусу и орбите системы K2-18.