পেরুর ৩২তম অ্যান্টার্কটিক অভিযান ANTAR 32 শুরু: সমুদ্রবিজ্ঞান ও জলবায়ু গবেষণার নতুন দিগন্ত

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

পেরু তাদের ৩২তম বৈজ্ঞানিক অভিযান অ্যান্টার্কটিকাতে, যা ANTAR 32 নামে পরিচিত, শুরু করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাটি শুরু হয় ২০২২ সালের ১৯শে ডিসেম্বর, কালাও বন্দর থেকে। এই পদক্ষেপটি অ্যান্টার্কটিক চুক্তি ব্যবস্থার প্রতি পেরুর অবিচল অঙ্গীকারকে পুনরায় নিশ্চিত করে, যেখানে মহাদেশটিকে কেবল শান্তি ও বিজ্ঞানের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পেরু ১৯৮১ সালে এই চুক্তিতে যোগদান করেছিল। এই অভিযানটি মোট ৯৮ দিনের জন্য পরিকল্পিত, যা ২০২৬ সালের ২৬শে মার্চ শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে বিজ্ঞানীরা ২৬টি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।

ANTAR 32 বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো গভীর সমুদ্রবিজ্ঞান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ। এই কর্মসূচিতে মোট ২৬টি গবেষণার মধ্যে ১৭টি পেরুর নিজস্ব এবং বাকি ৯টি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত হবে। এই গবেষণাগুলি বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত প্রক্রিয়াগুলি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত দক্ষিণ মহাসাগরের গতিশীলতা অনুধাবন করার ক্ষেত্রে। পেরুর ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউট (IPEGE) পূর্বে ঘোষণা করেছিল যে অ্যান্টার্কটিক গবেষণায় দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি প্রধান ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশের প্রধানমন্ত্রী আর্নেস্টো আলভারেজ মিরান্ডা এই অভিযানকে ভবিষ্যতের প্রতি একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে বৈশ্বিক সমস্যাগুলির সমাধান অ্যান্টার্কটিকা থেকেই আসতে পারে। এই অঞ্চলের গবেষণাগুলি অপরিহার্য, কারণ এই মহাদেশের বরফের চাদরে পৃথিবীর মোট স্বাদু জলের ৮০ শতাংশেরও বেশি মজুত রয়েছে। এই বরফ গলে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ওপর পড়ে। পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যারা দেশের জাতীয় অ্যান্টার্কটিক নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন ছাড়া এই বিস্তৃত কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হতো না।

ANTAR 32 অভিযান পেরুর আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধির প্রমাণ বহন করে, কারণ এতে বিদেশী গবেষকদের অংশগ্রহণ রয়েছে। উল্লেখ্য, পেরুর নিজস্ব বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি 'মাচু পিচু' কিং জর্জ দ্বীপে ১৯৮৯ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। পেরুভিয়ান বিজ্ঞানীদের এই কাজগুলি রাশিয়ার আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের (AARI) মতো সংস্থাগুলির লক্ষ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যারা মূলত জলবায়ু ও সমুদ্রবিজ্ঞানের ওপর মনোযোগ দেয়।

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব বিশ্লেষণ। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করছেন যে ৫০ থেকে ৪০০ মিটার গভীরতায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ০.৩ থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ায় শেল্ফ বরফ কীভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া মূল বরফের আচ্ছাদনকে দুর্বল করে তুলছে এবং এর ফলে বরফ দ্রুত মহাসাগরে পতিত হচ্ছে। ANTAR 32 মিশন এই প্রক্রিয়াগুলি বুঝতে সাহায্য করছে, যা আগামী শতকগুলিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বহু মিটার বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা মেরু অঞ্চলগুলির কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা গ্রহের সামগ্রিক ব্যবস্থা বোঝার জন্য অপরিহার্য।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • PCM - Secretaría de Gobierno Digital

  • PCM

  • Marina de Guerra del Perú

  • Ministerio de Defensa

  • ABC Color

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।