ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় স্থানীয়ভাবে 'পেসুত' নামে পরিচিত, মারাত্মকভাবে বিপন্ন মহাকাম নদীর ডলফিনকে রক্ষা করার জন্য তাদের কার্যক্রম তীব্র করেছে। অক্টোবর ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রজাতির মোট সংখ্যা ৬৪টি, যার মধ্যে দুটি নবজাতক রয়েছে, যা একটি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত বহন করে। এই ক্ষুদ্র বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে এই প্রাণীদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।
এই মূল্যবান জলজ প্রাণীটির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মন্ত্রণালয় সামুদ্রিক মৎস্য ও মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে কাজ করছে, বিশেষত ডলফিনদের প্রধান নদী উপনদীগুলোতে কয়লা পরিবহণ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৯০০টি বার্জ মহাকাম নদী অতিক্রম করে, যার মধ্যে কিছু ছোট পথেও চলাচল করে যেখানে পেসুতরা আশ্রয় নেয়। তাই কয়লা পরিবহণের জন্য বিকল্প পথ, যেমন স্থলপথ বা প্রধান নদীর রুট ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি শিল্প কার্যক্রমের প্রভাব থেকে তাদের সুরক্ষিত করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
পেসুটের উপর প্রধান বিপদগুলো বহুমুখী। এদের মধ্যে রয়েছে মাছ ধরার জালে জড়িয়ে পড়া, বার্জের সাথে সংঘর্ষ, জল দূষণ, এবং বিদ্যুতায়ন বা মাছ ধরার বোমা ব্যবহারের মতো অবৈধ কার্যকলাপ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এই প্রাণীদের জন্য একটি প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সংখ্যা হ্রাস পায়, অন্যদিকে অনুকূল পরিবেশ সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই ডলফিনগুলো আইইউসিএন-এর লাল তালিকায় 'বিপন্ন' বা 'মারাত্মকভাবে বিপন্ন' হিসেবে তালিকাভুক্ত, এবং এরা বিশ্বের মাত্র পাঁচটি অবশিষ্ট নদী ডলফিন প্রজাতির মধ্যে অন্যতম।
সংরক্ষণের কৌশল হিসেবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিযুক্ত করা হয়েছে যারা সুরক্ষার কাজে সহায়তা করবে। এছাড়াও, তাদের আবাসস্থলের নির্দিষ্ট বিপদগুলো চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে খনি ও গার্হস্থ্য বর্জ্যও অন্তর্ভুক্ত। এই মহাকাম নদীর ডলফিন, যা পূর্ব কালিমান্তানের মহাকাম নদীর স্থানীয় বাসিন্দা, তার সুরক্ষার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তার অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়কে টেকসই পরিবেশ-পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে যাতে তারা প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ কমাতে পারে এবং ডলফিন সংরক্ষণে সক্রিয় অংশীদার হতে পারে।
