
T.A.C.O.-এর সংক্ষিপ্ত রূপ মানে 'ট্রাম্প সর্বদা পিছিয়ে পড়েন'।
শেয়ার করুন
লেখক: Aleksandr Lytviak

T.A.C.O.-এর সংক্ষিপ্ত রূপ মানে 'ট্রাম্প সর্বদা পিছিয়ে পড়েন'।
বিশ্বব্যাপী পুঁজি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক নীতিকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করতে শুরু করেছে, যার ফলে চীনা সিকিউরিটিজের দামে এক অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল অনুঘটক হলো একটি বিশেষ পরিস্থিতি, যা আর্থিক মহলে "T.A.C.O. trade" বা "Trump Always Chickens Out" (ট্রাম্প সবসময় পিছিয়ে যান) নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যুক্তি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত: চীনের বিরুদ্ধে যেকোনো কঠোর বাণিজ্যিক শুল্ক মার্কিন শেয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক এবং সংশোধন তৈরি করে। হোয়াইট হাউস, যারা ঐতিহাসিকভাবে সূচকের বৃদ্ধিকে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সাফল্যের সূচক হিসেবে ব্যবহার করে, তারা বাজার ধস এড়াতে দ্রুত তাদের অবস্থান নরম করতে বাধ্য হয়। এই কৌশলটি বুঝতে পেরে ট্রেডাররা এখন বাণিজ্য যুদ্ধের খবরে চীনা সম্পদ বিক্রি না করে বরং দাম কমলে সেগুলোকে আরও বেশি করে পোর্টফোলিওতে যুক্ত করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে চীনের শেয়ার বাজার একটি শক্তিশালী মৌলিক স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করছে। বেইজিং যখন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সুদের হার কমানো, বাজারে ব্যাপক তারল্য সরবরাহ এবং কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব শেয়ার কেনার জন্য সরাসরি ঋণ প্রদানের মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিও পুনর্গঠন শুরু করেছেন। এই আগ্রাসী পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে এবং চীনা বাজারকে আবার আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এই নতুন ধারার অন্যতম প্রধান মুখ হলেন বিলিয়নেয়ার এবং হেজ ফান্ড অ্যাপালুসা ম্যানেজমেন্টের (Appaloosa Management) প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড টেপার। পিপলস ব্যাংক অফ চায়নার মুদ্রানীতির এই নাটকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি তার প্রবল উৎসাহ গোপন করেননি। তিনি মনে করেন যে, চীনের এই নীতি পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে যা উপেক্ষা করা কঠিন।
সিএনবিসি (CNBC)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভিড টেপার বলেন, "আমি ভেবেছিলাম ফেডারেল রিজার্ভের পদক্ষেপগুলো চীনে নীতি শিথিল করতে সাহায্য করবে, কিন্তু আমি জানতাম না যে তারা এভাবে 'ভারী কামান' (heavy artillery) ব্যবহার করবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীনা কোম্পানিগুলো বর্তমানে এক অঙ্কের P/E মাল্টিপ্লায়ারে লেনদেন করছে অথচ তাদের প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের। মার্কেটস ইনসাইডারের (Markets Insider) তথ্য অনুযায়ী, টেপার এখন ইটিএফ (ETF) এবং ফিউচারসহ প্রায় সবকিছুই কিনতে প্রস্তুত। তার ফান্ডের পোর্টফোলিওতে আলিবাবা (Alibaba), জেডি ডট কম (JD.com) এবং বাইডু (Baidu)-র মতো চীনা সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো এই যে, পূর্ণমাত্রার বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি এখন আর শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। মুদ্রা বাজার এবং শেয়ারের দর স্পষ্টভাবে দেখায় যে, বিনিয়োগকারীরা বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্দীপনা এবং সম্পদের সস্তাকে বাহ্যিক শুল্কের ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। "T.A.C.O. trade" ফেনোমেনন প্রমাণ করেছে যে, চীনের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির গুরুত্ব দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং তার স্থান দখল করে নিচ্ছে ঠান্ডা গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও কৌশলগত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য।
businessinsider.com