৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বিটকয়েন নেটওয়ার্ক একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যেখানে ২০ মিলিয়নতম কয়েনটি সফলভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এই ঘটনাটি বিটকয়েনের পূর্বনির্ধারিত সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, কারণ বর্তমানে মোট ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন সরবরাহের প্রায় ৯৫.২ শতাংশই বাজারে প্রচলিত রয়েছে। ৯৪০,০০০ নম্বর ব্লকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পর, ২১৪০ সালের দিকে বিটকয়েন উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার আগে মাত্র ১ মিলিয়ন কয়েন অবশিষ্ট রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাইনিং শিল্পে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রথাগত মাইনিংয়ের মুনাফা কমে আসায় হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং (HPC) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের উচ্চ আয়ের দিকে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা।
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত বড় মাইনিং কোম্পানিগুলো বর্তমানে তাদের ব্যবসায়িক মডেলে আমূল পরিবর্তন আনছে এবং বিটকয়েন রিজার্ভ ব্যবহার করে এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করছে। জিহান উ-এর সহ-প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি 'বিটডিয়ার' (Bitdeer) তাদের বিটকয়েন মজুত বিক্রি করে এআই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। তারা নরওয়েতে ২০০ মেগাওয়াট এআই কম্পিউটিং শক্তি স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে এবং ওহাইওতে তাদের ৫৭০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল ক্যাম্পাস ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ নাগাদ প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইভাবে, 'বিটফার্মস' (Bitfarms) তাদের নাম পরিবর্তন করে 'কিল ইনফ্রাস্ট্রাকচার' (Keel Infrastructure) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। কোম্পানির সিইও বেন গ্যাগনন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা এখন আর কেবল একটি বিটকয়েন কোম্পানি নয়, বরং উত্তর আমেরিকা জুড়ে এআই এবং এইচপিসি অবকাঠামো তৈরিতে মনোনিবেশ করছেন।
এই রূপান্তরের ঢেউ অন্যান্য প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। 'হাইভ ডিজিটাল টেকনোলজিস' (HIVE Digital Technologies) ২০২৬ সালে তাদের এআই এবং এইচপিসি খাতের ব্যাপক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এবং বেল কানাডার সাথে অংশীদারিত্বের সুযোগ গ্রহণ করছে। মূলত ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিটকয়েন হালভিংয়ের ফলে ব্লক রিওয়ার্ড ৬.২৫ বিটিসি থেকে কমে ৩.১২৫ বিটিসি-তে নেমে আসায় মাইনাররা চাপের মুখে পড়েছেন। এই আর্থিক চাপ মোকাবিলায় তারা তাদের বিটকয়েন সঞ্চয়কে কৌশলগত পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছেন যাতে নতুন প্রযুক্তিতে স্থানান্তরিত হওয়া সহজ হয়।
জেপি মর্গান (JPMorgan)-এর বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার বাজার এখন মাইনিং কোম্পানিগুলোকে বিটকয়েনের দামের ভিত্তিতে নয়, বরং এআই খাতে তাদের সম্ভাবনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করছে। বিটকয়েন উৎপাদনের খরচ বর্তমানে প্রতি কয়েনে প্রায় ৯২,০০০ ডলার, যা ২০২৮ সালের এপ্রিলের পরবর্তী হালভিংয়ের পর ১,৮০,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে, এআই খাত অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং উচ্চ মুনাফার সুযোগ দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, 'সাইফার মাইনিং' (Cipher Mining)-এর ৩০০ মেগাওয়াট এআই অবকাঠামো চুক্তি থেকে বছরে প্রায় ৩৬৭ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। ডিজিটাল সম্পদ অবকাঠামোর এই মৌলিক পরিবর্তনটি বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান কম্পিউটিং চাহিদারই একটি প্রতিফলন।



