সেশেলসের প্রাচীন কচ্ছপ জোনাথনকে ঘিরে ক্রিপ্টো কেলেঙ্কারি ও মৃত্যু গুজব
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
বিশ্বের প্রাচীনতম স্থলচর প্রাণী হিসেবে পরিচিত সেশেলসের দৈত্যাকার কচ্ছপ জোনাথন, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মিথ্যা মৃত্যু সংবাদ সত্ত্বেও জীবিত রয়েছেন। প্রায় ১৯৪ বছর বয়সী এই প্রাণীটির মৃত্যু সংক্রান্ত ভুয়া খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর সঙ্গে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারির যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এই প্রতারণামূলক সংবাদটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জোনাথনের পশুচিকিৎসক জো হলিন্সের ছদ্মবেশে একটি ভুয়া এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই ভুয়া পোস্টে শোক প্রকাশের আড়ালে মেমোরিয়াল অনুদান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি চাওয়া হয়েছিল, যা গুজবটিকে একটি আর্থিক প্রতারণায় রূপান্তরিত করে। প্রকৃত পশুচিকিৎসক জো হলিন্স দ্রুত এই দাবিটি খণ্ডন করেন এবং নিশ্চিত করেন যে জোনাথন 'এখনও জীবিত আছেন'। সেন্ট হেলেনার গভর্নর নাইজেল ফিলিপসও কচ্ছপটির বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নিশ্চিত করেছেন যে সে শান্তিতে বিশ্রাম নিচ্ছে। এই ভুয়া পোস্টটি প্রায় দুই মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল এবং বিবিসি সহ প্রধান সংবাদ মাধ্যমগুলোও প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে সত্য বলে রিপোর্ট করেছিল, যদিও পরে তারা তা প্রত্যাহার করে নেয়। জানা গেছে, ভুয়া অ্যাকাউন্টটি ব্রাজিলে অবস্থিত ছিল এবং আসল চিকিৎসক জো হলিন্স এক্স প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় নন।
সেন্ট হেলেনা দ্বীপে, যেখানে প্রায় ৪,৪৪০ জন বাসিন্দা রয়েছে, সেখানে জোনাথন একটি স্থানীয় আইকনে পরিণত হয়েছেন এবং তার ছবি দ্বীপের ৫ পেন্সের মুদ্রার উল্টো দিকেও স্থান পেয়েছে। ধারণা করা হয়, জোনাথন ১৮৩২ সালে সেশেলসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৮৮২ সালে প্রায় ৫০ বছর বয়সে সেন্ট হেলেনায় এসেছিলেন, যখন তিনি ইতিমধ্যেই পূর্ণবয়স্ক ছিলেন। সেন্ট হেলেনার গভর্নর নাইজেল ফিলিপস ২০২২ সালের নভেম্বরে ৪ ডিসেম্বরকে জোনাথনের আনুষ্ঠানিক জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করেন।
জোনাথন সেন্ট হেলেনার গভর্নরের বাসভবন প্ল্যান্টেশন হাউসের প্রাঙ্গণে ডেভিড, এমা এবং ফ্রেডরিক নামের আরও তিনটি কম বয়সী কচ্ছপের সাথে বসবাস করেন। তার দীর্ঘ জীবন সত্ত্বেও, জোনাথনের স্বাস্থ্যে বয়সের ছাপ পড়েছে; তিনি ছানিজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং ঘ্রাণশক্তিও লোপ পেয়েছে, তবে তার শ্রবণশক্তি এখনও প্রবল এবং তিনি মানুষের কণ্ঠস্বর সহজেই চিনতে পারেন। পশুচিকিৎসক জো হলিন্স, যিনি ২০০৯ সালে দ্বীপে আসার পর জোনাথনকে অপুষ্টিজনিত কারণে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পেয়েছিলেন, তিনি ঘাস ও খড়ের পাশাপাশি ফল ও সবজি দিয়ে তার খাদ্যের পরিপূরক ব্যবস্থা করেন।
এই ঘটনাটি জনসমক্ষে পরিচিত ব্যক্তিত্বদের অনলাইন ভুল তথ্য এবং আর্থিক জালিয়াতির প্রতি দুর্বলতা তুলে ধরেছে। সেন্ট হেলেনা দ্বীপপুঞ্জের সম্প্রদায় জোনাথনের সম্ভাব্য শেষকৃত্যের জন্য 'অপারেশন গো স্লো' নামে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে, যা দ্বীপবাসী এই আইকনিক প্রাণীটিকে কতটা গুরুত্ব দেয় তার ইঙ্গিত দেয়। জোনাথনের এই দীর্ঘ জীবন প্রায় দুই শতাব্দীর মানব ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক ব্রিটিশ রাজার শাসনকাল এবং বিশ্বযুদ্ধ, এবং এই প্রতারণামূলক ঘটনাটি ডিজিটাল যুগে যাচাইকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি আধুনিক সতর্কতা হিসেবে কাজ করছে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
getwestlondon
accrington
The Guardian
Wikipedia
Liputan6.com
GB News
First Coast News
The Guardian
Encyclopædia Britannica
firstcoastnews.com
USA Today
YouTube
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



