বর্ষার দিনে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে আলো ও সঙ্গীতের কার্যকর প্রয়োগ কৌশল

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

মনোবিজ্ঞানীরা বর্ষা বা মেঘলা আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট মেজাজের অবনতি মোকাবিলার জন্য কিছু সক্রিয় কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন জীবনে নির্দিষ্ট অভ্যাস পরিবর্তন করে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব, যা সাধারণ মন খারাপের অনুভূতি থেকে ভিন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সেরোটোনিন, ডোপামিন এবং নোরএপিনেফ্রিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতা বিষণ্ণতার মূল কারণ হতে পারে, যা আবেগ, মনোযোগ এবং আনন্দের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলায় প্রাকৃতিক উদ্দীপকগুলির ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মেজাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি প্রধান সুপারিশ হলো কৃত্রিম উপায়ে হলেও আলোর সংস্পর্শ বৃদ্ধি করা, যা সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে। সেরোটোনিন হলো মেজাজ নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার। সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে নাইট্রিক অক্সাইড নিঃসৃত হয়ে ত্বকের রক্তনালীকে প্রসারিত করে, যা সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়ক। তাই, জানালার কাছে বসা, উজ্জ্বল কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা, অথবা দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য হলেও বাইরে বের হওয়া জরুরি, যেমনটি ডা. মার্থা ডেইরোস কোলাডো প্রকৃতির আলো-বাতাসের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। এই কৌশল সরাসরি অন্ধকারের সঙ্গে সম্পর্কিত মেলাটোনিন বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করে, যা সাধারণত তন্দ্রা ও মন খারাপের কারণ হয়।

আলোর পাশাপাশি, ব্যক্তিগতভাবে অর্থবহ বা উপভোগ্য সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মনকে শান্ত করতে এবং আবেগের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে। সঙ্গীত থেরাপি উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার উপসর্গ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে, কারণ এটি ডোপামিন তৈরি করতে পারে, যা 'ভাল-ভাল' হরমোন নামে পরিচিত এবং দুঃখের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। ধীর গতির বা যন্ত্রসঙ্গীত শুনলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং এটি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার পরবর্তী রোগীদের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পছন্দসই গান শোনা রোগীদের ব্যথা কমাতে সহায়তা করেছিল।

আলো ও সঙ্গীতের এই কৌশলগত ব্যবহার ছাড়াও, বিশেষজ্ঞরা খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কার্যকলাপের ওপর জোর দিয়েছেন। সেরোটোনিন অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান থেকে তৈরি হয়, যা দুধ, পনির, বাদাম এবং বীজজাতীয় খাবারে পাওয়া যায়। খাদ্যতালিকায় এই উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্ত করা সেরোটোনিন উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত ট্রিপটোফ্যান সরবরাহ নিশ্চিত করে। এছাড়াও, শারীরিক কার্যকলাপ, যেমন হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং, সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।

ইংল্যান্ডের ডার্বি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইলস রিচার্ডসন প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। এই সহজ ও কার্যকর পদক্ষেপগুলি—আলোর সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পছন্দের শ্রুতিমধুর উদ্দীপকের সাথে সংযোগ স্থাপন—আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে। নিয়মিত গান শোনা স্মৃতিশক্তি প্রখর করতে এবং মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, আলোর সংস্পর্শে আসা সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার, যা বর্তমানে সিজনাল প্যাটার্নের সাথে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার নামে পরিচিত, তার লক্ষণগুলি উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, বর্ষার দিনে মেজাজ ভালো রাখার জন্য আলো এবং সঙ্গীতের কৌশলগত ব্যবহার একটি বৈজ্ঞানিক ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি, যা মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ দ্বারা সমর্থিত।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • https://women.okezone.com/

  • Kasandra Associates – Strategic Mental Health & Wellness Solution

  • Sunshine, Serotonin, and Skin: A Partial Explanation for Seasonal Patterns in Psychopathology? - PubMed Central

  • Seeing the Light of an Improved Mood - Michigan Medicine

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।