সংকট মোকাবিলায় মানসিক প্রস্তুতির অপরিহার্যতা

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

আকস্মিক বিপর্যয়, তা কারখানার আগুন হোক বা বাজারের আকস্মিক পতন, মানুষের মধ্যে এক অনিবার্য জৈবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যার ফলস্বরূপ উদ্বেগ এবং কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণের কারণে জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে টিকে থাকা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং মানসিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে, যা এই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছু বিপরীতমুখী পদক্ষেপের দাবি রাখে। বর্তমান অস্থির সময়ে, যেমন ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের দ্রুত প্রসার অনেক কর্মসংস্থান বিলীন করার হুমকি দিচ্ছে, তেমনি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রার অস্থিরতাও বিদ্যমান, যা এই মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সংকটকালে প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক, যা বিমান চালনা নিরাপত্তার প্রোটোকল অনুসরণ করে তাৎক্ষণিক সমাধানের পরিবর্তে অপারেশনাল চেকলিস্ট কার্যকর করার মাধ্যমে আরও ক্ষতি প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেয়। উদাহরণস্বরূপ, বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত শিক্ষায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং কাগুজে শিক্ষার মাধ্যমে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার নিয়মাবলী শেখানো হয়, যেখানে সাধারণ জনগণও ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অবদান রাখতে পারে। এই শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আরও বড় বিপর্যয় এড়াতে পারে, যেমনটি ১৯২৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১,০০০,০০০ মাইল উড্ডয়নে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার পরিসংখ্যান থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়, যার পরে নিরাপত্তা প্রোটোকল জোরদার করা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, ব্যর্থতাকে তথ্য হিসেবে গণ্য করে অবশিষ্ট সম্পদ পরীক্ষা এবং পরবর্তী যৌক্তিক পদক্ষেপ প্রণয়নের জন্য বৈজ্ঞানিকের মতো চিন্তা করা উচিত, যেমনটি অধ্যাপক অ্যাডাম গ্রান্ট পরামর্শ দিয়েছেন। এই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সংকটের সময়ে আবেগপ্রবণ না হয়ে বিশ্লেষণাত্মক হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনে, যেমন আধুনিক ভারতীয় মহিলাদের কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং সামাজিক প্রত্যাশার কারণে সৃষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় এই ধরনের বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং আত্ম-সন্দেহ কাটিয়ে ওঠার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির একটি স্টোইক ভিজ্যুয়ালাইজেশন ভয়কে হ্রাস করে এবং বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করে, যা উন্নত ফলাফলের জন্য প্রচেষ্টা করার স্বাধীনতা দেয়। এই ধরনের মানসিক অনুশীলন, যা ভয়কে মোকাবেলা করার একটি কৌশল, তা অবসর গ্রহণের পরবর্তী জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে চাকরির ব্যস্ততা হারানোর ফলে মানুষ দিশাহারা হতে পারে এবং এই পরিবর্তন মেনে নেওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। এই প্রস্তুতি কেবল আর্থিক নয়, বরং ক্ষমতা প্রয়োগের স্থান হারানোর ফলে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণের জন্যও অপরিহার্য।

চতুর্থত, স্থিতিস্থাপকতা অর্জনের জন্য বন্ধু বা পরামর্শদাতাদের একটি বিশ্বস্ত সংকটকালীন মন্ত্রিসভা প্রয়োজন; সমস্যা ভাগ করে নিলে তা একটি বিশাল বোঝা থেকে পরিচালনাযোগ্য কাজে রূপান্তরিত হয়। এই সম্মিলিত শক্তি মানবিক সংকটের সময়েও দেখা যায়, যেমন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছে এবং তার মেয়েকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করেছে, যা সম্মিলিত দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এই ধরনের সামাজিক সমর্থন মানসিক চাপ কমাতে এবং সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে।

সর্বোপরি, অবিলম্বে ন্যূনতম হলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করে গতি তৈরি করা এবং নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা জরুরি, কারণ আত্মবিশ্বাস কাজের পরে আসে, আগে নয়। এই সক্রিয়তা একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটেও প্রযোজ্য; যেমন মুসলিম সাহিত্য সমাজ শতবর্ষ আগে মুক্তচিন্তার যে আদর্শ প্রচার করেছিল, তা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা প্রতিদিনের বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের ফল, যা স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। মানব মন অভিযোজনের জন্য তৈরি; প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে কষ্টের প্রতি প্রতিক্রিয়া বেছে নেওয়ার মধ্যে এবং ক্ষতির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্দেশ্য পুনর্গঠন করার মধ্যে।

15 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • El Confidencial

  • The Guardian

  • AECOC

  • The Guardian

  • Workday Blog

  • The Objective Media

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।