
বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষা: অন্তর্নিহিত আত্মমর্যাদার সংকট
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাফল্য দেখলে তীব্র নেতিবাচক আবেগ বা ঈর্ষা অনুভব করা প্রায়শই বন্ধুত্বের সমস্যার চেয়েও গভীর, অন্তর্নিহিত আত্মমর্যাদার ঘাটতিকে নির্দেশ করে। এই ধরনের অনুভূতি বন্ধুত্বের নিজস্ব ত্রুটি নয়, বরং ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধের অভাবের প্রতিফলন। একজন পাঠক তার দীর্ঘদিনের বন্ধুর জীবনে আসা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন, যেমন কর্মজীবনে উন্নতি এবং নতুন সম্পর্কে জড়ানো, দেখে নিজেকে অপর্যাপ্ত মনে করার কারণে গভীর মানসিক কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন। মনোবিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন যে, যখন কেউ অন্যের কাছ থেকে বৈধতা পাওয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন এই ধরনের অনুভূতির প্রতি সে সহজেই দুর্বল হয়ে যায়। এই ঈর্ষা বা বিদ্বেষ আসলে ব্যক্তির নিজের অপূর্ণ চাহিদাগুলোর একটি সংকেত মাত্র।
এই অনুভূতিগুলো, যেমন ঈর্ষা বা বিদ্বেষ, মানবজাতির জন্য খুবই স্বাভাবিক, তবে এগুলোর ওপর আগ্রাসীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো অথবা সম্পর্ক থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বন্ধুত্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক উল্লেখ করেছেন যে, বন্ধুর সাফল্যে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা ঈর্ষার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে। মূল সমস্যাটি প্রায়শই ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনে আত্ম-তৃপ্তির অভাব থেকে জন্ম নেয়, যা ব্যক্তিকে বন্ধুর আপাত সাফল্যের সঙ্গে নিজের বাস্তবতাকে তুলনা করতে প্ররোচিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কম আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরীরা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ঈর্ষার প্রতি বেশি দুর্বলতা দেখায় এবং তারা একাকীত্ব বেশি অনুভব করে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ঈর্ষা প্রায়শই নিজের দুর্বলতা থেকে জন্ম নেয়; যারা নিজেদের যথেষ্ট মনে করে না, তারাই বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়।
এই ধরনের অনুভূতি মোকাবিলা করার জন্য, ব্যক্তিকে তার নিজস্ব আকাঙ্ক্ষাগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে, যেমন নতুন দক্ষতা অর্জন করা বা বন্ধুত্বের গণ্ডির বাইরে ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতা খুঁজে বের করা। পরামর্শে আত্ম-করুণা এবং এই সত্যটি উপলব্ধি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যে, প্রকৃত বন্ধুত্ব পারস্পরিক বিকাশে সহায়তা করে, ক্রমাগত তুলনার জন্ম দেয় না। যদি বন্ধুর সাফল্য ক্রমাগত এবং অসহনীয় যন্ত্রণা সৃষ্টি করে অথবা সম্পর্কটি নেতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করে, তবেই সম্পর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন যে, অন্যের সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়; বন্ধুর জয় আপনার পরাজয় নয়, বরং দুজনের জন্যই উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য, নিজের জীবনের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। যেমন, ছোট ছোট কাজ সম্পন্ন করা এবং নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ঈর্ষার জন্য সময় কম রাখে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেখানে মানুষ তাদের জীবনের কেবল সেরা অংশটি তুলে ধরে, তা এই তুলনামূলক মানসিকতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, তাই প্রয়োজনে এসব মাধ্যম থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়া যেতে পারে। প্রকৃত বন্ধুত্ব প্রতিযোগিতা নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, যেখানে বন্ধুর সাফল্যকে আন্তরিকভাবে উদযাপন করা উচিত, এমনকি তা কঠিন হলেও। যদি এই অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বন্ধুর সঙ্গে খোলামেলা ও সহানুভূতিশীল আলোচনা করা যেতে পারে, তবে অভিযোগের সুরে নয়, বরং ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে। পরিশেষে, নিজের ইতিবাচক দিকগুলোর ওপর মনোনিবেশ করা এবং বন্ধুত্বের বাইরেও ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতা খোঁজা এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Marie Claire
Marie Claire
vertexaisearch.cloud.google.com
YouTube
vertexaisearch.cloud.google.com
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



