শৈশবের প্রতিকূলতা ও সত্তরোর্ধ্বদের মানসিক স্থিতিস্থাপকতা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য মানসিক ও আবেগিক স্থিতিস্থাপকতা সৃষ্টি করতে পারে। তুলনামূলকভাবে কম আরাম-আয়েশ এবং কম আবেগিক স্বীকৃতি নিয়ে বেড়ে ওঠা প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রায়শই সফল বার্ধক্যের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী মোকাবিলা করার কৌশল আয়ত্ত করেন। তবে, স্বাস্থ্য ও অবসর অধ্যয়ন (Health and Retirement Study - HRS) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে শৈশবের প্রতিকূল অভিজ্ঞতা, যেমন শারীরিক নির্যাতন বা পিতামাতার মাদকাসক্তি, প্রবীণ বয়সে স্থিতিস্থাপকতার স্থিতিশীল গতিপথ বজায় রাখার সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলি মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, যদিও অভিযোজিত প্রতিক্রিয়াগুলি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা সৃষ্টি করে।
এই প্রজন্মের মধ্যে একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো আবেগিক স্বাধীনতা, যেখানে বয়স্ক ব্যক্তিরা বাহ্যিক সমর্থনের উপর নির্ভর না করে নিজেদের শান্ত করতে এবং অনুভূতি পরিচালনা করতে শিখেছেন। এই স্বাধীনতা চাপের মুখে শান্ত থাকার ক্ষমতা এবং সমালোচনার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আবেগিক সীমানা বজায় রাখার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, প্রবীণ ব্যক্তিরা সাধারণত তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় আবেগিক নিয়ন্ত্রণ ও সমস্যা সমাধানে বেশি স্থিতিস্থাপক হন, যদিও সামাজিক সমর্থনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে থাকে। শৈশবের পারিবারিক বা সামাজিক পরিবেশে ঘটে যাওয়া প্রতিকূলতা প্রবীণ বয়সে বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ালেও, অভিযোজন ক্ষমতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
শৈশবের অভাব বা কষ্টের অভিজ্ঞতা প্রায়শই একটি 'অভাবের মানসিকতা' (scarcity mindset) তৈরি করে, যা ব্যক্তিকে ক্রমাগত কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে এবং মানসিক সঞ্চয় হ্রাস করে, যার ফলে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। যদিও গুরুতর, অনিয়ন্ত্রিত ট্রমা ঝুঁকি তৈরি করে, তবুও প্রতিকূল প্রাথমিক পরিবেশের সাথে অভিযোজিত প্রতিক্রিয়াগুলি বহু বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা তৈরি করে। যারা শৈশবে অভাবের সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের মধ্যে শেখা আচরণ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে এই মানসিকতা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জীবনে 'শিথিলতা' বা বিরতির মুহূর্ত তৈরি করা প্রয়োজন, যা মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে ও পুনরায় সামঞ্জস্য করতে সহায়তা করে।
এই স্থিতিস্থাপকতা কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, এটি বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে। যে প্রবীণ ব্যক্তিরা অন্যদের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে তথ্যের উৎস ব্যবহার করেন, তারা তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপে অধিক স্বাধীনতা উপভোগ করেন, যা সামাজিক সমর্থনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অন্যদিকে, স্বাধীনতা হারানোর অনুভূতি প্রবীণদের মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মমর্যাদার অভাব সৃষ্টি করতে পারে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই, এই প্রজন্মের মধ্যে বিকশিত স্ব-নির্ভরতা এবং আবেগিক স্ব-নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাদের বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, যা আবেগ-কেন্দ্রিক মোকাবিলা কৌশলগুলির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মানব মন কীভাবে অভিযোজিত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক শক্তি অর্জন করতে পারে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
JawaPos.com
Global Research and Innovation Journal
GoLantang
Jawa Pos
Jawa Pos
UI Scholars Hub
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।