স্পেন থেকে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফ্রান্সে নিজের বাড়িতে ফিরল বিড়াল ফিলু: পাঁচ মাস পর এক অবিশ্বাস্য পুনর্মিলন

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

ফ্রান্সের এক দম্পতি, প্যাট্রিক এবং এভলিন সির, তাদের প্রিয় বিড়াল ফিলুর সাথে পুনরায় মিলিত হয়েছেন। এই সাহসী বিড়ালটি স্পেন থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সে তার নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ঘটা এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি প্রাণীদের তাদের বাসস্থানের প্রতি গভীর মমত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সাথে, এটি পোষা প্রাণীদের দিকনির্ণয় ক্ষমতা নিয়ে প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফিলুর এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল একটি প্রাণীর বেঁচে থাকার লড়াই নয়, বরং এটি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফিলুর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে। সেই সময় প্যাট্রিক এবং এভলিন সির স্পেন থেকে তাদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে ফ্রান্সে ফিরছিলেন। ধারণা করা হয়, স্পেনের জিরোনা শহরের কাছে একটি হাইওয়ে সার্ভিস স্টেশনে গাড়ি থামানোর সময় ফিলু অত্যন্ত চতুরতার সাথে গাড়ির আধখোলা জানালা দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মালিকরা তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তারা স্থানীয় প্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্প্যানিশ সিভিল গার্ডের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন। এমনকি তারা ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য লিফলেট বিলি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাহায্যের আবেদন জানান। কিন্তু টানা চার মাস ধরে কোনো ইতিবাচক খবর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ফিলুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই গল্পে এক অপ্রত্যাশিত এবং নাটকীয় মোড় আসে। সির দম্পতির বাড়ির খুব কাছেই ওলোনজাক নামক একটি ফরাসি জনপদে এক মহিলা একটি অত্যন্ত দুর্বল এবং ক্ষুধার্ত বিড়ালকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন। পাশের গ্রাম হোমপসের বাসিন্দা হেলেন টিসেইর জানান যে, তিনি ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই বিড়ালটিকে তার বাড়ির আঙিনায় ঘোরাঘুরি করতে দেখছিলেন এবং মায়ার বশবর্তী হয়ে তাকে নিয়মিত খাবার দিচ্ছিলেন। বিড়ালটির জীর্ণ শারীরিক অবস্থা এবং ক্রমাগত কাশি দেখে হেলেন বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি দেরি না করে বিড়ালটিকে স্থানীয় এক পশু চিকিৎসকের ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে বিড়ালটির শরীরে থাকা মাইক্রোচিপটি স্ক্যান করার পর তার প্রকৃত পরিচয় এবং মালিকের তথ্য বেরিয়ে আসে। এর মাধ্যমেই প্যাট্রিক এবং এভলিন সিরের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে ফিলু তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। এই পুনর্মিলন কেবল একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং এটি ফিলুর অদম্য সাহসিকতার এক বড় স্বীকৃতি।

পোষা প্রাণীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে বাড়িতে ফেরার এই ঘটনাটি বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, বিড়ালের সহজাত দিকনির্ণয় ক্ষমতা থাকলেও একটি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া একটি অত্যন্ত বিরল এবং বিস্ময়কর ঘটনা। গবেষকরা তত্ত্ব প্রদান করেছেন যে, বিড়ালরা তাদের যাত্রাপথে বিভিন্ন ঘ্রাণচিহ্ন এবং সম্ভবত পৃথিবীর ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে কাজে লাগিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ কম্পাস তৈরি করে। এই প্রাকৃতিক নেভিগেশন সিস্টেম তাদের হাজারো বাধার মাঝেও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফিলুর এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের কাহিনী প্রাণীদের টিকে থাকার লড়াই, তাদের প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের তৈরি ঘরের প্রতি তাদের গভীর টানের এক অসামান্য উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Euro Weekly News Spain

  • Lost Cat Somehow Finds Its Way Back Home Five Months and 250 Kilometers Later

  • Click Oil and Gas

  • VOX News

  • SAYS

  • Euro Weekly News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।