পিডব্লিউসি-র উদ্যোগে ডেনমার্কের স্কুলগুলোতে আর্থিক সাক্ষরতার প্রসার: 'ভবিষ্যতের জন্য একসাথে' কর্মসূচী
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
পিডব্লিউসি (PwC) কর্পোরেশন ২০২৫ সাল জুড়ে ডেনমার্কের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যবহারিক দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই উদ্যোগটি তাদের জাতীয় স্তরের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচী 'পারপাস ডে – সামেন ওম ফ্রেমিডেন' (Purpose Day – Sammen om fremtiden), যার বাংলা অর্থ 'ভবিষ্যতের জন্য একসাথে', এর অংশ। এই কর্মসূচীর মূল ভিত্তি হলো 'উং প্রাইভেটওকোনোমি' (Ung privatøkonomi) বা 'তরুণ ব্যক্তিগত অর্থনীতি' নামক একটি শিক্ষামূলক প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাজেট তৈরি, সঞ্চয় এবং ঋণ গ্রহণের মতো ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
এই বিশেষ শিক্ষণ পদ্ধতির লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযোগী করে তোলা, যা সমাজের জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ। কোপেনহেগেন অঞ্চলের হেল্লেরুপ, আরহুস এবং এসবিয়েরগে অফিস সহ পিডব্লিউসি সারা দেশ জুড়ে আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য সুসংগঠিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 'উং প্রাইভেটওকোনোমি' প্রকল্পটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই আর্থিক সমস্যায় না পড়ে। এর জন্য তাদের এমন ব্যবহারিক কাজ দেওয়া হয়, যেখানে তাদের সুদের হিসাব করা এবং বাজেট পরিকল্পনা তৈরি করা শেখানো হয়।
এই কর্মসূচীর অধীনে বেশ কিছু বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কার্যক্রম ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিডব্লিউসি কর্মীরা ২০২৫ সালের অক্টোবরে গানলোসের আডাল স্কুলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪শে নভেম্বর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য একদিনের কর্মশালার আয়োজন করে। আডাল স্কুলের শিক্ষিকা, ইউলি কোলবার্গ এলার্স, এই প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক মূল্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণদের সঞ্চয় এবং দ্রুত ঋণ গ্রহণের মধ্যেকার পার্থক্য বোঝানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুরূপভাবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরহুসে এবং ২০২৫ সালের মে মাসে এসবিয়েরগে এই ধরনের শিক্ষামূলক ভ্রমণ আয়োজন করা হয়েছিল।
হেল্লেরুপের পিডব্লিউসি পার্টনার ফ্লেমিং এগহফ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে এই প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে। পিডব্লিউসি-র মূল লক্ষ্য হলো সমাজে আস্থা তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির সমাধান করা। এই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে, তারা ডেনমার্কের সকল স্কুলকে বিনামূল্যে শিক্ষামূলক উপকরণ সরবরাহ করতে বদ্ধপরিকর। 'পারপাস ডে – সামেন ওম ফ্রেমিডেন' উদ্যোগের অধীনে, প্রতিটি কর্মী বছরে একদিন স্বেচ্ছাসেবী কাজে ব্যয় করতে পারেন, এবং এই বছর তাদের মনোযোগ শিশুদের ও তরুণদের জন্য উন্নত পরিবেশ তৈরির দিকে নিবদ্ধ।
এই বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, পিডব্লিউসি বেশ কিছু জাতীয় এনজিও-র সাথে সহযোগিতা করছে। তাদের সম্মিলিত লক্ষ্য হলো তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যার মধ্যে স্ব-সংগঠন এবং ডিজিটাল দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত, তার জন্য মোট ১৫,০০০ ঘণ্টার বেশি সহায়তা প্রদান করা। 'উং প্রাইভেটওকোনোমি' প্রকল্পটি কেবল একদিনের নিবিড় প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; এতে তিন সপ্তাহের শিক্ষণ চক্রও রয়েছে। এই চক্রের শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষভাবে তৈরি খেলা ব্যবহার করে সুদ, পরিসংখ্যান, সঞ্চয় এবং ব্যক্তিগত নেতৃত্বের জ্ঞানকে মজবুত করে। এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয় যখন জানা যায় যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় ৩৫,০০০ ডেনিশ নাগরিকের ক্রেডিট রিপোর্টে নেতিবাচক মন্তব্য ছিল, যা এই ধরনের আর্থিক শিক্ষার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।
উৎসসমূহ
via.ritzau.dk
PwC
PwC
PwC
PwC
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
